Vastu tips for fridge: ফ্রিজের ওপর এই জিনিসগুলো রাখলেই কমবে ব্যাংক ব্যালেন্স! বাস্তু মেনে আজই সরিয়ে ফেলুন
Vastu tips for fridge: বাস্তুশাস্ত্রে মনে করা হয় যে, ফ্রিজ যেহেতু একটানা চলে এবং এটি একটি নির্দিষ্ট মেটালিক এনার্জি ও উত্তাপ তৈরি করে, তাই এর ওপর অতিরিক্ত বা ভুল জিনিসের উপস্থিতি ঘরের সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।
Vastu tips for fridge: আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ঘরের প্রতিটি আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেটের একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। আধুনিক গৃহস্থালির অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অংশ হলো রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ। বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুযায়ী, ঘরের প্রতিটি জড় বস্তুর একটি নিজস্ব শক্তি বা এনার্জি বলয় থাকে, যা আমাদের জীবনকে ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। ঠিক একইভাবে, ঘরের ঠিক কোন দিকে ফ্রিজ রাখা হচ্ছে এবং তার ওপরে বা চারপাশে কী রাখা হচ্ছে, তার ওপর পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি ও আর্থিক স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করে।

অনেকেই জায়গার অভাব বা অসচেতনতার কারণে ফ্রিজের ওপরে নানা ধরণের জিনিসপত্র রেখে দেন। বাস্তুর নিয়ম অনুসারে, ফ্রিজের ওপর ভুল কিছু জিনিস রাখা হলে তা ঘরে নেতিবাচক শক্তির জন্ম দেয়, যার ফলে হুট করে আর্থিক লোকসান এবং পারিবারিক অশান্তি দেখা দিতে পারে। সুস্থ পরিবেশ ও ঘরে লক্ষ্মীদেবীর কৃপা বজায় রাখার জন্য ফ্রিজ সংক্রান্ত জরুরি বাস্তু নিয়ম জেনে নিন।
বাস্তুশাস্ত্রে মনে করা হয় যে, ফ্রিজ যেহেতু একটানা চলে এবং এটি একটি নির্দিষ্ট মেটালিক এনার্জি ও উত্তাপ তৈরি করে, তাই এর ওপর অতিরিক্ত বা ভুল জিনিসের উপস্থিতি ঘরের সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।
১. ফ্রিজের ওপর ভুলেও টাকা বা মানিব্যাগ রাখবেন না
অনেকেরই অভ্যাস থাকে বাজার থেকে ফিরে ফ্রিজের ওপরেই খুচরো টাকা, ওয়ালেট বা মানিব্যাগ রেখে দেওয়া। বাস্তুর নিয়ম অনুসারে এটি অত্যন্ত বড় একটি ভুল। ফ্রিজ থেকে ক্রমাগত এক ধরণের কৃত্রিম তাপ বা এনার্জি নির্গত হয়। লক্ষ্মীদেবীকে চঞ্চলা মনে করা হয়, আর ধনের প্রতীক টাকা যদি এই ধরণের মেটালিক ও উত্তপ্ত স্থানে রাখা হয়, তবে ঘরের আর্থিক সচ্ছলতা নষ্ট হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়ে এবং জমানো টাকা জলের মতো খরচ হতে শুরু করে।
২. ওষুধের বাক্স বা ফার্স্ট এইড বক্স সরাতে হবে
রান্নাঘর বা ডাইনিং স্পেসে ফ্রিজ থাকার কারণে অনেকেই মনে রাখার সুবিধার্থে প্রতিদিনের ওষুধ ফ্রিজের ওপরে রেখে দেন। বাস্তু এবং আধুনিক বিজ্ঞান—উভয় মতেই এটি অনুচিত। ফ্রিজ থেকে বের হওয়া তাপ ওষুধের কার্যকারিতা যেমন কমিয়ে দিতে পারে, ঠিক তেমনই বাস্তুমতে এটি ঘরের সদস্যদের অসুস্থতাকে বাড়িয়ে দেয়। ফ্রিজের ওপর ওষুধ রাখলে তা রোগব্যাধিকে ঘরে স্থায়ী করে তোলে এবং চিকিৎসার পেছনে মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় হতে শুরু করে।
৩. ইনডোর প্ল্যান্ট বা গাছ রাখার ক্ষেত্রে নিয়ম
আজকাল অনেকেই ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ফ্রিজের ওপর ছোট ছোট টবে ইনডোর প্ল্যান্ট বা গাছ রাখেন। বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়েছে, ফ্রিজের ওপর ভুলেও ক্যাকটাস বা কাঁটাযুক্ত কোনো গাছ রাখা উচিত নয়। এটি ঘরে তীব্র নেতিবাচক শক্তি ও পারিবারিক কলহ ডেকে আনে। তবে আপনি যদি রাখতে চান, তবে ফ্রিজের ওপর ছোট একটি পাত্রে ‘মানি প্ল্যান্ট’ (Money Plant) বা বাঁশ গাছ (Bamboo Plant) রাখতে পারেন। এটি ফ্রিজের মেটালিক রাফ এনার্জিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ঘরে পজিটিভ ভাইবস নিয়ে আসে।
৪. মেডেল, ট্রফি বা কোনো কৃত্রিম শোপিস
বাচ্চাদের বা নিজেদের কোনো অর্জিত মেডেল, ট্রফি কিংবা কাচের ভারী শোপিস ফ্রিজের ওপর সাজিয়ে রাখা বাস্তুসম্মত নয়। ফ্রিজ একটি চলমান বস্তু যার মধ্যে হালকা কম্পন বা ভাইব্রেশন থাকে। এর ওপর আপনার সাফল্যের প্রতীক বা মেডেল রাখলে তা ক্যারিয়ারের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং মেধার বিকাশকে মন্থর করে দেয়।
৫. ফ্রিজ রাখার সবচেয়ে আদর্শ ও শুভ দিক
জিনিসপত্র রাখার পাশাপাশি ফ্রিজটি ঘরের কোন দিকে রাখা হয়েছে, তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের পশ্চিম (West) বা উত্তর-পশ্চিম (North-West) দিক ফ্রিজ রাখার জন্য সবচেয়ে সেরা। যদি রান্নাঘরে জায়গা কম থাকে, তবে উত্তর বা দক্ষিণ দিকে ফ্রিজ রাখা যেতে পারে, তবে খেয়াল রাখবেন ফ্রিজের পিছনের অংশ যেন দেওয়াল থেকে অন্তত কয়েক ইঞ্চি দূরে থাকে, যাতে ইতিবাচক শক্তি ও বায়ু চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
বাস্তুশাস্ত্র কোনো অলৌকিক বিষয় নয়, এটি হলো ঘরের শক্তির সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার একটি বিজ্ঞান। ফ্রিজের ওপর থেকে এই ভুল জিনিসগুলো আজই সরিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে আপনি নিজেই ঘরের পরিবেশের পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। সঠিক নিয়মের এই ছোট ছোট পরিবর্তন আপনার পরিবারে সুখ, শান্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসতে পারে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


