এ হল ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের এক অমূল্য সম্পদ! নবগ্রহ কবচ যে আপনার কত উপকার করতে পারে, ভাবতেও পারবেন না
গ্রহগুলোর কোনো একটি বা একাধিক গ্রহ অশুভ অবস্থানে থাকে, তখন জীবনে নেমে আসে অশান্তি ও বাধা। এই গ্রহদোষ খণ্ডন করে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে নবগ্রহ কবচ।
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের এক অমূল্য সম্পদ হলো 'নবগ্রহ কবচ'। আমাদের জীবন ও ভাগ্য পরিচালিত হয় মূলত নয়টি গ্রহ—সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু এবং কেতুর প্রভাবে। যখন এই গ্রহগুলোর কোনো একটি বা একাধিক গ্রহ অশুভ অবস্থানে থাকে, তখন জীবনে নেমে আসে অশান্তি ও বাধা। এই গ্রহদোষ খণ্ডন করে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে নবগ্রহ কবচ।

নবগ্রহ কবচের মাহাত্ম্য এবং এর উপকারিতা জেনে নিন।
নবগ্রহ কবচ আসলে কী?
'নবগ্রহ কবচ' হলো একটি পবিত্র রক্ষাকবচ, যা নয়টি গ্রহের শক্তিকে সংহত করে তৈরি করা হয়। এটি সাধারণত একটি বিশেষ যন্ত্র (Yantra) বা নয়টি গ্রহের প্রতিনিধিত্বকারী রত্ন (যেমন—মানিক্য, মুক্তো, প্রবাল, পান্না, পোখরাজ, হিরে, নীলা, গোমেদ এবং বৈদুর্য) দিয়ে তৈরি একটি লকেট। শাস্ত্রীয় বিধি মেনে নির্দিষ্ট মন্ত্রের মাধ্যমে এই কবচকে 'প্রাণপ্রতিষ্ঠা' বা সিদ্ধ করা হয়, যাতে এটি ধারণকারীর শরীরে ইতিবাচক শক্তির বিচ্ছুরণ ঘটাতে পারে।
নবগ্রহ কবচ ধারণের অবিশ্বাস্য উপকারিতা
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই কবচ ধারণ করলে বহুমুখী সুফল পাওয়া যায়:
১. গ্রহদোষ খণ্ডন
অনেকের জন্মকুণ্ডলীতে 'কালসর্প দোষ', 'মাঙ্গলিক দোষ' বা শনির 'সাড়ে সাতি' থাকে। নবগ্রহ কবচ এই সব অশুভ যোগের প্রভাব কমিয়ে জীবনে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে।
২. মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস
গ্রহের অশুভ প্রভাবে অনেক সময় মন অস্থির থাকে এবং আত্মবিশ্বাস কমে যায়। এই কবচ ধারণ করলে মানসিক অবসাদ দূর হয় এবং মনের জোর বৃদ্ধি পায়, যা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
৩. আর্থিক সমৃদ্ধি ও কর্মে উন্নতি
ব্যবসায় বার বার লোকসান বা চাকরিতে পদোন্নতি আটকে থাকার মতো সমস্যায় নবগ্রহ কবচ অত্যন্ত কার্যকরী। এটি ভাগ্যের বাধা দূর করে ধনাগমনের পথ প্রশস্ত করে।
৪. সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু
জ্যোতিষ মতে, প্রতিটি গ্রহ শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করে। নবগ্রহ কবচ শরীরের সাতটি চক্রকে জাগ্রত রাখে এবং দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে জাতককে রক্ষা করে।
৫. নেতিবাচক শক্তি থেকে সুরক্ষা
কু-দৃষ্টি (Evil Eye), শত্রুতা এবং চারপাশের নেতিবাচক শক্তি থেকে এই কবচ একটি অভেদ্য ঢাল হিসেবে কাজ করে।
জ্যোতিষশাস্ত্র কী বলছে?
- ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়েছে, "গ্রহাধীনাং জগৎ সর্বং"—অর্থাৎ গোটা জগত গ্রহের অধীন। তবে নবগ্রহ কবচ ধারণ করার আগে কিছু নিয়ম পালন করা আবশ্যক:
- শোধন ও সিদ্ধি: বাজার থেকে কিনে সরাসরি কবচ ধারণ করলে কোনো ফল পাওয়া যায় না। এটি অভিজ্ঞ জ্যোতিষী দ্বারা শোধন করিয়ে নেওয়া জরুরি।
- শুভ মুহূর্ত: সাধারণত শুক্লপক্ষের কোনো শুভ দিন বা রবি পুষ্প নক্ষত্র যোগে এই কবচ ধারণ করা সবথেকে বেশি ফলদায়ক।
- শুদ্ধি বজায় রাখা: কবচ ধারণ করার পর মিথ্যে কথা বলা বা অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকলে এর শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
নবগ্রহ কবচ কেবল একটি অলঙ্কার নয়, এটি মহাজাগতিক শক্তির আধার। আপনি যদি জীবনের কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যান, তবে শাস্ত্রীয় বিধান মেনে এই কবচ ধারণ করে ভাগ্যের চাকা নিজের অনুকূলে নিয়ে আসতে পারেন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


