রামচন্দ্রদের চার ভাইয়ের কথা তো জানেন, কিন্তু জানেন কি তাঁদের এক বোনও ছিলেন! কে সেই শান্তা? কী তাঁর কাহিনি
অযোধ্যার রাজা দশরথ এবং রানি কৌশল্যার প্রথম সন্তান ছিলেন এক কন্যা, যাঁর নাম রাখা হয়েছিল শান্তা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত রূপবতী, গুণবতী এবং শাস্ত্রজ্ঞ।
রামায়ণের মূল ধারার গল্পে আমরা রাম, লক্ষ্মণ, ভরত এবং শত্রুঘ্ন—এই চার ভাইয়ের বীরত্ব ও ভ্রাতৃত্বের কাহিনি শুনে অভ্যস্ত। কিন্তু বাল্মীকি রামায়ণ এবং বিশেষ করে লোকগাথা ও পুরাণে দশরথের এক কন্যার উল্লেখ পাওয়া যায়, যাঁর নাম শান্তা। তিনি ছিলেন শ্রীরামচন্দ্রের জ্যেষ্ঠা ভগিনী। অথচ অদ্ভুতভাবে রামায়ণের জনপ্রিয় সংস্করণে তিনি এক প্রকার পর্দার আড়ালেই থেকে গেছেন।

রাজকুমারী শান্তার জীবন, তাঁর ত্যাগ এবং রামের জন্মের পেছনে তাঁর ভূমিকা জেনে নিন এখান থেকে। তাঁর ত্যাগের ফলেই অযোধ্যায় এসেছিলেন শ্রীরাম।
অযোধ্যার রাজা দশরথ এবং রানি কৌশল্যার প্রথম সন্তান ছিলেন এক কন্যা, যাঁর নাম রাখা হয়েছিল শান্তা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত রূপবতী, গুণবতী এবং শাস্ত্রজ্ঞ। কিন্তু রামায়ণের পাঠক মহলে তাঁর পরিচিতি খুবই সামান্য। কেন তিনি রাজপ্রাসাদ ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন এবং কেনই বা রামের বোন হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাধারণের কাছে অপরিচিত, তার পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন কাহিনি।
শান্তার জন্ম ও দত্তক গ্রহণ
পুরাণ অনুযায়ী, অঙ্গদেশের রাজা রোমপাদ ছিলেন রাজা দশরথের পরম বন্ধু। রোমপাদ নিঃসন্তান ছিলেন বলে মনে মনে খুব দুঃখী ছিলেন। বন্ধুর কষ্ট দূর করতে দশরথ তাঁর প্রথম সন্তান শান্তাকে রোমপাদ ও তাঁর পত্নী বর্ষিণীর হাতে তুলে দেন। অর্থাৎ, শান্তা ছিলেন দশরথের ঔরসজাত সন্তান কিন্তু অঙ্গরাজ রোমপাদের দত্তক কন্যা। শান্তা অঙ্গদেশেই বড় হতে থাকেন এবং সেখানে তিনি রাজকুমারী হিসেবেই পরিচিত হন।
শান্তা ও ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির বিবাহ
শান্তার জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির সাথে তাঁর বিবাহ। লোকগাথা অনুযায়ী, একবার অঙ্গদেশে ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। বৃষ্টির অভাবে হাহাকার পড়ে যায় চারদিকে। ঋষিরা নিদান দেন যে, যদি পরম তপস্বী ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি অঙ্গদেশে পদার্পণ করেন, তবেই বৃষ্টি হবে। শান্তা নিজের বুদ্ধিমত্তা ও নিষ্ঠা দিয়ে মুনিকে অঙ্গদেশে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাঁর উপস্থিতিতে মরুপ্রায় অঙ্গদেশ শস্য-শ্যামল হয়ে ওঠে। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রাজা রোমপাদ তাঁর পালিতা কন্যা শান্তাকে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির সাথে বিবাহ দেন।
পুত্রকামেষ্টি যজ্ঞ ও রামের জন্ম
অযোধ্যার রাজা দশরথ যখন বার্ধক্যে উপনীত হলেন, তখন তিনি উত্তরাধিকারীহীন হওয়ার চিন্তায় মগ্ন ছিলেন। তাঁর কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। তখন ঋষি বশিষ্ঠের পরামর্শে দশরথ 'পুত্রকামেষ্টি যজ্ঞ' করার সিদ্ধান্ত নেন। এই মহাযজ্ঞ পরিচালনা করার জন্য একজন পরম শুদ্ধাচারী ব্রাহ্মণের প্রয়োজন ছিল। সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন দশরথের জামাতা ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি এবং তাঁর কন্যা শান্তা।
এই যজ্ঞের পূর্ণাহুতির পরই অগ্নিদেব দশরথকে যজ্ঞের চরু বা পায়েস প্রদান করেন, যা পান করে তিন রানি কৌশল্যা, কৈকেয়ী ও সুমিত্রা চার পুত্রের জন্ম দেন। অর্থাৎ, পরোক্ষভাবে শান্তার স্বামী এবং শান্তার উপস্থিতিতেই রামের জন্ম সম্ভব হয়েছিল।
ত্যাগের মহিমায় শান্তা
শান্তা সারাজীবন লোকচক্ষুর আড়ালে থেকেছেন। তিনি রাজপ্রাসাদের বিলাসিতা ছেড়ে বনে ঋষির আশ্রমে সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। রামায়ণের অনেক আঞ্চলিক সংস্করণে (যেমন— ওড়িশি বা তেলুগু রামায়ণ) শান্তার উল্লেখ অনেক বেশি পাওয়া যায়। দক্ষিণ ভারতের কিছু মন্দিরে শান্তা ও ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির পূজা আজও করা হয়।
রামের বড় বোন হওয়া সত্ত্বেও শান্তার কাহিনি আমাদের শেখায় যে, পারিবারিক ইতিহাসের প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে, এমনকি যদি তারা মূল ধারার প্রচারের আলোয় না-ও থাকে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


