রাহুকাল কাকে বলে? এই সময়ে কেন সাবধান থাকা উচিত? জ্যোতিষশাস্ত্রের ব্যাখ্যা জেনে নিন

এই বিশেষ সময়ে কোনো শুভ কাজ শুরু করলে তাতে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কেন এই সময়টি এত ভয়ঙ্কর? কেনই বা আধুনিক যুগেও জ্যোতিষীরা এই সময়টিকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন? জেনে নিন। 

Published on: Feb 8, 2026, 13:17:13 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র ও পঞ্জিকা মতে, দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়কে অত্যন্ত অশুভ বলে গণ্য করা হয়, যার নাম 'রাহুকাল'। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ সময়ে কোনো শুভ কাজ শুরু করলে তাতে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কেন এই সময়টি এত ভয়ঙ্কর? কেনই বা আধুনিক যুগেও জ্যোতিষীরা এই সময়টিকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন?

রাহুকাল কাকে বলে? এই সময়ে কেন সাবধান থাকা উচিত? জ্যোতিষশাস্ত্রের ব্যাখ্যা জানুন
রাহুকাল কাকে বলে? এই সময়ে কেন সাবধান থাকা উচিত? জ্যোতিষশাস্ত্রের ব্যাখ্যা জানুন

রাহুকালের জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা জেনে নিন।

রাহুকাল আসলে কী?

জ্যোতিষশাস্ত্রে রাহু হলো একটি ছায়া গ্রহ, যাকে পাপ গ্রহ হিসেবে ধরা হয়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে আটটি সমান ভাগে ভাগ করা হয়। এই আটটি ভাগের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট দেড় ঘণ্টার সময়কালকে 'রাহুকাল' বলা হয়। সপ্তাহের প্রতিদিন এই সময়ের স্থায়িত্ব এবং সময়ক্ষণ আলাদা হয়।

শাস্ত্র মতে, এই সময় রাহু অত্যন্ত সক্রিয় থাকে এবং সূর্যের তেজ বা ইতিবাচক শক্তিকে আচ্ছন্ন করে দেয়। ফলে এই সময়ে মহাবিশ্বে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বেড়ে যায়।

কেন এই সময়ে সাবধান থাকা উচিত?

রাহুকালকে অশুভ মনে করার পেছনে বেশ কিছু আধ্যাত্মিক ও মানসিক কারণ রয়েছে:

১. কাজে বাধা ও অসফলতা: মনে করা হয়, রাহুকালের শুরুতে কোনো নতুন ব্যবসা, যাত্রা বা শুভ অনুষ্ঠান (যেমন—বিয়ে, গৃহপ্রবেশ বা এনগেজমেন্ট) করলে তাতে সাফল্য পাওয়া কঠিন হয়। রাহুর প্রভাবে কাজে অহেতুক বিলম্ব বা আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

২. মানসিক বিভ্রান্তি: রাহুকালের সময় মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়। এই সময়ে নেওয়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অনুশোচনার কারণ হতে পারে।

৩. দুর্ঘটনার প্রবণতা: যেহেতু রাহু বিভ্রান্তির কারক, তাই এই সময়ে বড় কোনো যাত্রা শুরু করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে বলে অনেক জ্যোতিষী মনে করেন।

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র ও বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, রাহুকাল কেবল দিনের বেলার জন্যই প্রযোজ্য, এটি রাতের সময়ের ওপর প্রভাব ফেলে না। তবে রাহুকাল চলাকালীন যদি কোনো কাজ আগে থেকেই শুরু হয়ে থাকে, তবে তা চালিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই। কেবল নতুন কোনো কাজের সূত্রপাত এই সময়ে নিষিদ্ধ।

সপ্তাহের কয়েক দিনের রাহুকালের সাধারণ সময় (সূর্যোদয় ৬টার ভিত্তিতে):

  • সোমবার: সকাল ৭:৩০ থেকে ৯:০০ টা।
  • মঙ্গলবার: দুপুর ৩:০০ থেকে ৪:৩০ টা।
  • শনিবার: সকাল ৯:০০ থেকে ১০:৩০ টা।
  • রবিবার: বিকেল ৪:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ টা।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় অনুযায়ী এই সময় প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়, তাই সঠিক পঞ্জিকা দেখা জরুরি।

রাহুকালের কুপ্রভাব এড়ানোর উপায়

যদি কোনো জরুরি কারণে রাহুকালের মধ্যেই কাজ করতে হয়, তবে শাস্ত্র মতে ইষ্টদেবতা বা ভগবান শিবের আরাধনা করে কাজ শুরু করা উচিত। এছাড়া যাত্রার আগে সামান্য দই বা মিষ্টি মুখ করে বেরোলে নেতিবাচকতা কিছুটা প্রশমিত হয়।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More