মহাবীর জয়ন্তী কেন উদযাপন করা হয়? জেনে নিন এই বিশেষ দিনের গুরুত্ব
ভগবান মহাবীর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জৈনরা এই দিনটি মহাবীর জয়ন্তী হিসেবে পালন করেন। মহাবীর জয়ন্তী কেন উদযাপন করা হয় জানেন?
ভগবান মহাবীর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জৈনরা এই দিনটি মহাবীর জয়ন্তী হিসেবে পালন করেন। বিশ্বাস করা হয় যে মহাবীর জৈনধর্মের শেষ তীর্থঙ্কর ছিলেন। তিনি সর্বদা সমাজকে সত্য ও অহিংসার পথ দেখিয়েছেন। জৈনরা মহা ধুমধাম করে মহাবীর জয়ন্তী পালন করেন। এই দিনে সকালের শোভাযাত্রা, মিছিল এবং বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের বিশেষ আয়োজন করা হয়।

২০২৬ সালের মহাবীর জয়ন্তী কবে?
ভগবান মহাবীর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যা এবার সোমবার, ৩০ মার্চ, সকাল ৭টা ১০ মিনিটে শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশী তিথি পরের দিন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, সকাল ৬টা বেজে ৫৭ মিনিটে শেষ হবে। সুতরাং, উদয় তারিখ অনুসারে মহাবীর জয়ন্তী ৩১ মার্চ পালিত হবে।
মহাবীর জয়ন্তী কেন উদযাপন করা হয়?
ভগবান মহাবীরকে জৈনধর্মের শেষ তীর্থঙ্কর, কঠোর তপস্যার পর জ্ঞান লাভ করেছিলেন। ভগবান মহাবীর ১২ বছর ধরে কঠোর তপস্যা করেছিলেন। কৃচ্ছ্রসাধন, কীর্তন এবং মৌনতার মাধ্যমে ভগবান মহাবীর তাঁর ইন্দ্রিয়গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। এরপর তিনি জ্ঞান লাভ করেন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, ভগবান মহাবীর ছিলেন জৈনধর্মের শেষ তীর্থঙ্কর। এই শুভ উপলক্ষে, জৈনরা মন্দিরে সোনা ও রুপোর কলস দিয়ে ভগবান মহাবীরের অভিষেক করেন। এরপর একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়।
মহাবীর স্বামীর বাণী
১) মানুষের দুঃখ তার নিজের ভুলের কারণেই হয়। একমাত্র তিনিই প্রকৃত সুখ লাভ করতে পারেন, যিনি নিজের ভুলগুলো কাটিয়ে উঠতে পারেন।
২) মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হল অহিংসা। আমাদের সর্বদা ‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’ এই বার্তা অনুসরণ করা উচিত।
৩) অহিংসা মানে প্রতিটি জীবের প্রতি সহানুভূতি থাকা। ঘৃণা আমাদের ধ্বংস করে এবং অন্যদের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
৪) প্রকৃতপক্ষে, আমাদের শত্রুরা আমাদের ভেতরেই বাস করে। এই শত্রুরা হল বিদ্বেষ, লোভ, অহংকার, ক্রোধ এবং ঘৃণা। লক্ষ লক্ষ শত্রুকে জয় করার চেয়ে নিজেকে জয় করা শ্রেয়।
৫) ভগবান মহাবীর কর্তৃক কথিত পাঁচটি প্রধান নীতি হল অহিংসা, ব্রহ্মচর্য, সত্য, অ-সম্পত্তি এবং অ-চুরি এই পঞ্চব্রত পালন করা।
E-Paper

