AI নিয়েও নাকি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বাবা ভাঙ্গা! বলেছিলেন, গণ ছাঁটাইয়ের কথাও? ২০২৬ সাল নিয়ে বলা কথা কি সব মিলে যাচ্ছে
চলতি সময়ে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI বহু কিছুর চালিকা শক্তি হয়ে উঠবে, এ কথা নাকি অনেক আগেই বলেছিলেন বুলগেরিয়ার ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নারী বাবা ভাঙ্গা। আরও যা যা বলেছিলেন, শুনলে চমকে উঠবেন।
বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তি খাতে গণছাঁটাই বা 'টেক লে-অফ' (Tech Layoffs) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অভাবনীয় উত্থানের মাঝে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন বুলগেরিয়ার সেই প্রখ্যাত ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা (Baba Vanga)। ২০২৬ সালকে নিয়ে তাঁর করা কিছু ভবিষ্যৎবাণী এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিল সবলে মনে করেছেন অনেকে।

বুলগেরিয়ার রহস্যময়ী ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা, যিনি 'বলকানের নস্ট্রাডামাস' নামেও পরিচিত, তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পরেও আজও প্রাসঙ্গিক। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে বড় বড় টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোতে যে হারে কর্মী ছাঁটাই চলছে, তার সাথে বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সালের কিছু সংকেত মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। মজার বিষয় হলো, আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে গবেষকরা যখন বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যৎবাণীগুলোর গভীরে প্রবেশ করছেন, তখন বেরিয়ে আসছে এক অস্থির সময়ের ছবি।
২০২৬ নিয়ে বাবা ভাঙ্গার সেই সংকেত
বাবা ভাঙ্গা ২০২৬ সালকে একটি 'পরিবর্তনের বছর' হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। যদিও তাঁর মূল কথাগুলো অনেক সময় রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে বর্তমান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, তিনি এমন এক সময়ের কথা বলেছিলেন যখন ‘মানুষের তৈরি যন্ত্র মানুষের জায়গা নিতে শুরু করবে।’ এটি কি তাহলে সেই AI সম্পর্কেই বলা? প্রশ্ন উঠেছে অনেক মহলেই। বর্তমানের চ্যাটবট, অটোমেশন এবং হিউম্যানয়েড রোবটগুলোর উত্থান কি তবে সেই ভবিষ্যদ্বাণীরই প্রতিফলন?
টেক লে-অফ এবং AI-এর যোগসূত্র
২০২৪ এবং ২০২৫ সাল জুড়ে সিলিকন ভ্যালিতে লক্ষ লক্ষ কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। ২০২৬-এর শুরুতে এই প্রবণতা কমার কোনো লক্ষণ নেই। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কোম্পানিগুলো মানুষের বদলে AI-তে বেশি বিনিয়োগ করছে। ভাইরাল হওয়া প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, বাবা ভাঙ্গা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ২০২৬ সালে বিশ্বের অর্থনীতিতে এক বড় ধরনের ওলটপালট হবে। প্রযুক্তিবিদরা এখন ভয় পাচ্ছেন যে, কর্মসংস্থানের এই সংকট কি তবে বাবা ভাঙ্গার সেই প্রাচীন সতর্কবার্তারই আধুনিক রূপ?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কী বলছে?
বর্তমানে বিভিন্ন উন্নত AI মডেল ব্যবহার করে বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যৎবাণীগুলো ডিকোড করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অদ্ভুতভাবে, সেই AI-চালিত ভবিষ্যদ্বাণী বলছে যে, ২০২৬ সালের শেষের দিকে 'সাইবার-নির্ভরতা' এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং চাকরির নিরাপত্তা উভয়ই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তবে এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং ডেটা অ্যানালাইসিস এবং প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এক ডিজিটাল সতর্কবার্তা।
বাবা ভাঙ্গার অন্যান্য সফল ভবিষ্যদ্বাণী
প্রসঙ্গক্রমে উঠে আসছে নাইন-ইলেভেনের হামলা, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু এবং ওবামার প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো ঘটনাগুলো, যা বাবা ভাঙ্গা বহু আগেই বলেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬-এর এই 'ডিজিটাল বিপ্লব' বা 'প্রযুক্তিগত বিপর্যয়'-এর তত্ত্বকে নেটিজেনরা খুব গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন।
ভয় নাকি সচেতনতা?
জ্যোতিষশাস্ত্র বা ভবিষ্যৎবাণী যাই বলুক না কেন, ২০২৬ সাল যে প্রযুক্তির ইতিহাসে এক মাইলফলক হতে চলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কর্মসংস্থানের বাজারে টিকে থাকতে হলে কেবল গতানুগতিক শিক্ষা নয়, বরং AI-এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে দক্ষ করে তোলাই এখন সময়ের দাবি। বাবা ভাঙ্গার কথা যদি সত্যি হয়, তবে ২০২৬ হতে পারে এক নতুন পৃথিবীর সূচনালগ্ন—যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা আর যন্ত্রের দক্ষতা একাকার হয়ে যাবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


