জন্মের আগেই নাকি পিতাকে দেখা দিয়েছিলেন ঠাকুর! শ্রীরামকৃষ্ণের সেই ঘটনাটা জানেন কি
কামারপুকুর গ্রামের পরম নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় পিতৃপুরুষের পিণ্ডদানের উদ্দেশ্যে পবিত্র তীর্থ গয়া ধামে গমন করেন। গয়াধামে গিয়ে তিনি যখন ভগবান গদাধরের (বিষ্ণুর এক রূপ) পাদপদ্মে পূজা নিবেদন করে বিশ্রামে মগ্ন ছিলেন, তখনই এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে।
শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবন কেবল অলৌকিকতায় ঘেরা নয়, বরং তা আধ্যাত্মিকতার এক জীবন্ত মহাকাব্য। তাঁর জন্ম কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না; কথিত আছে, স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু মর্ত্যে আসার আগে তাঁর পিতা ও মাতাকে অলৌকিক ইঙ্গিতের মাধ্যমে নিজের আগমনবার্তা জানিয়েছিলেন। গয়ার সেই দৈব স্বপ্ন এবং পরবর্তী ঘটনাবলি আজও কোটি কোটি ভক্তের মনে ভক্তির রস সঞ্চার করে।

১৮৩৫ সালের কথা। কামারপুকুর গ্রামের পরম নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় পিতৃপুরুষের পিণ্ডদানের উদ্দেশ্যে পবিত্র তীর্থ গয়া ধামে গমন করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাত্ত্বিক এবং সত্যনিষ্ঠ পুরুষ। গয়াধামে গিয়ে তিনি যখন ভগবান গদাধরের (বিষ্ণুর এক রূপ) পাদপদ্মে পূজা নিবেদন করে বিশ্রামে মগ্ন ছিলেন, তখনই এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে।
গয়ার সেই অলৌকিক স্বপ্ন
ক্ষুদিরাম ঘুমের মধ্যে এক দিব্য জ্যোতি দেখতে পান। তিনি দেখেন, ভগবান গদাধর তাঁর সামনে আবির্ভূত হয়েছেন এবং অত্যন্ত মধুর স্বরে তাঁকে বলছেন, "ক্ষুদিরাম, তোমার ভক্তিতে আমি পরম সন্তুষ্ট। আমি তোমার পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করে তোমার গৃহে অবতীর্ণ হব।"
ক্ষুদিরাম এই স্বপ্নের গুরুত্ব বুঝতে পেরে ব্যাকুল হয়ে পড়েন। তিনি নিজেকে অত্যন্ত অধম মনে করে বলেন, "প্রভু, আমি অতি দরিদ্র ব্রাহ্মণ, আমি কীভাবে আপনার মতো জগতপিতার সেবা করব?" ভগবান গদাধর তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, তিনি যা দেবেন তাতেই তিনি তুষ্ট থাকবেন। এই দৈব বাণীর পর ক্ষুদিরামের হৃদয় এক অপার্থিব আনন্দে পূর্ণ হয়ে ওঠে।
কামারপুকুরে চন্দ্রমণির দর্শন
অন্যদিকে, কামারপুকুর গ্রামে শ্রীরামকৃষ্ণের মাতা চন্দ্রমণি দেবীও এক অলৌকিক অনুভূতির সাক্ষী হচ্ছিলেন। ক্ষুদিরাম যখন গয়া থেকে ফিরলেন, তখন চন্দ্রমণি তাঁকে এক অদ্ভুত ঘটনার কথা জানান। তিনি বলেন, গ্রামের যুগী শিব মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন একটি দিব্য আলোকবর্তিকা মন্দির থেকে নির্গত হয়ে তাঁর গর্ভে প্রবেশ করেছে। সেই মুহূর্ত থেকেই তিনি অনুভব করছিলেন যে, তাঁর জঠরে কোনো সাধারণ সন্তান নেই, বরং এক দৈব সত্তা বিরাজ করছে।
ক্ষুদিরাম তখন গয়ার স্বপ্নের কথা চন্দ্রমণিকে জানান। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই বুঝতে পারেন যে, এক মহাজাগতিক শক্তির আগমনের জন্য তাঁদের গৃহ নির্বাচিত হয়েছে।
গদাধরের জন্ম এবং নামকরণ
অবশেষে ১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি (বাংলা ১২৪২ সালের ৬ই ফাল্গুন), শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে কামারপুকুরের এক পর্ণকুটিরে ভূমিষ্ঠ হলেন সেই দিব্য শিশু। গয়াধামের সেই স্মৃতিরক্ষার্থে ক্ষুদিরাম তাঁর কনিষ্ঠ পুত্রের নাম রাখলেন 'গদাধর'। এই গদাধরই পরবর্তীতে বিশ্বখ্যাত সাধক শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস হিসেবে পরিচিত হন।
কথিত আছে, জন্মের মুহূর্তেই ধাত্রী দেখতে পেয়েছিলেন যে শিশুটি সাধারণ শিশুদের মতো ক্রন্দন করছে না, বরং এক অপূর্ব জ্যোতিতে সারা ঘর আলোকিত হয়ে আছে। শৈশব থেকেই গদাধরের মধ্যে ঈশ্বর অনুরাগের লক্ষণ দেখা যেত। সাধারণ পাঠশালায় মন না বসলেও পুরাণ পাঠ, কীর্তন এবং দেবদেবীর মূর্তিনির্মাণে তাঁর ছিল অসামান্য দক্ষতা।
গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা
শ্রীরামকৃষ্ণের এই জন্মবৃত্তান্ত আমাদের শেখায় যে, শুদ্ধ ভক্তি ও সত্যনিষ্ঠা থাকলে স্বয়ং ঈশ্বর ভক্তের আঙিনায় নেমে আসেন। ক্ষুদিরাম ও চন্দ্রমণির সারল্যই ছিল তাঁদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যার ফলস্বরূপ তাঁরা জগতগুরুকে পুত্ররূপে লাভ করেছিলেন। গদাধরের এই মর্ত্যে আগমন ছিল মূলত সর্বধর্ম সমন্বয়ের বাণী প্রচার এবং আধুনিক যুগে ভক্তিপথকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


