...
...
Next Story

সনাতন ধর্মে বেলপাতাকে কেন এত পবিত্র বলে মনে করা হয়? জেনে নিন এর পৌরাণিক কাহিনি

শিবলিঙ্গে একটি বেলপাতা অর্পণ করলে যা পুণ্য হয়, তা অন্য কোনো বহুমূল্য উপহারেও সম্ভব নয়। বিশেষ করে মহাশিবরাত্রির পুণ্য তিথিতে এই পাতার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। বেলপাতার আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্যের কথা জেনে নিন।

Published on: Feb 15, 2026, 09:02:08 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

সনাতন ধর্মে মহাদেব বা শিবের আরাধনা বেলপাতা ছাড়া অসম্পূর্ণ। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, শিবলিঙ্গে একটি বেলপাতা অর্পণ করলে যা পুণ্য হয়, তা অন্য কোনো বহুমূল্য উপহারেও সম্ভব নয়। বিশেষ করে মহাশিবরাত্রির পুণ্য তিথিতে এই পাতার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। বেলপাতার আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য, পুজোর নিয়ম এবং এর জ্যোতিষশাস্ত্রীয় প্রভাব জেনে নিন।

বেলপাতার পবিত্রতা: পৌরাণিক ও আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপট

সনাতন ধর্মে বেলপাতাকে কেন এত পবিত্র বলে মনে করা হয়? জেনে নিন এর পৌরাণিক কাহিনি
সনাতন ধর্মে বেলপাতাকে কেন এত পবিত্র বলে মনে করা হয়? জেনে নিন এর পৌরাণিক কাহিনি

পুরাণ অনুসারে, বেলপাতার উৎপত্তি দেবী পার্বতীর ঘাম থেকে। 'স্কন্দ পুরাণ' অনুযায়ী, একবার দেবী পার্বতীর ললাট থেকে ঘাম মন্দার পর্বতে পড়েছিল এবং সেখান থেকেই বেলগাছের জন্ম। এই গাছের প্রতিটি অংশে দেবীর বিভিন্ন রূপের বাস। তাই মহাদেব এই বৃক্ষ এবং এর পাতাকে অত্যন্ত প্রিয় বলে গ্রহণ করেছেন।

বেলপাতার তিনটি ফলক বা পাতা সাধারণত একত্রে থাকে, যাকে 'ত্রিদল' বলা হয়। এই ত্রিদলের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য গভীর:

  • এটি সৃষ্টির তিন গুণ—সত্ত্ব, রজ ও তম-এর প্রতীক।
  • এটি মহাদেবের তিনটি চোখ বা তাঁর অস্ত্র ত্রিশূলের প্রতীক।
  • আবার এটি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর—এই ত্রিমূর্তির সংহতিকেও নির্দেশ করে।

মহাশিবরাত্রিতে বেলপাতার ব্যবহার ও নিয়ম

মহাশিবরাত্রির (Mahashivratri 2026) চার প্রহরের পুজোয় বেলপাতা অপরিহার্য। তবে মহাদেবকে এই পাতা অর্পণের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা পালন করলে পূর্ণ ফল পাওয়া যায়:

২. উল্টো করে অর্পণ: শিবলিঙ্গে বেলপাতা অর্পণের সময় পাতার মসৃণ বা পিচ্ছিল অংশটি (Front side) লিঙ্গের দিকে রাখতে হয়।

৩. চন্দন লেপন: বেলপাতার মাঝখানের পাতায় সাদা চন্দন দিয়ে 'ওঁ' বা রাম নাম লিখে অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

৪. সংগ্রহের নিয়ম: শিবরাত্রির দিন বেলপাতা না পাড়তে পারার বিধি আছে। তাই ভক্তরা সাধারণত একদিন আগেই পাতা সংগ্রহ করে রাখেন। শাস্ত্র মতে, বেলপাতা কখনও বাসি হয় না; এটি ধুয়ে বারবার ব্যবহার করা যায়।

বেলপাতার জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ও বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র এবং আয়ুর্বেদ বিজ্ঞানে বেলপাতাকে এক 'মহৌষধি' ও 'গ্রহদোষ নাশক' হিসেবে দেখা হয়।

  • গ্রহদোষ মুক্তি: জ্যোতিষ মতে, বেলগাছ বা বিল্ববৃক্ষ হলো চন্দ্র ও বুধ গ্রহের কারক। যাদের জন্মকুণ্ডলীতে এই দুই গ্রহ দুর্বল, তারা শিবরাত্রিতে শিবলিঙ্গে বেলপাতা অর্পণ করলে মানসিক শান্তি লাভ করেন এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। এছাড়া বাড়িতে বেলগাছ থাকলে তা বাস্তুদোষ দূর করে এবং নেতিবাচক শক্তি প্রবেশে বাধা দেয়।
  • আয়ুর্বেদিক গুণ: বৈজ্ঞানিকভাবে বেলপাতা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদানে সমৃদ্ধ। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেটের রোগ সারাতে সাহায্য করে।
  • দার্শনিক বার্তা: বেলপাতা আমাদের শেখায় যে, যা কিছু সাধারণ এবং সহজলভ্য, তার মধ্যেই ঈশ্বরের বাস। আড়ম্বরপূর্ণ পুজোর চেয়ে একটি ভক্তিভরে দেওয়া বেলপাতাই ভোলেনাথকে তুষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

বেলপাতা কেবল একটি সাধারণ পাতা নয়, এটি ত্যাগের ও সমর্পণের প্রতীক। মহাশিবরাত্রিতে শিবলিঙ্গে এই পাতা অর্পণ করার অর্থ হলো নিজের কাম, ক্রোধ ও লোভ—এই তিন রিপুকে মহাদেবের চরণে সঁপে দেওয়া। বিশ্বাসের সাথে সঠিক নিয়মে বেলপাতা অর্পণ করলে ভক্তের অকালমৃত্যুর ভয় দূর হয় এবং মোক্ষ লাভ হয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe