সকলেই জানেন, আজ হনুমান জয়ন্তী! কিন্তু আজকের দিনটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র
জ্যোতিষশাস্ত্রে হনুমানজিকে ‘সংকটমোচন’ বলা হয়। আজকের দিনটি তাই সকলের জীবনের সংকট কাটানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেনে নিন, এই দিনের অর্থ।
আজ চৈত্র পূর্ণিমা, সারা ভারতজুড়ে পালিত হচ্ছে মহাবীর হনুমান জয়ন্তী। তবে ২০২৬ সালের এই দিনটি সাধারণ উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে জ্যোতিষশাস্ত্রের নিরিখে এক অত্যন্ত বিরল এবং গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রহের অবস্থান এবং বিশেষ কিছু রাজযোগের সমাহার আজকের দিনটিকে আধ্যাত্মিক ও জ্যোতিষীয়—উভয় দিক থেকেই অনন্য করে তুলেছে।

জ্যোতিষশাস্ত্রে শ্রী হনুমানজিকে 'সংকটমোচন' এবং মঙ্গল গ্রহের অধিপতি হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০২৬ সালের এই বিশেষ দিনে মহাকাশে গ্রহদের এমন এক বিন্যাস তৈরি হয়েছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে দেখা যায়নি। মূলত তিনটি প্রধান কারণে আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১. মঙ্গলের রাশি পরিবর্তন ও মঙ্গলাদিত্য রাজযোগ
আজকের দিনের সবথেকে বড় জ্যোতিষীয় ঘটনা হলো গ্রহের সেনাপতি মঙ্গলের রাশি পরিবর্তন। আজ দুপুর ৩টা ২৯ মিনিটে মঙ্গল কুম্ভ রাশি ত্যাগ করে মীন রাশিতে প্রবেশ করেছেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছেন গ্রহের রাজা সূর্য। সূর্য ও মঙ্গলের এই মিলনে তৈরি হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী 'মঙ্গলাদিত্য রাজযোগ'।
মঙ্গল যেহেতু হনুমানজির প্রতীক এবং আজ তাঁরই জন্মোৎসব, তাই এই রাজযোগের প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্যোতিষবিদদের মতে, এই যোগের ফলে মীন, ধনু ও বৃষ রাশির জাতকদের জীবনে অভাবনীয় সাফল্য এবং আর্থিক উন্নতির যোগ তৈরি হয়েছে। এটি সাহস, ধৈর্য এবং প্রশাসনিক কাজে সাফল্যের পথ প্রশস্ত করে।
২. মীন রাশিতে ত্রিগ্রহী যোগের প্রভাব
বর্তমানে মীন রাশিতে কেবল সূর্য ও মঙ্গল নয়, তার সঙ্গে অবস্থান করছে রাহু। ফলে মীন রাশিতে এক বিশেষ 'ত্রিগ্রহী যোগ' তৈরি হয়েছে। রাহুর উপস্থিতিতে মঙ্গলের শক্তি অনেক সময় নেতিবাচক দিকে প্রবাহিত হতে পারে, কিন্তু যেহেতু আজ হনুমান জয়ন্তী, তাই বজরংবলীর আরাধনা এই অশুভ প্রভাবকে প্রশমিত করে শুভত্ব বৃদ্ধি করবে। যারা শনি বা রাহুর দশা বা অন্তর্দশায় ভুগছেন, তাদের জন্য আজকের দিনটি উপাসনার মাধ্যমে গ্রহদোষ খণ্ডন করার শ্রেষ্ঠ সময়।
৩. চিত্রা নক্ষত্র ও গজকেশরী যোগের সংযোগ
আজকের পূর্ণিমা তিথিটি চিত্রা নক্ষত্রে উদিত হয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে চিত্রা নক্ষত্রকে সৃজনশীলতা এবং ঐশ্বর্যের প্রতীক মনে করা হয়। এর পাশাপাশি চন্দ্র ও বৃহস্পতির বিশেষ অবস্থানের কারণে কোনো কোনো লগ্নে 'গজকেশরী রাজযোগ'-এর প্রভাবও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই যোগ বুদ্ধি, জ্ঞান এবং সামাজিক প্রতিপত্তি বৃদ্ধির কারক।
কেন আজ হনুমানজির আরাধনা জরুরি?
জ্যোতিষশাস্ত্রে শনি দেবের প্রকোপ বা 'সাড়ে সাতি' থেকে মুক্তি পেতে হনুমান জয়ন্তীর গুরুত্ব অপরিসীম। কথিত আছে, হনুমানজি শনি দেবকে লঙ্কায় রাবণের হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন, তাই শনি দেব বজরংবলীর ভক্তদের কোনো ক্ষতি করেন না। বর্তমান গ্রহের জটিল অবস্থানে যারা মানসিক অস্থিরতা বা আইনি সমস্যায় জর্জরিত, আজকের দিনটি তাদের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে।
২০২৬ সালের হনুমান জয়ন্তী কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি মহাজাগতিক শক্তির এক বিশেষ মিলনস্থল। মঙ্গলাদিত্য রাজযোগ এবং মঙ্গলের মীন রাশিতে গোচর—সব মিলিয়ে আজকের দিনটি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির উত্থানের সংকেত দিচ্ছে। ভক্তিভরে হনুমান চালিসা পাঠ এবং সুন্দরকাণ্ড শ্রবণের মাধ্যমে আজকের এই শুভ যোগের পূর্ণ সুফল লাভ করা সম্ভব।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


