দেবী ভূবনেশ্বরী কে? তাঁর কৃপা লাভের জন্য পুজো করার নিয়ম কী কী
শক্তিবাদ অনুযায়ী, দেবী ভুবনেশ্বরী হলেন সেই মহাশক্তি যিনি মহাবিশ্ব বা সৃষ্টিকে ধারণ করে আছেন। তিনি শান্ত, সৌম্য এবং বরাভয়দাত্রী।
সনাতন ধর্ম ও তন্ত্রশাস্ত্রে বর্ণিত দশমহাবিদ্যার চতুর্থ রূপ হলেন মা ভুবনেশ্বরী। তিনি সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের ঈশ্বরী বা অধীশ্বরী। তাঁর নাম থেকেই স্পষ্ট যে, 'ভুবন' অর্থাৎ এই মহাবিশ্বের তিনি রক্ষাকর্ত্রী। শক্তিবাদের দর্শনে তাঁকে 'সগুণ ব্রহ্ম' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

মা ভুবনেশ্বরীর স্বরূপ, তাঁর উপাসনা পদ্ধতি এবং জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গুরুত্ব জেনে নিন।
দেবী ভুবনেশ্বরী কে? শক্তিবাদের ব্যাখ্যা
শক্তিবাদ (Shaktism) অনুযায়ী, দেবী ভুবনেশ্বরী হলেন সেই মহাশক্তি যিনি মহাবিশ্ব বা সৃষ্টিকে ধারণ করে আছেন। তিনি শান্ত, সৌম্য এবং বরাভয়দাত্রী। পুরাণ মতে, সৃষ্টির আদিতে যখন কিছুই ছিল না, তখন আদ্যাশক্তি ভুবনেশ্বরী রূপ ধারণ করে ব্রহ্মাণ্ডের কাঠামো তৈরি করেন। তাঁর গায়ের রং উদীয়মান সূর্যের মতো রক্তিম, এবং তিনি চন্দ্রকে মস্তকে ধারণ করেন। তিনি কেবল সৃষ্টি করেন না, বরং জগতের সমস্ত জীবের ভরণ-পোষণও করেন।
দেবী ভুবনেশ্বরীর পুজোর নিয়মাবলি
মা ভুবনেশ্বরীর আরাধনা করলে জাতক জাগতিক সুখ এবং আধ্যাত্মিক মুক্তি—উভয়ই লাভ করেন। তাঁর পুজো করার প্রধান নিয়মগুলো হলো:
১. শুচিতা ও সময়: ব্রহ্ম মুহূর্তে বা সূর্যোদয়ের সময় দেবীর আরাধনা করা শ্রেষ্ঠ। লাল বা গোলাপি রঙের বস্ত্র পরিধান করে পুজোয় বসা শুভ।
২. যন্ত্র পুজো: দেবীর 'ভুবনেশ্বরী যন্ত্র' স্থাপন করে তাতে চন্দন ও কুঙ্কুম দিয়ে পুজো করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
৩. নৈবেদ্য: দেবীকে পঞ্চামৃত, লাল ফল (যেমন—ডালিম বা আপেল) এবং মিষ্টান্ন ভোগ হিসেবে অর্পণ করা হয়।
৪. মন্ত্র জপ: দেবীর মূল মন্ত্র হলো 'হ্রীং' (Hreem)। এই একাাক্ষরী মন্ত্রটিকে 'মায়া বীজ' বলা হয়। ভক্তিভরে এই মন্ত্র জপ করলে মনের সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হয়।
৫. সত্ত্বগুণ বজায় রাখা: ভুবনেশ্বরী যেহেতু সৌম্য দেবী, তাই তাঁর পুজোর সময় ক্রোধ বর্জন করে শান্ত ও স্থির মনে ধ্যান করা প্রয়োজন।
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র কী বলছে?
জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রতিটি মহাবিদ্যা নির্দিষ্ট গ্রহের অশুভ প্রভাব দূর করতে সাহায্য করেন। দেবী ভুবনেশ্বরী মূলত চন্দ্র (Moon) গ্রহের সাথে সম্পর্কিত।
চন্দ্র দোষ খণ্ডন: যাদের কুণ্ডলীতে চন্দ্র দুর্বল বা নীচস্থ, যারা মানসিক অস্থিরতা বা অবসাদে ভোগেন, তাদের জন্য দেবী ভুবনেশ্বরীর আরাধনা মহৌষধের মতো কাজ করে।
বিলাসবহুল জীবন: চতুর্থ মহাবিদ্যা হওয়ার কারণে তিনি সুখ, সম্পত্তি এবং যানবাহনের কারক। তাঁর আশীর্বাদে জাতক রাজকীয় জীবন লাভ করেন।
মানসিক শক্তি: এই দেবীর উপাসনা করলে জাতকের আকর্ষণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে তাঁর সম্মান ও প্রতিপত্তি বেড়ে যায়।
কেন করবেন মা ভুবনেশ্বরীর উপাসনা?
যাঁরা জীবনে বারবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বা যাঁদের পারিবারিক জীবনে সুখের অভাব রয়েছে, মা ভুবনেশ্বরী তাঁদের জীবনের অন্ধকার দূর করেন। তিনি কেবল একজন দেবী নন, তিনি পরম আনন্দ ও মোক্ষের আধার। তাঁর উপাসনা মানুষকে কেবল ধন-সম্পদ নয়, বরং এক বিশাল হৃদয়ের অধিকারী করে তোলে।
E-Paper











