পরশু দিনই চন্দ্রগ্রহণ! সকলের উপরেই পড়বে প্রভাব, আপনার জীবন কতটা বদলাবে? সূতককালে কী করবেন, জেনে নিন
২০২৬ সালের ৩ মার্চ একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, এই গ্রহণটি সিংহ রাশিতে এবং পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে সংঘটিত হবে। যেহেতু ৩ মার্চ ভারতে হোলিকা দহন পালিত হবে, তাই এই গ্রহণের ধর্মীয় গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।
২০২৬ সালের শুরুতেই মহাকাশে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ববাসী। আগামী ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipse) সংঘটিত হতে চলেছে। এই গ্রহণটি কেবল জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেই নয়, বরং জ্যোতিষশাস্ত্রীয় দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি হোলিকা দহনের পূর্ণ তিথিতেই ঘটতে চলেছে।

৩ মার্চের এই চন্দ্রগ্রহণের সময়কাল, ভারতে এর দৃশ্যমানতা এবং ১২টি রাশির ওপর এর প্রভাব জেনে নিন।
২০২৬ সালের ৩ মার্চ একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, এই গ্রহণটি সিংহ রাশিতে এবং পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে সংঘটিত হবে। যেহেতু ৩ মার্চ ভারতে হোলিকা দহন পালিত হবে, তাই এই গ্রহণের ধর্মীয় গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ভারতের আকাশে এই গ্রহণের শেষ পর্যায়টি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এর 'সূতক কাল' নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
চন্দ্রগ্রহণের সময়সূচী ও ভারতে দৃশ্যমানতা
পঞ্চাঙ্গ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ৩ মার্চ চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে দুপুর ৩টে ২০ মিনিটে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে।
- ভারতে দৃশ্যমানতা: ভারতের বেশিরভাগ অংশে গ্রহণটি চন্দ্রোদয়ের সময় অর্থাৎ সন্ধ্যার দিকে দেখা যাবে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব ভারতের শহরগুলোতে গ্রহণের শেষ বা মোক্ষ পর্যায়টি স্পষ্ট হবে।
- সূতক কাল: শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণের ৯ ঘণ্টা আগে সূতক কাল শুরু হয়। সেই হিসেবে ৩ মার্চ ভোর ৬টা ২০ মিনিট থেকে সূতক কাল কার্যকর হবে, যা গ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথে শেষ হবে।
১২ রাশির ওপর চন্দ্রগ্রহণের প্রভাব
সিংহ রাশিতে এই গ্রহণ হওয়ার ফলে প্রতিটি রাশির জাতকদের জীবনে কম-বেশি পরিবর্তন আসবে। নিচে প্রধান কয়েকটি রাশির ওপর এর প্রভাব আলোচনা করা হলো:
শুভ প্রভাব পড়বে যেসব রাশিতে:
- ১. মেষ রাশি: আপনার মান-সম্মান বৃদ্ধি পাবে। কর্মক্ষেত্রে বড় কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন। আর্থিক উন্নতির প্রবল যোগ রয়েছে।
- ২. সিংহ রাশি: যেহেতু গ্রহণ আপনার রাশিতেই হচ্ছে, তাই শুরুতে কিছুটা মানসিক চাপ থাকলেও পরবর্তীকালে এটি আপনার জন্য সাফল্যের নতুন পথ খুলে দেবে। আপনার সৃজনশীলতা বাড়বে।
- ৩. ধনু রাশি: আপনার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে। অমীমাংসিত আইনি সমস্যার সমাধান হবে এবং বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে।
সতর্ক থাকতে হবে যেসব রাশির জাতকদের:
- বৃষ ও কন্যা রাশি: এই রাশির জাতকদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে হঠাত বড় কোনো ঝুঁকি নেবেন না।
- মকর রাশি: কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে বাদানুবাদে জড়াবেন না। মানসিক অস্থিরতা কাটাতে যোগব্যায়াম বা ধ্যানের সাহায্য নিতে পারেন।
গ্রহণে করণীয় ও বর্জনীয়
ভারতীয় শাস্ত্র মতে, গ্রহণের সময় কিছু নিয়ম পালন করা মঙ্গলদায়ক:
- জপ ও ধ্যান: গ্রহণের অশুভ প্রভাব কাটাতে ইষ্টদেবতার মন্ত্র জপ করা উচিত।
- খাদ্য গ্রহণ: সূতক কাল থেকে গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করা খাবার বা জল পান না করাই ভালো। তবে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের জন্য এই নিয়ম শিথিল।
- দান: গ্রহণ শেষ হওয়ার পর স্নান সেরে দরিদ্রদের অন্ন বা বস্ত্র দান করলে পূণ্য লাভ হয় এবং গ্রহের দোষ কাটে।
২০২৬ সালের ৩ মার্চের এই চন্দ্রগ্রহণ এবং হোলির এক বিরল সংযোগ আমাদের সাবধান হওয়ার পাশাপাশি নতুন সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গ্রহের কুপ্রভাব থেকে বাঁচতে সংযম ও ভক্তিই হলো শ্রেষ্ঠ পথ।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


