...
...
Next Story

তাঁকে বলা হয় রাজরাজেশ্বরী! অনায়াসেই সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় করেন তিনি, জানুন দেবী ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরীর কথা

দেবী ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরী হলেন সদাশিবের শক্তি। তিনি চার হাত বিশিষ্ট এবং রক্তবর্ণা। তাঁর হাতে রয়েছে ইক্ষু ধনু (আখের ধনুক), পাঁচটি পুষ্পবাণ, পাশ (শিকল) এবং অঙ্কুশ।

Published on: Feb 16, 2026, 11:43:56 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

শ্রীবিদ্যা বা শক্তিবাদ (Shaktism) অনুসারে, দশমহাবিদ্যার অন্যতম এবং পরমেশ্বরী রূপ হলেন দেবী ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরী। তাঁকে 'রাজরাজেশ্বরী' বা 'কামাক্ষী' নামেও ডাকা হয়। ললিতা কথার অর্থ হলো 'যিনি অনায়াসেই সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় করেন' অথবা 'যিনি সুন্দরী ও লাবণ্যময়ী'। তিনি ব্রহ্মাণ্ডের চূড়ান্ত শক্তি এবং আদি পরাশক্তির পূর্ণ বিকশিত রূপ।

তাঁকে বলা হয় রাজরাজেশ্বরী! অনায়াসেই সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় করেন তিনি
তাঁকে বলা হয় রাজরাজেশ্বরী! অনায়াসেই সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় করেন তিনি

ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরী দেবীর স্বরূপ, তাঁর পৌরাণিক আখ্যান এবং জ্যোতিষতাত্ত্বিক গুরুত্ব জেনে নিন।

ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরী: আদি পরাশক্তির রাজকীয় রূপ

শাস্ত্রমতে, দেবী ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরী হলেন সদাশিবের শক্তি। তিনি চার হাত বিশিষ্ট এবং রক্তবর্ণা। তাঁর হাতে রয়েছে ইক্ষু ধনু (আখের ধনুক), পাঁচটি পুষ্পবাণ, পাশ (শিকল) এবং অঙ্কুশ। তাঁর রূপ কেবল শারীরিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং তা ব্রহ্মজ্ঞানের পরম চেতনার বহিঃপ্রকাশ। তিনি 'শ্রীচক্র' বা শ্রীযন্ত্রের অধিশ্বরী।

দেবীর পৌরাণিক কাহিনি: ভণ্ডাসুর বধ

'ললিতা মাহাত্ম্য' অনুসারে, যখন কামদেবকে মহাদেব ভস্মীভূত করেছিলেন, সেই ভস্ম থেকে 'ভণ্ডাসুর' নামক এক শক্তিশালী অসুরের জন্ম হয়। ভণ্ডাসুর কঠোর তপস্যার মাধ্যমে ব্রহ্মার কাছ থেকে বর লাভ করে এবং দেবলোক আক্রমণ করে দেবতাদের শক্তিহীন করে দেয়। তখন দেবতারা আদি পরাশক্তির আরাধনা করেন।

দেবতাদের আহ্বানে এক প্রকাণ্ড হোমকুণ্ড বা 'মহাযাগ' থেকে ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরী আবির্ভূত হন। তিনি রাজরাজেশ্বরী রূপে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়ে ভণ্ডাসুরকে বধ করেন এবং সৃষ্টিতে পুনরায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনেন। এই কাহিনীটি মূলত আমাদের মনের কাম, ক্রোধ ও মোহ রূপী ভণ্ডাসুরকে বিনাশ করে আধ্যাত্মিক জয়ের প্রতীক।

কারা তাঁর পুজো করতে পারেন?

১. জ্যোতিষতাত্ত্বিক গুরুত্ব

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরী হলেন শুক্র (Venus) এবং বুধ (Mercury) গ্রহের নিয়ন্ত্রক।

  • শুক্রের প্রভাব: যাদের জন্মকুণ্ডলীতে শুক্র দুর্বল বা নিচস্থ, তারা দেবীর আরাধনা করলে প্রেম, বিলাসিতা এবং দাম্পত্য সুখ লাভ করেন।
  • বুদ্ধি ও বাকশক্তি: বুধের অশুভ দশা কাটাতে এবং শিক্ষার্থীদের বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে দেবীর 'ত্রিপুরসুন্দরী মন্ত্র' জপ করা অত্যন্ত কার্যকরী।
  • পূর্ণিমা তিথি: প্রতি পূর্ণিমায় শ্রীচক্র বা ললিতা দেবীর পুজো করলে নবগ্রহের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

২. শক্তিবাদের দৃষ্টিভঙ্গি

শক্তিবাদে তাঁকে 'কামকলা' বা পরম সৃজনশীলতার আধার বলা হয়। শ্রীবিদ্যার মতে, তিনি সৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু। সাধক যখন তাঁর আরাধনা করেন, তখন তিনি কেবল পার্থিব সুখ নয়, বরং 'মোক্ষ' বা মুক্তি লাভ করেন। তাঁর মন্ত্র 'শ্রীবিদ্যা' বা 'পঞ্চদশী মন্ত্র' জপ করলে কুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত হয়।

ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরী কেবল করুণাময়ী মাতা নন, তিনি আমাদের মনের অশুভ শক্তির বিনাশক। তাঁর আরাধনা আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা মানে জাগতিক ত্যাগ নয়, বরং জগতে থেকেও পূর্ণ ঐশ্বর্য ও আনন্দের সাথে ঈশ্বরকে লাভ করা। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে, যখন মানুষের জীবনে মানসিক অস্থিরতা বাড়ছে, তখন ললিতা দেবীর ধ্যান ও সহস্রনাম পাঠ মনের প্রশান্তির শ্রেষ্ঠ পথ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe