মা বগলামুখীর পুজো সকলে করতে পারেন না! নিয়মগুলি না জানলেই হতে পারে বিপদ
বর্তমান সময়ে জীবন ও জীবিকার লড়াইয়ে জয়ী হতে অনেকেই মা বগলামুখীর শরণাপন্ন হন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—যিনি ঘোর তান্ত্রিক আচারের দেবী, তাঁকে কি সাধারণ গৃহস্থের বাড়িতে পুজো করা উচিত? এতে কি বিপদের আশঙ্কা থাকে? আগে থেকে জেনে নিন সব কিছু।
দশমহাবিদ্যার অষ্টম রূপ হলেন দেবী বগলামুখী। তাঁকে 'পীতাম্বরা' বা 'শত্রু বিনাশিনী' বলা হয়। তান্ত্রিক সাধনার জগতে তিনি অজেয় শক্তির আধার। বর্তমান সময়ে জীবন ও জীবিকার লড়াইয়ে জয়ী হতে অনেকেই মা বগলামুখীর শরণাপন্ন হন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—যিনি ঘোর তান্ত্রিক আচারের দেবী, তাঁকে কি সাধারণ গৃহস্থের বাড়িতে পুজো করা উচিত? এতে কি বিপদের আশঙ্কা থাকে?

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র ও শাস্ত্রীয় বিধি অনুযায়ী পুজোর নিয়মগুলি আগে ভালো করে জেনে নিন।
দেবী বগলামুখী: শক্তির স্বরূপ
মা বগলামুখী বাক্-রোধকারী দেবী। তাঁর প্রধান কাজ হলো শত্রুর বুদ্ধি ও জিহ্বা স্তম্ভিত করে দেওয়া। তিনি মূলত হলুদ রঙের দেবী—তাঁর গায়ের রং হলুদ, তাঁর প্রিয় পোশাক এবং ফুলও হলুদ। এই কারণেই তাঁর পুজোর সব উপচারই হয় হলুদ বর্ণের।
বাড়িতে কি বগলামুখীর পুজো করা যায়?
শাস্ত্রজ্ঞ ও জ্যোতিষীদের মতে, মা বগলামুখীর আরাধনা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এর ফল যেমন দ্রুত মেলে, তেমনই ভুল হলে তার প্রতিক্রিয়াও হয় মারাত্মক। তাই বাড়িতে পুজোর ক্ষেত্রে কিছু কঠোর শর্ত প্রযোজ্য:
১. তান্ত্রিক বনাম সাত্ত্বিক পুজো: বাড়িতে কখনোই দেবীর তান্ত্রিক মূর্তি বা উগ্র রূপের আরাধনা করা উচিত নয়। যদি একান্তই পুজো করতে হয়, তবে দেবীর ফটো বা ছবির সামনে সাত্ত্বিক মতে পুজো করতে হবে। তন্ত্রোক্ত বিধি মেনে কোনো যন্ত্র (Yantra) বা মূর্তিতে পুজো করার জন্য বিশেষ সিদ্ধির প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে কঠিন।
২. শৌচ এবং নিয়ম পালন: দেবী বগলামুখী অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ আরাধনা পছন্দ করেন। তাঁর পুজোয় বিন্দুমাত্র ভুল হলে বা অনিয়ম হলে লাভের বদলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ব্রহ্মচর্য পালন, আহারে শুদ্ধতা এবং মানসিক একাগ্রতা না থাকলে বাড়িতে এই পুজো না করাই ভালো।
লাভের বদলে কি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে?
জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়, বগলামুখী হলেন 'স্তম্ভন' শক্তির দেবী। যদি কেউ ভুল উচ্চারণ বা ভুল মনস্কামনা নিয়ে তাঁর পুজো করেন, তবে সেই নেতিবাচক শক্তি উল্টে সাধকের ওপর বা তাঁর গৃহস্থের ওপর ফিরে আসতে পারে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় 'রিবাউন্ড এফেক্ট' বলা হয়।
- বিপরীত ফল: শত্রু দমনের বদলে পরিবারের মধ্যে কলহ বাড়তে পারে।
- মানসিক অস্থিরতা: নিয়ম ভুল হলে বাড়িতে এক ধরণের ভারি এবং নেতিবাচক শক্তির সঞ্চার হতে পারে, যা অবসাদ ডেকে আনে।
জ্যোতিষশাস্ত্রের পরামর্শ: কী করবেন?
আপনি যদি মা বগলামুখীর আশীর্বাদ পেতে চান, তবে বাড়িতে সরাসরি বড় পুজো না করে নিচের সাধারণ উপায়গুলো অবলম্বন করতে পারেন:
- মন্ত্র জপ: বাড়িতে কোনো বিগ্রহ না রেখে কেবল দেবীর মন্ত্র (যথা: ওঁ হ্লীং বগলামুখ্যৈ নমঃ) ভক্তিভরে জপ করা যেতে পারে।
- হলুদ বস্ত্র দান: বৃহস্পতিবার কোনো মন্দিরে হলুদ পোশাক বা ডাল দান করলে দেবীর কৃপা পাওয়া যায়।
- বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: কোনো সিদ্ধ গুরু বা অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো দেবীর 'অনুষ্ঠান' বা 'পুরশ্চরণ' বাড়িতে করবেন না।
শেষ কথা
মা বগলামুখী জগতের রক্ষাকর্ত্রী, তিনি কোনো সন্তানের অনিষ্ট করেন না। তবে তাঁর শক্তি অত্যন্ত প্রখর। তাই গৃহস্থের উচিত ভক্তি বজায় রাখা কিন্তু আড়ম্বর বা উগ্র সাধনা থেকে দূরে থাকা। সাধারণ গৃহস্থের জন্য দেবী লক্ষ্মী বা দুর্গার শান্ত রূপের আরাধনাই বেশি মঙ্গলদায়ক।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


