পশ্চিম তো হালে বলছে ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’, সনাতন ধর্মে সেই কবে থেকেই আছে এমন প্রেমের দিন! কবে সেটি
ভারতীয় পুরাণ ও সনাতন ধর্মে কেন এই বিশেষ দিনটিকে প্রেমের দিন হিসাবে ধরা হয়? পিছনে রয়েছে কোন কাহিনি? জেনে নিন।
পশ্চিমের দুনিয়ে এখন ভ্যালেনটাইনস ডে বা প্রেমের দিন উদযাপন করে। কিন্তু জানেন কি সনাতন ধর্মে আদি যুগ থেকেই এমন দিনের ধারণা রয়েছে। এই দিনটিকে পুরাণেও প্রেমের দিন হিসাবে মনে করা হয়। কোন দিন সেটি?

সেটি হল বসন্ত পঞ্চমীর দিন। বসন্ত পঞ্চমী বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে মা সরস্বতীর শ্বেতশুভ্র মূর্তিও আর হলুদ বসনের সমারোহ। কিন্তু প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য এবং জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই দিনটি কেবল বিদ্যার দেবীর আরাধনার জন্য নয়, বরং প্রেমের দেবতা কামদেব এবং দেবী রতির বিশেষ দিন হিসেবেও উদযাপিত হয়।
বসন্ত পঞ্চমী কেন ভারতীয় সংস্কৃতির প্রকৃত 'ভ্যালেন্টাইনস ডে' এবং এর পেছনে কামদেবের কী ভূমিকা রয়েছে, তা জেনে নিন।
বসন্ত পঞ্চমী ও কামদেব মদন: পৌরাণিক যোগসূত্র
সনাতন ধর্মে বসন্ত পঞ্চমীকে 'মদন পঞ্চমী'-ও বলা হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, একবার মহাদেব গভীর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। সেই সময় তারকাসুর নামক অসুরের অত্যাচারে দেবতারা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। শিবের পুত্রই কেবল তারকাসুরকে বধ করতে পারতেন, কিন্তু মহাদেব ধ্যানে থাকায় তা সম্ভব হচ্ছিল না।
তখন সমস্ত দেবতাদের অনুরোধে প্রেমের দেবতা কামদেব তাঁর পুষ্পধনুক নিয়ে মহাদেবের ধ্যান ভঙ্গ করতে যান। বসন্ত পঞ্চমীর এই পুণ্য তিথিতেই কামদেব মহাদেবের হৃদয়ে প্রেম জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। প্রকৃতিতে বসন্তের সঞ্চার ঘটিয়ে তিনি প্রেমের পরিবেশ তৈরি করেন। যদিও ক্রুদ্ধ শিব তাঁর তৃতীয় নয়ন খুলে কামদেবকে ভস্মীভূত করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাঁরই আশীর্বাদে কামদেব পুনর্জন্ম লাভ করেন। সেই থেকে বসন্ত পঞ্চমী কামদেব ও দেবী রতির মিলনের উৎসব হিসেবেও পরিচিত।
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রে কেন এটি 'প্রেমের দিন'?
পাশ্চাত্যের ভ্যালেন্টাইনস ডে-র বহু আগে থেকেই ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রে বসন্ত পঞ্চমীকে প্রেমের সর্বোত্তম সময় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
- অকাল বোধন ও শুভ মুহূর্ত: জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, বসন্ত পঞ্চমী হলো একটি 'অনুবোঝ' (Self-proved) মুহূর্ত। অর্থাৎ, এই দিনে কোনো শুভ কাজ করার জন্য আলাদা করে পঞ্জিকা দেখার প্রয়োজন হয় না। তাই বিবাহ বা বাগদানের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র।
- শুক্র ও চন্দ্রের প্রভাব: বসন্তকালে শুক্র গ্রহ এবং চন্দ্রের প্রভাব প্রকৃতিতে বৃদ্ধি পায়। শুক্র হলো ভোগ, প্রেম এবং আকর্ষণের কারক। এই সময়ে আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ থাকে, যা মানুষের মনে প্রেমের সঞ্চার করে।
- কামদেব ও রতির পূজা: জ্যোতিষ মতে, যাদের দাম্পত্য জীবনে সমস্যা রয়েছে বা যারা মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজছেন, তাদের জন্য এই দিনটি বিশেষ। এই দিন কামদেব ও রতির পূজা করলে সম্পর্কের তিক্ততা দূর হয় এবং প্রেম গাঢ় হয়।
বসন্ত পঞ্চমীর বিশেষ আচার
প্রাচীন ভারতের প্রথা অনুযায়ী, এই দিন মানুষ হলুদ পোশাক পরে সুগন্ধি ব্যবহার করত এবং একে অপরকে হলুদ আবির মাখিয়ে শুভেচ্ছা জানাত। হলুদ রং হলো প্রাণশক্তি এবং মিলনের প্রতীক। অনেক জায়গায় এই দিন দম্পতিরা একসঙ্গে কামদেবের পূজা করেন যাতে তাদের জীবনে সারা বছর বসন্তের মতো সজীবতা বজায় থাকে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


