মে মাসে মেষ রাশিতে বুধের দহন! বুদ্ধির ভুলে ক্ষতি হতে পারে এই রাশিগুলোর! আগাম জানুন মে মাসের ভবিষ্যৎ
জ্যোতিষশাস্ত্রে বুধ গ্রহকে বুদ্ধি, বাচনভঙ্গি, ব্যবসা এবং গণিতের কারক মনে করা হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে বুধ মেষ রাশিতে অবস্থানকালে সূর্যদেবের খুব কাছে চলে আসার ফলে 'অস্ত' বা 'দহন' (Combust) অবস্থায় চলে যাবেন।
২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে জ্যোতিষশাস্ত্রে বুদ্ধির কারক গ্রহ 'বুধ'-এর অবস্থানে বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। গ্রহদের রাজকুমার হিসেবে পরিচিত বুধ যখন দুর্বল বা দহন (Asta) অবস্থায় থাকেন, তখন মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব পড়ে।

জ্যোতিষশাস্ত্রে বুধ গ্রহকে বুদ্ধি, বাচনভঙ্গি, ব্যবসা এবং গণিতের কারক মনে করা হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে বুধ মেষ রাশিতে অবস্থানকালে সূর্যদেবের খুব কাছে চলে আসার ফলে 'অস্ত' বা 'দহন' (Combust) অবস্থায় চলে যাবেন। যখন কোনো গ্রহ সূর্যের প্রভাবে দহন হয়, তখন সেই গ্রহের শুভ ফল দেওয়ার ক্ষমতা সাময়িকভাবে হ্রাস পায়। মেষ রাশিতে বুধের এই দুর্বল অবস্থান মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে মিশ্র প্রভাব ফেলবে।
বুধের দহন অবস্থার প্রভাব
বুধ যখন দুর্বল হয়, তখন সাধারণত মানুষের একাগ্রতা কমে যায় এবং ছোটখাটো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে যারা শেয়ার বাজার, সাংবাদিকতা, ওকালতি বা ব্যবসার সাথে যুক্ত, তাদের এই সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কথা বলার সময় সংযম না রাখলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ফাটল ধরতে পারে।
কোন কোন রাশির ওপর পড়বে বিশেষ প্রভাব?
১. মেষ রাশি (Aries):
যেহেতু বুধ এই রাশিতেই দহন অবস্থায় থাকবেন, তাই মেষ রাশির জাতকদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ব্যবসায়িক চুক্তিতে তাড়াহুড়ো করবেন না। ত্বকের সমস্যা বা স্নায়বিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
২. মিথুন রাশি (Gemini):
বুধ মিথুন রাশির অধিপতি। তাই আপনার রাশির অধিপতির দুর্বল হওয়া মানে আপনার আত্মবিশ্বাস কিছুটা কমে যাওয়া। এই সময় বন্ধুদের সাথে বিবাদে জড়াবেন না এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখুন।
৩. কন্যা রাশি (Virgo):
কন্যা রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টি ধৈর্যের পরীক্ষা নেবে। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো নতুন প্রকল্প শুরু করার আগে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
শুভ প্রভাব কাদের ওপর?
সব রাশির জন্য এই সময়টি খারাপ নয়। কর্কট ও বৃশ্চিক রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তারা গবেষণামূলক কাজে সফল হবেন এবং পুরোনো কোনো বিনিয়োগ থেকে ছোটখাটো লাভ পেতে পারেন।
জ্যোতিষীয় প্রতিকার ও সাবধানতা
বুধের এই নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাঁচতে এবং বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা বজায় রাখতে জ্যোতিষবিদরা কিছু প্রতিকার জানিয়েছেন:
- ভগবান গণেশের আরাধনা: প্রতিদিন গণেশ চালিসা পাঠ করা বা গণেশকে দূর্বা ঘাস নিবেদন করা বুধের দোষ কাটাতে সবথেকে কার্যকরী।
- সবুজ রঙের ব্যবহার: বুধবার সবুজ রঙের পোশাক পরা বা সবুজ কোনো বস্তু (যেমন মুগ ডাল) দান করা শুভ।
- মন্ত্র জপ: "ওঁ বুধায় নমঃ" (Om Budhaya Namah) এই মন্ত্রটি নিয়মিত ১০৮ বার জপ করুন।
- পক্ষী সেবা: পাখিদের দানা শস্য বা জল খাওয়ানো বুধ গ্রহকে প্রসন্ন করতে সাহায্য করে।
গ্রহের দহন বা দুর্বল হওয়া আমাদের জীবনের একটি সাময়িক দশা মাত্র। মে মাসে বুধের এই অবস্থানের সময় আমাদের বাচনভঙ্গি এবং বিচারবুদ্ধির সঠিক প্রয়োগ করা উচিত। সঠিক প্রতিকার এবং সচেতনতার মাধ্যমে আমরা গ্রহের এই প্রতিকূল প্রভাব কাটিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে যেতে পারি। মনে রাখবেন, সঠিক পরিকল্পনাই আপনাকে যেকোনো সংকটে পথ দেখাবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


