Vastu tips for keeping bag on floor: মেঝেতে ব্যাগ রাখলেই খালি হবে পকেট! জানুন বাস্তুশাস্ত্রের মতে ৫টি চরম ভুল কী কী
Vastu tips for keeping bag on floor: বাস্তুশাস্ত্রে মনে করা হয় যে, টাকা-পয়সা এবং সম্পদকে লক্ষ্মীদেবীর রূপ হিসেবে পুজো করা হয়। যে পাত্র বা ব্যাগে এই অর্থ রাখা হয়, তার প্রতি অনাদর দেখা দিলে ঘরে অলক্ষ্মীর আগমন ঘটে।
Vastu tips for keeping bag on floor: দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রতিটি অভ্যাসের সাথে যুক্ত থাকে শক্তির ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রবাহ। বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুযায়ী, ঘরের আসবাবপত্র এবং জিনিসপত্রের সঠিক ব্যবহারের ওপর পরিবারের মানসিক শান্তি ও আর্থিক স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করে। আমরা দৈনন্দিন কাজ, অফিস বা ব্যবসার প্রয়োজনে ব্যাগ, পার্স বা ওয়ালেট ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু অনেক সময়ই অসচেতনতাবশত কাজ শেষে বাড়ি ফিরে বা অফিসে ব্যাগটি সোজা মেঝের ওপর রেখে দিই।

মেঝের ওপর ব্যাগ রাখা কেবল পরিচ্ছন্নতার দিক থেকেই অনুচিত নয়, বরং বাস্তুশাস্ত্রে এটিকে এক মারাত্মক বাস্তুদোষ হিসেবে গণ্য করা হয়। ব্যাগে রাখা অর্থ, ব্যাংকিং কার্ড এবং দরকারি কাগজপত্র হলো সমৃদ্ধির প্রতীক। মেঝেতে ব্যাগ রাখার ফলে কীভাবে ঘরে অলক্ষ্মী বা নেতিবাচক শক্তির আগমন ঘটে এবং অর্থহানি দেখা দেয়, তার ৫টি মুখ্য কারণ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
বাস্তুশাস্ত্রে মনে করা হয় যে, টাকা-পয়সা এবং সম্পদকে লক্ষ্মীদেবীর রূপ হিসেবে পুজো করা হয়। যে পাত্র বা ব্যাগে এই অর্থ রাখা হয়, তার প্রতি অনাদর দেখা দিলে ঘরে অলক্ষ্মীর আগমন ঘটে।
১. ভূমি ও পৃথিবীর শক্তির অবমাননা
আমাদের ব্যবহৃত ব্যাগ বা ওয়ালেটের মধ্যে টাকা-পয়সা, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিস থাকে। যখন এই ব্যাগ সোজা মেঝের বা মাটির ওপর রেখে দেওয়া হয়, তখন শাস্ত্রীয় মতে সঞ্চিত ধনের অবমাননা করা হয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ধনের সরাসরি মেঝের সাথে সংযোগ ঘটলে সেই অর্থ দ্রুত অপচয় হতে শুরু করে এবং জমানো সঞ্চয় জলের মতো বেরিয়ে যায়।
২. লক্ষ্মীদেবী রুষ্ট হওয়া ও আর্থিক টানাপোড়েন
সনাতন ধর্মে অর্থ বা সম্পত্তিকে দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে সম্মান জানানো হয়। মেঝের ওপর ব্যাগ রেখে দেওয়াকে লক্ষ্মীদেবীর প্রতি অনাদর বা অবহেলা বলে মনে করা হয়। এর ফলে ঘরে আর্থিক অনটন, ব্যবসার কাজে ক্রমাগত বাধা এবং ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
৩. নেতিবাচক শক্তি বা রাফ এনার্জি শোষণ
ঘরের মেঝে বা মেঝে সংলগ্ন অংশ সব সময় ঘরের ধুলোবালি ও হাঁটাহাঁটির কারণে নানা ধরণের রাফ এনার্জি বা নেতিবাচক শক্তি বহন করে। ব্যাগ যখন মেঝের ওপর দীর্ঘদিন বা নিয়মিত রেখে দেওয়া হয়, তখন তা মেঝের সেই নেতিবাচক শক্তি শোষণ করে নেয়। পরবর্তীতে সেই ব্যাগ যখন আপনি নিজের সাথে বহন করেন বা তার ভেতর থেকে টাকা বের করেন, তখন তা মানসিক অশান্তি ও সিদ্ধান্তহীনতার জন্ম দেয়।
৪. ক্যারিয়ার ও ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে বাধা
চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের জন্য তাঁদের অফিস ব্যাগ বা ডায়েরি রাখার ব্যাগ অত্যন্ত শুভ একটি জিনিস। কাজের ব্যাগ মেঝের ওপর ফেলে রাখা মানে হলো নিজের জীবিকা ও কর্মক্ষেত্রের প্রতি অবহেলা করা। বাস্তু অনুযায়ী, এটি করলে চাকরিতে পদোন্নতি আটকে যায়, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে মতবিরোধ দেখা দেয় এবং ব্যবসার নতুন সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।
৫. পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যে প্রভাব
মেঝেতে ব্যাগ রাখার কারণে জমে থাকা নেতিবাচক শক্তি ঘরের সামগ্রিক পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলে। এর ফলে ঘরের প্রধান বা উপার্জনকারী সদস্যের ওপর মানসিকভাবে চাপ বাড়ে এবং কারণ ছাড়াই শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে, যার পেছনে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়ে যায়।
ব্যাগ রাখার সঠিক বাস্তু নিয়ম
- উঁচু স্থানে রাখুন: অফিস বা বাইরে থেকে ফেরার পর ব্যাগটি সর্বদা কোনো টেবিল, আলমারির তাক, র্যাক বা হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখুন।
- সঠিক দিক নির্বাচন: কাজের বা অর্থের ব্যাগ ঘরের উত্তর (North) বা উত্তর-পূর্ব (North-East) দিকে রাখা সবচেয়ে শুভ, কারণ এটি হলো কুবের ও লক্ষ্মীদেবীর দিক।
- পরিষ্কার রাখুন: ব্যাগের ভেতরে ছেঁড়া কাগজ, পুরানো বিল বা অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা জমিয়ে রাখবেন না, এতেও নেতিবাচক শক্তি বাড়ে।
ছোট ছোট বদলই জীবনে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দেয়। সাধারণ মনে হওয়া এই অভ্যাসটিকে আজই বদলে ফেলুন। ব্যাগ মেঝের ওপর না রেখে সঠিক স্থানে গুছিয়ে রাখার সামান্য এই অভ্যাস আপনার পরিবারে সুখ, শান্তি ও ধন-সম্পদের স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


