Thursday vrat puja vidhi rules: বৃহস্পতিবারের ব্রত ও পূজা বিধি! দূর হবে সংসারের সব আর্থিক অনটন ও বিয়ের বাধা
Thursday vrat puja vidhi rules: বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র এবং ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, কুণ্ডলীতে বৃহস্পতি গ্রহের অবস্থান দুর্বল হলে মানুষের জীবনে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার নিয়ম মেনে ব্রত রাখলে দেবগুরু অত্যন্ত প্রসন্ন হন এবং জাতকের ভাগ্যোদয় ঘটে।
Thursday vrat puja vidhi rules: হিন্দু সনাতন ধর্মে সপ্তাহের প্রতিটি দিনই কোনো না কোনো দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারের দিনটি অত্যন্ত পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এই দিনটিকে ‘গুরুবার’ বলা হয়, যা মূলত দেবগুরু বৃহস্পতি এবং জগতের পালনকর্তা ভগবান শ্রী হরির (বিষ্ণু) আরাধনার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

যাঁরা জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি, জ্ঞান ও মানসিক শান্তি লাভ করতে চান, তাঁদের জন্য বৃহস্পতিবারের ব্রত পালন করা অত্যন্ত অলৌকিক ফলদায়ক। বিশেষ করে অবিবাহিতদের বিয়েতে বাধা দূর করতে এবং পারিবারিক আর্থিক অনটন কাটাতে এই ব্রত দারুণ কার্যকরী। বৃহস্পতিবারের ব্রতর নিখুঁত পূজা বিধি, ব্রত কথা এবং কিছু বিশেষ নিয়ম জেনে নিন।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র এবং ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, কুণ্ডলীতে বৃহস্পতি গ্রহের অবস্থান দুর্বল হলে মানুষের জীবনে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার নিয়ম মেনে ব্রত রাখলে দেবগুরু অত্যন্ত প্রসন্ন হন এবং জাতকের ভাগ্যোদয় ঘটে।
বৃহস্পতিবার ব্রতর সহজ ও নিখুঁত পূজা বিধি
বৃহস্পতিবারের পূজা করার জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক:
- স্নান ও বস্ত্র পরিধান: এই দিন ব্রহ্ম মুহূর্তে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নেওয়া উচিত। স্নানের জলে সামান্য হলুদ মেশানো অত্যন্ত শুভ। যেহেতু হলুদ রঙ বৃহস্পতি ও ভগবান বিষ্ণুর অতি প্রিয়, তাই পূজার দিন হলুদ রঙের পোশাক পরিধান করা উচিত।
- পূজার প্রস্তুতি ও ঘট স্থাপন: বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে বা পূজার স্থানে একটি চৌকি পেতে তার ওপর হলুদ কাপড় বিছিয়ে ভগবান বিষ্ণু এবং দেবগুরু বৃহস্পতির ছবি বা মূর্তি স্থাপন করুন। তামার ঘটে জল ভরে তাতে একটি সুপুরি, কয়েন এবং আমপাতা দিয়ে ঘট স্থাপন করুন।
- কলাপাতা ও কলার চারা পূজা: বৃহস্পতিবার কলার চারা বা কলা গাছের বিশেষ পূজা করার বিধান রয়েছে। কলার গোড়ায় জল অর্পণ করুন, হলুদের তিলক লাগান এবং কাঁচা দুধ অর্পণ করুন।
- ভোগ ও আরতি: শ্রী হরিকে হলুদ রঙের ফুল, ছোলার ডাল, গুড় এবং হলুদ রঙের মিষ্টি (যেমন লাড্ডু) ভোগ হিসেবে নিবেদন করুন। এরপর ঘিয়ের প্রদীপ ও ধূপ জ্বালিয়ে বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করুন অথবা বিষ্ণুর আরতি করুন।
বৃহস্পতিবার ব্রত কথা ও তার গুরুত্ব
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এক প্রাচীন রাজ্যে এক অত্যন্ত দানশীল রাজা বাস করতেন। তাঁর রানী ছিলেন অত্যন্ত কৃপণ এবং তিনি সাধু-সন্ন্যাসীদের দান করা পছন্দ করতেন না। একবার ভগবান বৃহস্পতিদেব সাধুর বেশে রাজার প্রাসাদে আসেন এবং রানীর কাছে ভিক্ষা চান। রানী তখন গৃহের নানা অজুহাত দিয়ে সাধুকে বিদায় করতে চান। সাধুরূপী বৃহস্পতিদেব তখন রানীকে এমন কিছু কাজ করার পরামর্শ দেন, যার ফলে রানীর অলসতা ও অবহেলার কারণে ধীরে ধীরে রাজার সমস্ত ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায় এবং রাজ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
পরবর্তীতে রাজা ও রানী নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন এবং অন্য এক রাজ্যের রানীর পরামর্শে পুনরায় অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে বৃহস্পতিবারের ব্রত রাখা শুরু করেন। শ্রী হরির কৃপায় রাজা তাঁর হারানো রাজত্ব ও ধন-সম্পদ ফিরে পান। এই ব্রত কথা শ্রবণ বা পাঠ না করলে বৃহস্পতিবারের পূজা সম্পূর্ণ হয় না বলে মনে করা হয়।
বৃহস্পতিবারের ব্রত পালনে যা করবেন না
এই ব্রতের কিছু কঠোর নিয়ম রয়েছে, যা অমান্য করলে পূজার ফল মেলে না:
১. বৃহস্পতিবার ভুলেও মাথার চুল কাটা, দাড়ি কামানো বা নখ কাটা উচিত নয়।
২. এই দিনে ঘর মোছা বা কাপড় কাচার মতো কাজ নিষিদ্ধ থাকে, কারণ এতে লক্ষ্মীদেবী রুষ্ট হন।
৩. পূজায় ব্যবহৃত ছোলার ডাল বা গুড় নিজে ভোগ হিসেবে গ্রহণ করার আগে অন্য কাউকে বা গরুকে খাওয়ানো উচিত। এই দিন ব্রতকারীকে নুন ছাড়া খাবার বা হলুদ রঙের মিষ্টি ফল খেয়ে উপবাস ভাঙতে হয়।
ভগবান বিষ্ণু এবং দেবগুরু বৃহস্পতির আরাধনা মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল ও আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করে তোলে। মনের ভক্তি ও শুদ্ধতা বজায় রেখে প্রতি বৃহস্পতিবার এই ব্রত কথা পাঠ করলে এবং নিয়মগুলো মেনে চললে সংসারের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধির আগমন ঘটে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


