Vaishakh Kalashtami 2026 date: কাল ভৈরবের পুজো কেন করা হয়? এই বছর কবে পালিত হবে ব্রত, শুভ সময় আর মাহাত্ম্য় জানুন

Kaal Bhairav Puja timing: সনাতন ধর্মে কাল ভৈরবকে বলা হয় সময়ের দেবতা এবং অন্যায়ের বিনাশকারী। এই বছর কবে তাঁর পুজো? কী করলে শুভ ফল পাবেন? জেনে নিন। 

Published on: Apr 9, 2026, 12:40:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Kalashtami Vrat rituals: হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিটি 'কালাষ্টমী' হিসেবে পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনটি ভগবান শিবের রৌদ্র রূপ 'কাল ভৈরব'-কে উৎসর্গ করা হয়। ২০২৬ সালের বৈশাখ কালাষ্টমী ব্রত এবং এর তাৎপর্য জেনে নিন।

কাল ভৈরবের পুজোর শুভ সময় ও মাহাত্ম্য জানেন কি? এই বছর কবে পালিত হবে ব্রত
কাল ভৈরবের পুজোর শুভ সময় ও মাহাত্ম্য জানেন কি? এই বছর কবে পালিত হবে ব্রত

সনাতন ধর্মে কাল ভৈরবকে বলা হয় সময়ের দেবতা এবং অন্যায়ের বিনাশকারী। প্রতি মাসেই কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে কালাষ্টমী পালিত হলেও বৈশাখ মাসের কালাষ্টমীর গুরুত্ব অপরিসীম। ২০২৬ সালে এই দিনটি ভক্তদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

কালাষ্টমী ২০২৬-এর তারিখ ও শুভক্ষণ

  • ২০২৬ সালের বৈশাখ মাসের কালাষ্টমী ব্রত পালিত হবে ৯ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে।
  • অষ্টমী তিথি শুরু: ৮ এপ্রিল রাত থেকে।
  • অষ্টমী তিথি শেষ: ৯ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত।
  • জ্যোতিষশাস্ত্র এবং পঞ্জিকা অনুযায়ী, কাল ভৈরবের পূজা সাধারণত নিশীথ কালে (মধ্যরাতে) করা হয়। তাই ৯ এপ্রিল তারিখটিই মূল ব্রত ও পূজার জন্য প্রশস্ত।

কাল ভৈরবের স্বরূপ ও পৌরাণিক মাহাত্ম্য

শিবপুরাণ অনুসারে, শিবের রৌদ্র অবতার হলেন কাল ভৈরব। যখন ব্রহ্মা এবং শিবের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়, তখন শিবের ক্রোধ থেকে কাল ভৈরবের উৎপত্তি ঘটে। তাঁর বাহন হলো কুকুর। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনে নিষ্ঠাভরে পূজা করলে জীবনের সব প্রকার ভয়, বাধা এবং নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। একে ‘ভৈরব জয়ন্তী’ হিসেবেও অনেকে অভিহিত করেন।

পূজা বিধি ও নিয়মাবলী

কালাষ্টমীর দিনে কাল ভৈরবকে সন্তুষ্ট করতে কিছু বিশেষ আচার পালন করা হয়:

১. স্নান ও সংকল্প: ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে ব্রতের সংকল্প করতে হয়।

২. কাল ভৈরব পূজা: মন্দিরে বা বাড়িতে শিবলিঙ্গ অথবা কাল ভৈরবের মূর্তির সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা শুরু করুন। তাঁকে ফুল, বিল্বপত্র এবং বিশেষ করে কালো তিল অর্পণ করা শুভ।

৩. মধ্যরাতের আরতি: যেহেতু কাল ভৈরব তান্ত্রিক এবং রৌদ্র শক্তির প্রতীক, তাই মধ্যরাতে তাঁর আরতি ও মন্ত্র জপ করার বিধান রয়েছে। 'ওঁ কালভৈরবায় নমঃ' মন্ত্রটি জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।

৪. কুকুর সেবা: কাল ভৈরবের বাহন কুকুর হওয়ায়, এই দিনে কালো কুকুরকে রুটি বা মিষ্টি খাওয়ানো অত্যন্ত পুণ্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। মনে করা হয়, এতে গ্রহদোষ ও শনির কুদৃষ্টি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কালাষ্টমী ব্রতের ফল

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যারা নিষ্ঠার সাথে কালাষ্টমী পালন করেন, তারা অকাল মৃত্যুর ভয় থেকে মুক্তি পান। শত্রু দমন এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে আরোগ্য লাভের জন্য এই ব্রত অব্যর্থ। বিশেষ করে যারা রাহু বা শনির দশায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই দিনটি বিশেষ আশীর্বাদ স্বরূপ।

বৈশাখ কালাষ্টমী কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি নিজের ভেতরের ভয় ও অহংকারকে জয় করার দিন। ২০২৬ সালের এই পবিত্র দিনে নিয়ম মেনে পূজা করলে মহাদেবের আশীর্বাদে আপনার জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠতে পারে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More