Saraswati the myth explained: পুরাকালের সরস্বতী নদী কি সত্যিই বাগদেবী? পুরাণ ও ইতিহাস কি মিশছে এক স্রোতে?
Saraswati and the age old Saraswati river are they linked: পুরাণে খোঁজ পাওয়া যায় সরস্বতী নামের এক বহতা নদীর। বলা হয়, এর উপরেই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন বৈদিক সভ্যতা। তবে এই নদীই কি মা সরস্বতীর রূপে পুজিত হতেন?
জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী মা সরস্বতী। আমাদের হৃদয়স্থ আলোর প্রতীক বাগদেবী। আবার তিনি অনেকদিন আগের হারিয়ে যাওয়া নদী। ভারতবর্ষের পুরাণের ধারা ও ইতিহাসের স্রোতে এভাবেই মিশে গিয়েছেন বাগদেবী। সরস্বতী শব্দের দু’ধরনের অর্থ করা যায়। একভাবে বলা যায়, ‘স্ব’ অর্থাৎ আমাদের অন্তঃস্থ শক্তির ‘সার’ হলেন বাগদেবী। তাই সরস্বতী। আবার সরস্বতী শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনেকে বলেন তিনি ‘সরস বতী’। সরস্বতীতে তাই নদী ও দেবী দুইয়ের সত্ত্বাই মিশেছে।

ঋকবেদেই প্রথম উল্লেখ পাওয়া গিয়েছিল সরস্বতী শব্দটির। গায়ত্রী ছন্দে আবদ্ধ বাগদেবীর সূক্তটি ছিল -
পাবকা নঃ সরস্বতী বাজেভির্বাজিনীবতী। যজ্ঞং বষ্টু-ধিয়াবসুঃ।।
দয়িত্রী সূনৃতানাম্ চেতন্তী সুমতীনাম্। যজ্ঞং দধে সরস্বতী।।
মহো অর্ণঃ সরস্বতী প্রচেতয়তি কেতুনা ধিয়ো বিশ্বা বিরাজতি।।
এখানে মা সরস্বতীকে জ্ঞানদাত্রীর পাশাপাশি অন্নদাত্রী, শিক্ষাদাত্রী ও জলদাত্রী হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে। এখনের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বৈদিক নদী সরস্বতীর ধারণা আমরা এখান থেকেই পাই। বৈদিক সভ্যতার প্রাণ ছিল এই নদীর জলধারা। কিন্তু কালক্রমে তা হারিয়ে যায় সময়ের অতলে। সিন্ধু সভ্যতাও প্রধানত সরস্বতীর জলেই পুষ্ট। এখনের যমুনা নদী এককালে হারিয়ে যাওয়া সরস্বতীর উপনদী ছিল। মহাকাব্য ও পুরাণেও রয়েছে, কৃষ্ণের দাদা লাঙল বা হলধারী বলরাম একবার যমুনাকে কর্ষণ করেছিলেন। এই পৌরাণিক কাহিনীতেই নদীর গতিপথ পাল্টে যাওয়ার ঘটনাটি স্পষ্ট। সময়ের কোনও এক অধ্যায়ে বিশাল ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে রাজস্থানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হারিয়ে যায় সরস্বতী নদীর গতিপথ। তবে অনেক ঋষির ধারণা, অন্তঃসলিলা হয়ে সরস্বতী আজও বয়ে চলেছে। সরস্বতী নদী যে ছিল এ কথা দীর্ঘ গবেষণায় তা প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরাও এর অস্তিত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন।
বৈদিক সভ্যতা যত এই নদীর আশীর্বাদ পেয়েছে, ততই দেবীর গরিমায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন মা সরস্বতী। তাঁকেই এই সভ্যতার ধাত্রীদেবী হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। কোনও কোনও পুরাণের মতে, তিনি ব্রহ্মার মানসপুত্রী। আবার অনেকের মতে, ব্রহ্মা সরস্বতীকে সঙ্গে নিয়ে এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন। বিপুল জলধারার নদী ছাড়া যে সভ্যতা গড়ে উঠতে পারে না তা সহজেই অনুমান করা যায়। সরস্বতীকে ব্রহ্মার স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করা হয়। তবে অনেক পুরাণ মতে, তিনি বিষ্ণুর স্ত্রী ছিলেন। তাই লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। আসলে লক্ষ্মী ও সরস্বতী অর্থাৎ ধন ও জ্ঞান মিলেই যে সভ্যতার গড়ে ওঠা, এ কাহিনী যেন তারই ইঙ্গিত।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


