ধনতেরাস বা ধনত্রয়োদশীর দিনে মা লক্ষ্মী ও ধনদেবতা কুবের পূজিত হন প্রতি ঘরে ঘরে। কিন্তু এই দিন ভগবান ধন্বন্তরীকেও পুজো করা হয়ে থাকে। এর নেপথ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ। পুরাণ ও শাস্ত্র অনুসারে ধন্বন্তরী হলেন দেবতাদের চিকিৎসক। তাঁকে ধনত্রয়োদশীর দিন পুজো করার নেপথ্যে একদিকে যেমন রয়েছে সমুদ্র মন্থনের ব্যাখ্যা, তেমনই রয়েছে স্বাস্থ্যের ব্যাখ্যা।
সমুদ্র মন্থন থেকে আবির্ভাব

শাস্ত্র মতে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে অর্থাৎ ধনতেরাসের দিনেই সমুদ্র মন্থনের সময় ভগবান ধন্বন্তরী আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি হাতে অমৃতের কলস নিয়ে উঠে এসেছিলেন। এই ঘটনাই দিনটিকে অত্যন্ত শুভ ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
স্বাস্থ্যের দেবতা ও আয়ুর্বেদের জনক
ধন্বন্তরী হলেন দেবতাগণের চিকিৎসক বা বৈদ্য এবং তিনি আয়ুর্বেদ (Ayurveda) বা ভেষজ চিকিৎসার জ্ঞানের স্রষ্টা। তিনি মানবজাতির কল্যাণের জন্য এই জ্ঞান বিতরণ করেছিলেন।
আরও পড়ুন - ধনত্রয়োদশী তিথি কবে কখন শুরু, পুজো ও কেনাকাটার শুভক্ষণ কখন? জানুন পঞ্জিকামত
আরও পড়ুন - শনিবারই ধনতেরাস, সাড়েসাতি বা ধাইয়ার প্রভাব কাটাতে করুন এই প্রতিকার
স্বাস্থ্যই আসল ধন
'ধনতেরাস'-এ 'ধন' বলতে শুধু সম্পদ বোঝায় না, সুস্বাস্থ্য-কেও বোঝায়। শাস্ত্র অনুযায়ী, স্বাস্থ্যই হলো মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। ধন্বন্তরী হলেন সুস্বাস্থ্যের প্রতীক। তাই তাঁর পুজো করলে রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। সম্পদ লাভের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য কামনার জন্যই এই দিনে তাঁর পুজো করা হয়।
বিষ্ণুর অংশাবতার
{{/usCountry}}'ধনতেরাস'-এ 'ধন' বলতে শুধু সম্পদ বোঝায় না, সুস্বাস্থ্য-কেও বোঝায়। শাস্ত্র অনুযায়ী, স্বাস্থ্যই হলো মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। ধন্বন্তরী হলেন সুস্বাস্থ্যের প্রতীক। তাই তাঁর পুজো করলে রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। সম্পদ লাভের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য কামনার জন্যই এই দিনে তাঁর পুজো করা হয়।
বিষ্ণুর অংশাবতার
{{/usCountry}}হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, ভগবান ধন্বন্তরী হলেন শ্রীহরি বিষ্ণুর একটি অংশাবতার। এই কারণেও তাঁর পুজো বিশেষ মাহাত্ম্য বহন করে।
সংক্ষেপে, ধনতেরাসে দেবী লক্ষ্মী (সম্পদ) এবং কুবেরের (ধনরক্ষক) পাশাপাশি ভগবান ধন্বন্তরীকে (স্বাস্থ্য) পুজো করা হয় এই বিশ্বাসে যে, জীবনে যেন অর্থ ও স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ভক্তরা যেন রোগমুক্ত জীবন ও সমৃদ্ধি লাভ করে। এই দিনটিকে ভারতে জাতীয় আয়ুর্বেদ দিবস হিসেবেও পালন করা হয়।