কবে পড়ছে আষাঢ়ের দেবশয়ন একাদশীর পুণ্য তিথি? জানুন শুভ মুহূর্ত, পূজাবিধি ও শ্রী হরি বিষ্ণুর কৃপা পাওয়ার উপায়
Devshayani Ekadashi 2026 date and time: ধর্মীয় মতে, দেবশয়ন একাদশীর দিন নিষ্ঠা ভরে উপবাস পালন ও ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে মানুষের মনের সমস্ত সুপ্ত বাসনা পূর্ণ হয় এবং জ্ঞাত-অজ্ঞাত পাপ থেকে মুক্তি মেলে।
Devshayani Ekadashi 2026 date and time: সনাতন ধর্মের দীর্ঘ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও পঞ্জিকা মতে, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিটি অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিশেষ দিনটি ‘দেবশয়নী একাদশী’ (Devshayani Ekadashi) নামে খ্যাত। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, এই দিন থেকেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রক্ষাকর্তা পরম পুরুষ ভগবান শ্রী হরি বিষ্ণু ক্ষীরসাগরে চার মাসের দীর্ঘ যোগনিদ্রায় গমনাগমন করেন।

দেবশয়ন একাদশী থেকেই শুভ ও পবিত্র ‘চতুর্মাস’ (Chaturmas) পর্বের সূচনা ঘটে। এই চার মাস ঈশ্বর নিদ্রিত থাকেন বলে বিবাহ, অন্নপ্রাশন, গৃহপ্রবেশের মতো যাবতীয় মাঙ্গলিক কাজ স্থগিত রাখা হয়। ২০২৬ সালের এই বিশেষ উপবাসের পুণ্য তিথি, শুভ মুহূর্ত, পারণ সময় এবং দেবশয়ন একাদশীর মহা মাহাত্ম্য জেনে নিন।
ধর্মীয় মতে, দেবশয়ন একাদশীর দিন নিষ্ঠা ভরে উপবাস পালন ও ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে মানুষের মনের সমস্ত সুপ্ত বাসনা পূর্ণ হয় এবং জ্ঞাত-অজ্ঞাত পাপ থেকে মুক্তি মেলে।
দেবশয়ন একাদশী ও শুভ মুহূর্ত
প্রতিবেদন সূত্রের তথ্যানুসারে, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের এই একাদশী তিথির একটি নির্দিষ্ট ও শুভ সময়সীমা রয়েছে:
- একাদশী তিথি ও উদয়া তিথি: ধর্মীয় তিথির সঠিক গণনা অনুযায়ী সূর্যোদয়ের সময় বা উদয়া তিথি মেনেই একাদশীর ব্রত রাখা হয়।
- ব্রত পারণের সময়: একাদশীর পরের দিন অর্থাৎ দ্বাদশী তিথিতে সঠিক সময় মেনে পারণ করা অত্যন্ত আবশ্যক, অন্যথায় ব্রতের পূর্ণ ফল লাভ হয় না।
ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ পূজাবিধি
দেবশয়ন একাদশীর দিন প্রথাগত নিয়ম মেনে অত্যন্ত ভক্তিভরে পূজা সম্পন্ন করা উচিত:
১. স্নান ও পরিষ্কার বস্ত্র: একাদশীর দিন সকালে ব্রাহ্ম মুহূর্তে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে হলুদ বা শুভ্র পরিষ্কার পোশাক পরিধান করুন।
২. বিষ্ণু পূজা ও তুলসী নিবেদন: ভগবান বিষ্ণু ও মাতা লক্ষ্মীর মূর্তি বা ফটোর সামনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করুন। শ্রী হরিকে হলুদ ফুল, হলুদ ফল, পঞ্চামৃত ও হলুদ মিষ্টি নিবেদন করুন। মনে রাখবেন, বিষ্ণু পূজায় তুলসী পাতা নিবেদন করা বাধ্যতামূলক।
৩. বিষ্ণু সহস্রনাম ও ব্রতকথা পাঠ: এই শুভ দিনে ভগবান বিষ্ণুর মন্ত্র জপ, বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ এবং দেবশয়ন একাদশীর পৌরাণিক ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ করা অত্যন্ত শুভ ফলদায়ক।
কেন পালিত হয় চাতুর্মাস?
পৌরাণিক কাহিনী মতে, অসুররাজ বলির চরম ভক্তি ও দানে প্রসন্ন হয়ে ভগবান শ্রী হরি তাঁকে পাতাল পুরীর রাজ্য প্রদান করেন এবং নিজেও সেখানে অবস্থান করার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে মাতা লক্ষ্মী রাজ বলির কাছ থেকে শ্রী হরিকে ফিরিয়ে আনলেও, ভক্তের মন রাখতে ভগবান বিষ্ণু কথা দেন যে আষাঢ় মাসের দেবশয়ন একাদশী থেকে কার্তিক মাসের দেবউত্থান একাদশী পর্যন্ত চার মাস তিনি পাতাল পুরীতে যোগনিদ্রায় মগ্ন থাকবেন। এই চার মাসের সময়কালকেই চাতুর্মাস বলা হয়, যা জপ, তপ, ধ্যান ও আত্মশুদ্ধির জন্য সেরা সময়।
দেবশয়ন একাদশী কেবল একটি সনাতনী আচার নয়, এটি নিজেকে সংযমী করার ও ঈশ্বরারাধনায় মগ্ন হওয়ার এক পবিত্র সুযোগ। ভক্তিমনে ভগবান বিষ্ণুর কৃপা প্রার্থনা করলে সংসারের সব সংকট কেটে যায় এবং পারিবারিক জীবনে সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পায়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


