মঙ্গলের গোচর, সঙ্গে ব্লাড মুন! জ্যোতিষশাস্ত্র কি ইঙ্গিত দিচ্ছে বড় সড় যুদ্ধের? ইরান-আমেরিকা সংঘাত কি তারই ইঙ্গিত
জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলকে বলা হয় যুদ্ধের দেবতা। অন্যদিকে, চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ যখন রক্তাভ বর্ণ ধারণ করে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় 'ব্লাড মুন' বলা হয়, তা প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্রীয় মতে রক্তপাত ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সংকেত।
২০২৬ সালের গ্রহমন্ডলীর বিন্যাস বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হতে চলেছে। বিশেষ করে মঙ্গলের কুম্ভ রাশিতে গোচর এবং সেই সময়ে আকাশে দৃশ্যমান 'ব্লাড মুন' (রক্তাভ চন্দ্রগ্রহণ) বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক দ্বন্দ্বের ওপর এর প্রভাব কেমন পড়তে পারে? জেনে নিন।

জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলকে বলা হয় যুদ্ধের দেবতা (Planet of War)। অন্যদিকে, চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ যখন রক্তাভ বর্ণ ধারণ করে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় 'ব্লাড মুন' বলা হয়, তা প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্রীয় মতে রক্তপাত ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সংকেত। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মঙ্গলের কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ এবং একই সময়ে চন্দ্রগ্রহণের এই বিশেষ সংযোগ বিশ্বশান্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মঙ্গল ও কুম্ভ রাশির সংযোগ: কেন এটি বিপজ্জনক?
কুম্ভ রাশি হলো শনিদেবের রাশি। শনি হলো ন্যায়ের দেবতা এবং মঙ্গল হলো শক্তির প্রতীক। যখন মঙ্গল শনির রাশিতে প্রবেশ করে, তখন ক্ষমতার লড়াই তীব্রতর হয়। জ্যোতিষীদের মতে, এই গোচর ২০২৬ সালের শুরুর দিকে এমন পরিস্থিতি তৈরি করবে যেখানে বিভিন্ন দেশ নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে উঠবে। কুম্ভ রাশি বায়ু তত্বের রাশি হওয়ায় আকাশপথে আক্রমণ বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা ও জ্যোতিষীয় বিশ্লেষণ
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, ইরান ও আমেরিকার কুষ্ঠিতে ২০২৬ সালের গ্রহগত অবস্থান অত্যন্ত প্রতিকূল। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর মঙ্গলের সরাসরি প্রভাব এবং আমেরিকার রাশিতে রাহু-মঙ্গলের অশুভ দৃষ্টি বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়াবে।
- ইরানের অবস্থান: ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি বা সামরিক কৌশলে অনড় থাকতে পারে, যা আমেরিকাকে ক্ষুব্ধ করবে।
- আমেরিকার পদক্ষেপ: আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো অর্থনৈতিক অবরোধ ছাড়িয়ে সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবতে পারে।
জ্যোতিষীদের আশঙ্কা, ২০২৬-এর এই সময়কালে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের সূচনা হতে পারে যা কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
'ব্লাড মুন' এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা
২০২৬ সালের ৩ মার্চ একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে। যখন চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে লালচে রঙ ধারণ করে, তখন তাকে 'ব্লাড মুন' বলা হয়। মুণ্ডন জ্যোতিষ (Mundane Astrology) অনুযায়ী, ব্লাড মুন মানেই হলো শাসক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বা কোনো বড় সংঘাতের চরম পর্যায়। ইরান-আমেরিকা ছাড়াও উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের পরিস্থিতির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের ওপর প্রভাব
বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধের ডামাডোল বাজবে, তখন ভারতের কূটনীতি এক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হবে। ভারতের রাশিচক্র অনুযায়ী, প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে। তবে আধ্যাত্মিক ও কূটনৈতিকভাবে ভারত বিশ্বমঞ্চে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
গ্রহের গতিপ্রকৃতি কেবল একটি সম্ভাবনা নির্দেশ করে। ২০২৬ সালের এই মঙ্গল গোচর ও ব্লাড মুন আমাদের সতর্ক করছে যে বিশ্ব এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এই উত্তেজনা যদি সঠিক সময়ে আলোচনার মাধ্যমে মেটানো না যায়, তবে ২০২৬ সাল ইতিহাসের পাতায় এক রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


