Ganga Dussehra 2026 date: কবে পালিত হবে এই পুণ্য তিথি? জানুন স্নান-দানের সেরা শুভ মুহূর্ত ও ধর্মীয় গুরুত্ব
Ganga Dussehra 2026 date: সনাতন ধর্মে মা গঙ্গাকে মোক্ষদায়ী এবং পরম পবিত্র নদী হিসেবে পুজো করা হয়। পৌরাণিক আখ্যান অনুসারে, রাজা ভগীরথের কঠোর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে জ্যৈষ্ঠ শুক্ল দশমী তিথিতে দেবী গঙ্গা শিবের জটা বেয়ে মর্ত্যধামে নেমে এসেছিলেন।
Ganga Dussehra 2026 date: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি হলো গঙ্গা দশহরা (Ganga Dussehra)। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ দিনেই মর্ত্যলোকের তৃষ্ণা মেটাতে এবং মানবজাতিকে পাপমুক্ত করতে স্বর্গ থেকে গঙ্গাদেবীর অবতারণা হয়েছিল। ২০২৬ সালের গঙ্গা দশহরার সঠিক তারিখ, পুণ্য স্নান ও দানের শুভ মুহূর্ত নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

সনাতন ধর্মে মা গঙ্গাকে মোক্ষদায়ী এবং পরম পবিত্র নদী হিসেবে পুজো করা হয়। পৌরাণিক আখ্যান অনুসারে, রাজা ভগীরথের কঠোর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে জ্যৈষ্ঠ শুক্ল দশমী তিথিতে দেবী গঙ্গা শিবের জটা বেয়ে মর্ত্যধামে নেমে এসেছিলেন। এই দিনটিকে স্মরণ করেই প্রতি বছর গঙ্গা দশহরা বা গঙ্গাবতরণ উৎসব পালন করা হয়। ২০২৬ সালের গঙ্গা দশহরার দিনটিতে বেশ কিছু অত্যন্ত শুভ যোগ তৈরি হচ্ছে, যা এই উৎসবের আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই দিনে পবিত্র গঙ্গায় স্নান এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়।
গঙ্গা দশহরা ২০২৬: সঠিক তারিখ ও তিথি
জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিটি শুরু এবং শেষ হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময় নিচে দেওয়া হলো:
- দশমী তিথি শুরু: মে মাসের শেষ সপ্তাহে এই পুণ্য তিথিটি প্রবেশ করছে।
- উদয়া তিথি অনুসারে: সনাতন ধর্মে উদয়া তিথির বিশেষ গুরুত্ব থাকায়, ২০২৬ সালের মে মাসের শেষভাগে বা জুনের প্রথমার্ধে (পঞ্জিকা মতে নির্দিষ্ট দিনে) এই উৎসব দেশজুড়ে উদযাপিত হবে।
স্নান ও দানের শুভ মুহূর্ত (Muhurat)
গঙ্গা দশহরার দিন ব্রহ্মমুহূর্ত থেকে শুরু করে সারাদিনই স্নান-দানের জন্য প্রশস্ত। তবে জ্যোতিষবিদদের মতে, সূর্যোদয়ের সময় থেকে শুরু করে দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত সময়টি স্নান এবং অর্ঘ্যদানের জন্য সবচেয়ে সেরা মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সময়ে করা দান সরাসরি দেবলোক ও পিতৃলোকে পৌঁছায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
গঙ্গা দশহরার বিশেষ ১০টি দানের নিয়ম
এই উৎসবে 'দশ' বা ১০ সংখ্যার একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই দিন ১০টি পাপ হরণ করতেই মা গঙ্গার আগমন ঘটেছিল। তাই শাস্ত্রে এই দিনে ১০টি জিনিস দান করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একজন ব্রতধারী বা সাধারণ মানুষ এই দিনে অভাবী মানুষকে—জল, অন্ন, বস্ত্র, ফল, ছাতা, হাতপাখা, জুতো, সুপুরি, ঘি এবং শস্য দান করতে পারেন। যদি ১০টি জিনিস দান করা সম্ভব না হয়, তবে যেকোনো একটি সামগ্রী ১০ জন ব্রাহ্মণ বা দুঃস্থ মানুষকে দান করলেও সমান ফল পাওয়া যায়।
কীভাবে করবেন পুজো ও উপাসনা?
১. এই দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কোনো পবিত্র নদীতে (সম্ভব হলে গঙ্গায়) স্নান করুন। নদীতে যাওয়া সম্ভব না হলে স্নানের জলে সামান্য গঙ্গাজল মিশিয়ে নিন।
২. স্নানের পর সূর্যদেবকে তিল ও অক্ষত (আতপ চাল) মিশ্রিত জল অর্পণ করুন।
৩. মা গঙ্গার ধ্যান করে "ওঁ নমো ভগবত্যৈ দশপাপহরায়ৈ গঙ্গায়ৈ নারায়ণ্যৈ নমো নমঃ" মন্ত্রটি ১০ বার জপ করুন।
৪. সন্ধ্যার সময় বাড়ির পুজোঘরে বা কাছাকাছি কোনো মন্দিরে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করুন।
গঙ্গা দশহরা হলো আত্মশুদ্ধি এবং পুণ্য অর্জনের এক মহোৎসব। ২০২৬ সালের এই পবিত্র দিনে সঠিক নিয়ম মেনে স্নান, উপাসনা ও দানধ্যান করলে জীবন থেকে সমস্ত নেতিবাচক প্রভাব দূর হয় এবং মা গঙ্গার আশীর্বাদে পরিবারে সুখ, শান্তি ও ঐশ্বর্য বজায় থাকে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


