Panchakshari Mantra: এই মন্ত্র জপে পরমাত্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হয়, এমনই বলছে সনাতন ধর্ম

পাঁচটি অক্ষর মহাবিশ্বের পাঁচটি মৌলিক উপাদান বা পঞ্চভূতকে (ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম) প্রতিনিধিত্ব করে।

Published on: Feb 6, 2026, 10:11:37 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সনাতন ধর্মে মন্ত্র জপকে পরমাত্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মন্ত্র হলো 'পঞ্চাক্ষরী মন্ত্র'। শিব পুরাণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শাস্ত্রীয় গ্রন্থে এই মন্ত্রের মহিমা বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।

এই মন্ত্র জপে পরমাত্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হয়, এমনই বলছে সনাতন ধর্ম
এই মন্ত্র জপে পরমাত্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হয়, এমনই বলছে সনাতন ধর্ম

পঞ্চাক্ষরী মন্ত্রের নিগূঢ় অর্থ এবং মানুষের জীবনে এর প্রভাব জেনে নিন।

পঞ্চাক্ষরী মন্ত্র কী?

পঞ্চাক্ষরী মন্ত্র হল দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার মূল মন্ত্র— ‘নমঃ শিবায়’। 'নমঃ' এবং 'শিবায়'—এই দুটি শব্দের মিলনে তৈরি পাঁচটি অক্ষর (ন, ম, শি, বা, য) মিলে এটি 'পঞ্চাক্ষরী' নামে পরিচিত। এই পাঁচটি অক্ষর মহাবিশ্বের পাঁচটি মৌলিক উপাদান বা পঞ্চভূতকে (ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম) প্রতিনিধিত্ব করে।

  • ন: পৃথিবী (ক্ষিতি)
  • ম: জল (অপ)
  • শি: অগ্নি (তেজ)
  • বা: বায়ু (মরুৎ)
  • য: আকাশ (ব্যোম)

মানুষের জীবনে এই মন্ত্রের প্রভাব

পঞ্চাক্ষরী মন্ত্র কেবল একটি শব্দগুচ্ছ নয়, এটি একটি কম্পন যা মানব শরীরের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রগুলোকে জাগ্রত করে।

১. মানসিক প্রশান্তি ও একাগ্রতা

নিয়মিত এই মন্ত্র জপ করলে মস্তিষ্কে আলফা তরঙ্গ বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। এটি মনের চঞ্চলতা দূর করে গভীর একাগ্রতা প্রদান করে।

২. নেতিবাচক শক্তি বিনাশ

'নমঃ শিবায়' মন্ত্রের ধ্বনি শরীরে এবং চারপাশে একটি রক্ষাকবচ তৈরি করে। এটি মানুষের ভেতরের অহংকার, ক্রোধ এবং লোভকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটায়।

৩. আধ্যাত্মিক জাগরণ

যোগশাস্ত্র মতে, এই মন্ত্র জপ করলে শরীরের 'চক্র'গুলো উদ্দীপিত হয়। এটি সাধককে আত্মোপলব্ধির পথে নিয়ে যায় এবং পরমেশ্বরের সঙ্গে আধ্যাত্মিক সংযোগ স্থাপন করে।

জ্যোতিষশাস্ত্র কী বলছে?

জ্যোতিষশাস্ত্রে পঞ্চাক্ষরী মন্ত্রকে 'সর্বকষ্ট নিবারক' হিসেবে দেখা হয়।

  • গ্রহদোষ খণ্ডন: বিশেষ করে শনি ও চন্দ্রের অশুভ প্রভাবে (যেমন সাড়ে সাতি বা বিষ যোগ) যারা ভুগছেন, তাদের জন্য এই মন্ত্র জপ করা অব্যর্থ মহৌষধ। মহাদেব যেহেতু চন্দ্রকে মস্তকে ধারণ করেন, তাই এই মন্ত্র জপে মানসিক অবসাদ দূর হয়।
  • অকাল মৃত্যু ভয় মুক্তি: জ্যোতিষীদের মতে, এই মন্ত্রের নিয়মিত জপ কোষ্ঠীতে থাকা দুর্ঘটনা বা অকাল মৃত্যুর যোগকে প্রশমিত করতে পারে।
  • কর্মফলে স্থায়িত্ব: যারা কর্মজীবনে অস্থিরতার সম্মুখীন হচ্ছেন, পঞ্চাক্ষরী মন্ত্র তাদের জীবনে স্থায়িত্ব এবং সঠিক দিশা আনতে সাহায্য করে।

জপ করার সঠিক নিয়ম

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে রুদ্রাক্ষের মালা দিয়ে ১০৮ বার এই মন্ত্র জপ করা শ্রেষ্ঠ। তবে এই মন্ত্রের বিশেষত্ব হলো, ভক্তি থাকলে যেকোনো সময় এবং যেকোনো অবস্থায় মনে মনে এটি জপ করা যায়।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More