সব সময়ে দেবী সরস্বতীর কৃপা পান কোন কোন রাশির জাতক? পড়াশোনায় উন্নতি কাদের জন্য সহজ
১২টি রাশির ওপর দেবীর সাধারণ দৃষ্টি থাকলেও, বিশেষ ৩টি রাশির ওপর বাগদেবীর আশীর্বাদ সর্বদা বর্ষিত হয়। এই রাশির জাতক-জাতিকারা সাধারণত অত্যন্ত মেধাবী, সৃজনশীল এবং বাকপটু হয়ে থাকেন।
হিন্দু ধর্মে দেবী সরস্বতী হলেন বিদ্যা, বাণী, শিল্প এবং বুদ্ধির অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তাঁর কৃপা ছাড়া জ্ঞানার্জন বা কোনো সৃজনশীল কাজে সাফল্য পাওয়া অসম্ভব। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, ১২টি রাশির ওপর দেবীর সাধারণ দৃষ্টি থাকলেও, বিশেষ ৩টি রাশির ওপর বাগদেবীর আশীর্বাদ সর্বদা বর্ষিত হয়। এই রাশির জাতক-জাতিকারা সাধারণত অত্যন্ত মেধাবী, সৃজনশীল এবং বাকপটু হয়ে থাকেন।

মা সরস্বতীর প্রিয় রাশি এবং জ্যোতিষতাত্ত্বিক কারণগুলি জেনে নিন।
সনাতন ধর্মে দেবী সরস্বতীকে 'শুক্লাং ব্রহ্মবিচার সার পরমাদ্যাং' বলে বন্দনা করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রে বুধ ও বৃহস্পতি গ্রহকে জ্ঞান ও বুদ্ধির কারক মনে করা হয়। যে জাতকদের কুণ্ডলীতে এই গ্রহগুলি শক্তিশালী থাকে, তাঁদের ওপর দেবীর আশীর্বাদ বেশি থাকে। তবে রাশির বিচারে ৩টি রাশিকে দেবীর সবচেয়ে প্রিয় বলে গণ্য করা হয়।
১. মিথুন রাশি (Gemini): বাণীর জাদুকর
মিথুন রাশির অধিপতি হলো বুধ। বুধকে বুদ্ধির কারক গ্রহ বলা হয়। দেবী সরস্বতী এই রাশির জাতকদের ওপর অত্যন্ত প্রসন্ন থাকেন।
- বৈশিষ্ট্য: মিথুন রাশির জাতকরা অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধির অধিকারী হন। এঁদের কথা বলার ক্ষমতা বা 'কমিউনিকেশন স্কিল' চমৎকার হয়।
- সাফল্য: লেখক, সাংবাদিক, গায়ক বা শিক্ষক হিসেবে এঁরা খুব দ্রুত উন্নতি করেন। মা সরস্বতীর কৃপায় এঁরা যেকোনো কঠিন বিষয় খুব সহজে আয়ত্ত করতে পারেন।
২. তুলা রাশি (Libra): শিল্পের কারিগর
তুলা রাশির অধিপতি শুক্র। যদিও শুক্র অসুর গুরু, তবুও শুক্র গ্রহ শিল্প, সঙ্গীত এবং সৃজনশীলতার প্রতীক। দেবী সরস্বতী এই রাশির জাতকদের শিল্পী সত্তাকে জাগ্রত করেন।
- বৈশিষ্ট্য: তুলা রাশির জাতকরা নান্দনিক বোধসম্পন্ন হন। চিত্রাঙ্কন, নৃত্য বা বাদ্যযন্ত্রে এঁদের বিশেষ ঝোঁক থাকে।
- সাফল্য: সৃজনশীল যেকোনো পেশায় এঁরা অনন্য ছাপ রাখতে পারেন। এঁদের ওপর দেবীর আশীর্বাদ থাকে বলেই এঁরা অত্যন্ত রুচিশীল এবং মার্জিত স্বভাবের হয়ে থাকেন।
৩. কুম্ভ রাশি (Aquarius): গভীর জ্ঞানের সন্ধানী
কুম্ভ রাশির জাতকরা সাধারণত গম্ভীর এবং চিন্তাশীল প্রকৃতির হন। এই রাশির ওপর দেবী সরস্বতীর কৃপা একটু ভিন্নভাবে কাজ করে।
- বৈশিষ্ট্য: এঁরা তাত্ত্বিক ও দার্শনিক জ্ঞানের অধিকারী হন। বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতি এঁদের প্রবল আকর্ষণ থাকে।
- সাফল্য: গবেষণা বা উদ্ভাবনী মূলক কাজে এঁরা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন। গণিত এবং বিজ্ঞানের জটিল রহস্য সমাধানে এঁদের জুড়ি মেলা ভার। কুম্ভ রাশির জাতকদের একাগ্রতা দেবী সরস্বতীকে তুষ্ট করে।
সরস্বতীর কৃপা লাভের জ্যোতিষতাত্ত্বিক সংকেত
জ্যোতিষ মতে, যদি কারো কোষ্ঠীতে পঞ্চম ভাব (শিক্ষার ঘর) এবং দ্বিতীয় ভাব (বাণীর ঘর) শক্তিশালী থাকে, তবে বুঝতে হবে তাঁর ওপর সরস্বতীর কৃপা রয়েছে। এছাড়া যাদের জন্মছকে 'ভদ্র যোগ' বা 'সরস্বতী যোগ' থাকে, তাঁরা বিশ্ববিখ্যাত পণ্ডিত বা শিল্পী হয়ে ওঠেন।
দেবীর আশীর্বাদ পাওয়ার কিছু সহজ উপায়
আপনার রাশি যাই হোক না কেন, মা সরস্বতীর কৃপা পেতে নিচের কাজগুলো করতে পারেন:
- বীজ মন্ত্র: প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে 'ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ' মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করুন।
- রঙের ব্যবহার: পড়াশোনা বা শুভ কাজে সাদা বা হলুদ রঙের পোশাক ব্যবহার করুন, যা দেবীর অত্যন্ত প্রিয়।
- কলম ও বইয়ের যত্ন: কলম ও বইকে কখনো অসম্মান করবেন না। পড়ার টেবিলে ছোট একটি সরস্বতী প্রতিমা বা ছবি রাখলে পড়াশোনায় একাগ্রতা বাড়ে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


