Vastu tips for medicines: ভুল দিকে ওষুধ রাখলেই বাড়ছে রোগব্যাধি ও খরচ! বাস্তু মেনে আজই বদলে ফেলুন ঘরের এই ৫টি জায়গা
Vastu tips for medicines: বাস্তুশাস্ত্রে মনে করা হয় যে, ওষুধ হলো এমন এক ধরণের উপাদান যা রোগ নিরাময় করে। তবে এটি যদি ঘরের ভুল কোণে বা ভুল এনার্জি জোনে রাখা হয়, তবে তা শরীরে ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং ঘরে ওষুধের স্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে ফেলে।
Vastu tips for medicines: আমাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য বাসস্থান বা ঘরের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্য বিজ্ঞান তথা ‘বাস্তুশাস্ত্র’ (Vastu Shastra) অনুযায়ী, ঘরের প্রতিটি বস্তুর একটি নির্দিষ্ট স্থান এবং নিজস্ব শক্তি বা এনার্জি রয়েছে। সঠিক স্থানে সঠিক জিনিস না রাখলে ঘরে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের স্বাস্থ্য ও সৌভাগ্যের ওপর। ঠিক একইভাবে, আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র রাখার ক্ষেত্রেও বাস্তুর কিছু বিশেষ নিয়ম রয়েছে।

ঘরের যেকোনো জায়গায় ভুল করে ওষুধ রাখলে তা পরিবারের সদস্যদের রোগব্যাধি বাড়িয়ে দিতে পারে এবং চিকিৎসার পেছনে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের কারণ হতে পারে। সুস্থ ও নীরোগ জীবন বজায় রাখার জন্য ঘরের ঠিক কোন স্থানে ওষুধ রাখা উচিত এবং কোন কোন জায়গা কঠোরভাবে এড়িয়ে চলা প্রয়োজন, তা জেনে নিন।
বাস্তুশাস্ত্রে মনে করা হয় যে, ওষুধ হলো এমন এক ধরণের উপাদান যা রোগ নিরাময় করে। তবে এটি যদি ঘরের ভুল কোণে বা ভুল এনার্জি জোনে রাখা হয়, তবে তা শরীরে ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং ঘরে ওষুধের স্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে ফেলে।
১. রান্নাঘরে ভুলেও ওষুধ রাখবেন না (Avoid Kitchen)
অনেকেরই অভ্যাস থাকে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ওষুধ বা ভিটামিনের কৌটো রান্নাঘরের কাউন্টারে বা মসলার র্যাকের আশেপাশে রাখা, যাতে খাওয়ার পর সহজেই মনে করে খাওয়া যায়। তবে বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, রান্নাঘর হলো অগ্নির (Fire Element) স্থান। অগ্নি যেখানে খাদ্য প্রস্তুত করে জীবন দান করে, সেখানে রোগ নিরাময়ের ওষুধ রাখা হলে তা বাস্তু দোষ তৈরি করে। রান্নাঘরের উত্তাপ ওষুধের শক্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, যার ফলে পরিবারের সদস্যদের ঘন ঘন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয় এবং ওষুধের খরচ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে।
২. শোবার ঘর বা বেডরুমের খাটের পাশে নিষেধাজ্ঞা (Avoid Bedside Table)
অনেকে রাতের ওষুধ খাওয়ার সুবিধার জন্য খাটের ঠিক পাশের টেবিলে বা মাথার শিয়রে ওষুধের বক্স রেখে দেন। বাস্তুর নিয়ম অনুসারে, এটি অত্যন্ত মারাত্মক একটি ভুল। শোবার ঘর হলো বিশ্রাম এবং মানসিক শান্তির জায়গা। ঘুমের সময় মাথার চারপাশে ওষুধের উপস্থিতি অবিরত অসুস্থতার কথা মনে করিয়ে দেয় এবং এক ধরণের মানসিক নেতিবাচক বলয় তৈরি করে। এর ফলে ঘরের মানুষের রোগ সহজে সারতে চায় না এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা পিছু ছাড়ে না।
৩. ওষুধের জন্য সেরা ও শুভ দিক কোনটি? (Best Vastu Direction)
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের ভেতরে ফার্স্ট এইড বক্স বা যেকোনো নিয়মিত ওষুধ রাখার সবচেয়ে আদর্শ স্থান হলো উত্তর-পূর্ব (North-East) দিক বা ঈশান কোণ অথবা উত্তর (North) দিক। উত্তর-পূর্ব দিককে আরোগ্যের দেবতা এবং ইতিবাচক শক্তির প্রবেশদ্বার মনে করা হয়। এই দিকে ওষুধ রাখলে তা দ্রুত শরীরে কাজ করে এবং মানুষ দ্রুত রোগমুক্ত হয়ে ওঠে। তবে মনে রাখবেন, ওষুধ যেন সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পাত্রে বা বক্সে ঢাকা অবস্থায় থাকে।
৪. দক্ষিণ-পশ্চিম দিক সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন (Avoid South-West)
ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম (South-West) দিকটিকে মূলত স্থায়িত্ব বা স্থিতিশীলতার দিক মনে করা হয়। এই কোণে যদি আপনি নিয়মিত খাওয়ার ওষুধ রেখে দেন, তবে বাস্তুর নিয়ম অনুযায়ী সেই ওষুধ আপনার জীবনে স্থায়ী আসন গেড়ে বসবে। অর্থাৎ, রোগ সহজে শরীর থেকে বিদায় নেবে না এবং মাসের পর মাস ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা বজায় থাকবে। তাই এই দিকটি ওষুধের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৫. সরাসরি সূর্যালোক ও বাথরুমের আশেপাশে সতর্কতা
বাস্তু এবং আধুনিক বিজ্ঞান—উভয় মতেই, ওষুধ কখনোই স্যাঁতসেঁতে জায়গা যেমন বাথরুমের কাছাকাছি কিংবা সরাসরি কড়া রোদের মধ্যে রাখা উচিত নয়। বাথরুমের নেতিবাচক এনার্জি এবং স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া ওষুধের গুণমান নষ্ট করে দেয়। ঘরের এমন একটি ড্রয়ার বা ক্যাবিনেট বেছে নিন যা উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকলেও সরাসরি প্রখর রোদ পড়ে না।
বাস্তুশাস্ত্র আমাদের জীবনকে প্রকৃতির উপাদানগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সাহায্য করে। ঘরের ছোট ছোট পরিবর্তনও অনেক সময় বড় ধরণের মানসিক ও শারীরিক স্বস্তি এনে দিতে পারে। তাই আজই আপনার ঘরের ওষুধের বাক্সটি ভুল জায়গা থেকে সরিয়ে বাস্তুসম্মত সঠিক দিকে রাখুন। সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি বাস্তুর এই ইতিবাচক নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার পরিবার সুস্থ ও নীরোগ থাকবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


