ভয়, সংকট এবং গ্রহদোষ চিরতরে বিদায় নেবে জীবন থেকে! পাশে থাকবেন কালভৈরব, কালাষ্টমী উপবাসের কাহিনিটা জেনে রাখুন
মার্গশীর্ষ মাসের কালাষ্টমী বা 'ভৈরব অষ্টমী' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, কালভৈরবের আরাধনা করলে ভক্তের জীবন থেকে ভয়, সংকট এবং গ্রহদোষ চিরতরে বিদায় নেয়।
সনাতন ধর্মে প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিকে 'কালাষ্টমী' হিসেবে পালন করা হয়। এই দিনটি দেবাদিদেব মহাদেবের রৌদ্র রূপ ভগবান কালভৈরব-এর উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত। বিশেষ করে মার্গশীর্ষ মাসের কালাষ্টমী বা 'ভৈরব অষ্টমী' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, কালভৈরবের আরাধনা করলে ভক্তের জীবন থেকে ভয়, সংকট এবং গ্রহদোষ চিরতরে বিদায় নেয়।

কালাষ্টমীর পৌরাণিক কাহিনি, এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ নিয়ে এই বিশেষ প্রতিবেদন:
কালাষ্টমী উপবাস কাহিনি: কেন কালভৈরব আবির্ভূত হয়েছিলেন?
পৌরাণিক আখ্যান অনুসারে, একবার ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ তা নিয়ে বিবাদ বাধে। আলোচনার সময় ব্রহ্মদেব তাঁর পঞ্চম মুখ দিয়ে মহাদেবের প্রতি কিছু কটু কথা বলেন। এতে দেবাদিদেব অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন এবং তাঁর সেই ক্রোধ থেকে এক ভয়ানক রূপের সৃষ্টি হয়—যিনি হলেন 'কালভৈরব'।
কালভৈরব আবির্ভূত হয়ে ব্রহ্মার সেই পঞ্চম মস্তকটি ছেদন করেন। ব্রহ্মহত্যার পাপে কালভৈরবের হাতে ব্রহ্মার কপালটি (মাথার খুলি) আটকে যায়। এরপর তিনি কাীধামে পৌঁছালে সেই পাপ থেকে মুক্তি পান। এই কাহিনিটি প্রতীকীভাবে আমাদের ভেতরের অহংকার ও কটু বাক্যের বিনাশকে নির্দেশ করে। সেই থেকেই এই অষ্টমী তিথি কালভৈরবের পূজা ও উপবাসের জন্য পালিত হয়ে আসছে।
সনাতন ধর্মে এর গুরুত্ব কেন এত বেশি?
১. ভয় ও বাধা মুক্তি: কালভৈরবকে 'ভয় নাশন' বলা হয়। যারা মানসিক অস্থিরতা বা শত্রুর ভয়ে ভীত, তাদের জন্য এই উপবাস একটি অভেদ্য সুরক্ষা কবচ।
২. কাল বা সময়ের অধিপতি: 'কাল' শব্দের অর্থ সময়। কালাষ্টমীর উপবাস করলে মানুষের সময়ের চাকা অনুকূলে ফেরে এবং অপমৃত্যুর ভয় দূর হয়।
৩. কাশীর রক্ষাকর্তা: ভগবান কালভৈরব কাশীর কোতোয়াল বা রক্ষক হিসেবে পরিচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, তাঁর অনুমতি ছাড়া কাশীতে কেউ প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারে না।
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি
জ্যোতিষশাস্ত্রে কালভৈরবকে অত্যন্ত শক্তিশালী এক উপাস্য হিসেবে গণ্য করা হয়, বিশেষ করে ছায়া গ্রহ ও পাপ গ্রহের কুপ্রভাব কাটাতে:
- শনির সাড়ে সাতি ও রাহুর প্রতিকার: শনি এবং রাহু গ্রহের অধিপতি হলেন কালভৈরব। যাদের কুণ্ডলীতে শনির দশা বা রাহুর অশুভ প্রভাব চলছে, তাদের জন্য কালাষ্টমীর উপবাস মহৌষধের মতো কাজ করে।
- বিপত্তি নাশ: আকস্মিক দুর্ঘটনা বা হঠাৎ আসা বড় কোনো বিপদ থেকে রক্ষা পেতে জ্যোতিষীরা কালভৈরব অষ্টকম্ পাঠের পরামর্শ দেন।
- আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: যাদের কোষ্ঠীতে মঙ্গল বা সূর্য দুর্বল, তাদের মানসিক তেজ বাড়াতে এই পূজা সাহায্য করে।
কালাষ্টমী ব্রত পালনের নিয়ম
- নিশিতা কাল পূজা: কালভৈরবের পূজা সাধারণত মধ্যরাতে বা গভীর সন্ধ্যায় করা হয়।
- জাগরণ: অনেকে এই রাতে জেগে থেকে ভৈরব চালিশা বা শিব পুরাণ পাঠ করেন।
- কুকুর সেবা: কালভৈরবের বাহন হলো কালো কুকুর। তাই এই দিনে কোনো কুকুরকে তেল মাখানো রুটি বা মিষ্টি খাওয়ানো অত্যন্ত পুণ্যদায়ক।
- উপবাস: এই দিন ভক্তরা সারাদিন উপবাস থেকে সন্ধ্যায় আরতির পর সাত্ত্বিক খাবার গ্রহণ করেন।
কালাষ্টমী কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি নিজের ভেতরের অন্ধকারকে জয় করে আলোর পথে ফেরার একটি মাধ্যম। ভগবান কালভৈরব যেমন শৃঙ্খলার প্রতীক, তেমনই তিনি তাঁর ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত করুণাময়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


