Rath Yatra schedule: পুরীর জগন্নাথ রথযাত্রার সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট! জানুন প্রাচীন উৎসবের দিনক্ষণ ও গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
Puri Jagannath Rath Yatra schedule: পুরীর জগন্নাথ দেবের এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা থেকে শুরু করে ভগবান শ্রীজগন্নাথের মূল মন্দিরে পুনরায় প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত সমস্ত আচারের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচী ও নির্ঘণ্ট রয়েছে।
Puri Jagannath Rath Yatra schedule: সনাতন ধর্মে উড়িষ্যার পুরীর শ্রীজগন্নাথ দেবের রথযাত্রা এক অন্যতম মহাসম্মিলন এবং পবিত্র উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে চতুর্দ্ধামূর্তির এই মহিমান্বিত যাত্রা শুরু হয়। এই রথযাত্রা কেবল পুরীর প্রধান মন্দিরে গুন্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একাধিক ধর্মীয় আচার, সংস্কৃতি এবং সূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক রীতির এক দীর্ঘ মেলবন্ধন।

পুরীর জগন্নাথ দেবের এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা থেকে শুরু করে ভগবান শ্রীজগন্নাথের মূল মন্দিরে পুনরায় প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত সমস্ত আচারের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচী ও নির্ঘণ্ট রয়েছে। এই সম্পূর্ণ রথযাত্রা উৎসবের বিস্তারিত দিনক্ষণ, এর পেছনে থাকা পৌরাণিক ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য জেনে নিন।
পুরীর শ্রীক্ষেত্র হলো এমন এক পুণ্যভূমি, যেখানে স্বয়ং মহাপ্রভু জগন্নাথ, বড়ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রার সাথে রথে চড়ে ভক্তদের দর্শন দিতে রাজপথে নেমে আসেন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই উৎসবে শামিল হতে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে।
রথযাত্রা থেকে নীলাদ্রি বিজে: সম্পূর্ণ সময়সূচী ও নির্ঘণ্ট
পুরীর রথযাত্রার মূল মহোৎসব শুরু হওয়ার পর থেকে একে একে নানা পৌরাণিক আচার সম্পন্ন হতে থাকে, যা শেষ হয় ভগবান মন্দিরে ফিরে আসার মাধ্যমে। এই দীর্ঘ উৎসবের মূল পর্বগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- রথযাত্রা ও গুন্ডিচা মন্দিরে গমন: উৎসবের প্রথম দিনেই তিনটি বিশাল রথ—নন্দীঘোষ (জগন্নাথ দেবের রথ), তালধ্বজ (বলভদ্রের রথ) এবং দর্পদলন (সুভদ্রার রথ) সুসজ্জিত করে বড় ডাণ্ডা বা রাজপথ দিয়ে টেনে মাসির বাড়ি অর্থাৎ গুন্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভগবান সাত দিন অবস্থান করেন।
- হেরা পঞ্চমী (Hera Panchami): রথযাত্রার ঠিক পঞ্চম দিনে এই বিশেষ আচারটি অনুষ্ঠিত হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, লক্ষ্মীদেবী ভগবান জগন্নাথের ওপর রাগ করে তাঁকে খুঁজতে গুন্ডিচা মন্দিরে আসেন। রেগে গিয়ে তিনি জগন্নাথ দেবের রথের একটি অংশ ভেঙে আবার মূল মন্দিরে ফিরে যান। এই উৎসবের রঙ ও রীতিনীতি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
- বাহুড়া যাত্রা বা উল্টো রথ (Bahuda Yatra): গুন্ডিচা মন্দিরে সাত দিন কাটানোর পর ভগবান পুনরায় নিজের মূল মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন, যা আমাদের কাছে ‘উল্টো রথযাত্রা’ নামে পরিচিত।
- সোনা বেশ (Suna Besha): উল্টো রথযাত্রার পর দিন, যখন রথগুলো প্রধান মন্দিরের সিংহদ্বারের সামনে এসে পৌঁছায়, তখন তিন দেবতাকে ওজনের দিক থেকে কয়েকশো কেজি ওজনের খাঁটি সোনার অলঙ্কারে অলঙ্কৃত করা হয়। এই অপরূপ রূপ দর্শন করলে জীবনের সব পাপ ধুয়ে যায় বলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন।
- অধর পণা (Adhara Pana): সোনা বেশের পরের দিন রথের ওপরই দেবতাদের ঠোঁট স্পর্শ করিয়ে এক বিশেষ সুগন্ধি ও সুস্বাদু পানীয় বা শরবত নিবেদন করা হয়, যা অধর পণা নামে পরিচিত। এই শরবত পরবর্তীতে রথের চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
- নীলাদ্রি বিজে (Niladri Bije): রথযাত্রার এই মহোৎসবের চূড়ান্ত পর্ব হলো নীলাদ্রি বিজে। এই বিশেষ দিনে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা রথ থেকে নেমে পুনরায় মন্দিরের গর্ভগৃহে বা রত্নবেদীতে প্রবেশ করেন। তবে মন্দিরে ঢোকার আগে লক্ষ্মীদেবীর রাগ ভাঙাতে শ্রীজগন্নাথ দেবকে রসগোল্লা নিবেদন করতে হয়, যা ওড়িশার এক মধুর সংস্কৃতি।
উৎসবের গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
পৌরাণিক মতে, ভগবান জগন্নাথ হলেন বিষ্ণু বা কৃষ্ণেরই এক রূপ। তিনি মন্দির থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে সমাজের সব স্তরের মানুষকে, বিশেষ করে যারা মন্দিরে ঢুকতে পারেন না, তাঁদের কৃপা করেন। রথ টানার সময় ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি মানুষের অন্তরের অহংকার দূর করে এক পরম শান্তির অনুভূতি এনে দেয়।
পুরীর জগন্নাথ রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি মানুষের ভক্তি ও পরমাত্মার মিলনের উৎসব। রথযাত্রা থেকে শুরু করে নীলাদ্রি বিজে পর্যন্ত প্রতিটি নিয়ম আমাদের জীবনের ভক্তি ও সমর্পণের শিক্ষা দেয়। ২০২৬ সালের এই পবিত্র তিথিতে মহাপ্রভুর আশীর্বাদ সবার জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক, এটাই প্রার্থনা।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


