...
...
Next Story

মহাদেবকে অনেকে আশুতোষ নামেও ডাকেন, মহাশিবরাত্রিতে এই নামটি আরও প্রাসঙ্গিক কেন

মহাশিবরাত্রির পুণ্য লগ্নে এই নামটি ভক্তদের মুখে মুখে ফেরে। কেন শিবের আর এক নাম আশুতোষ? জানেন কি আপনি?

Published on: Feb 15, 2026, 17:58:35 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

দেবদাদিদেব মহাদেব অনন্ত গুণের অধিকারী। ভক্তরা তাঁকে কখনও 'নীলকণ্ঠ', কখনও 'মহাকাল', আবার কখনও 'ভোলেনাথ' নামে ডাকেন। তবে তাঁর সমস্ত নামের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ও তাৎপর্যপূর্ণ নাম হলো 'আশুতোষ'। বিশেষ করে মহাশিবরাত্রির পুণ্য লগ্নে এই নামটি ভক্তদের মুখে মুখে ফেরে। কেন শিবের আর এক নাম আশুতোষ? এর পেছনে লুকিয়ে থাকা পৌরাণিক রহস্য এবং মহাশিবরাত্রিতে এর প্রাসঙ্গিকতা জেনে নিন।

'আশুতোষ' শব্দের ব্যুৎপত্তি ও গূঢ় অর্থ

মহাদেবকে অনেকে আশুতোষ নামেও ডাকেন, মহাশিবরাত্রিতে এই নামটি আরও প্রাসঙ্গিক কেন
মহাদেবকে অনেকে আশুতোষ নামেও ডাকেন, মহাশিবরাত্রিতে এই নামটি আরও প্রাসঙ্গিক কেন

'আশুতোষ' শব্দটি সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত— 'আশু' এবং 'তোষ'।

  • আশু: এর অর্থ হলো 'শীঘ্র' বা 'খুব দ্রুত'।
  • তোষ: এর অর্থ হলো 'তুষ্ট হওয়া', 'সন্তোষ লাভ করা' বা 'প্রসন্ন হওয়া'।

অর্থাৎ, যিনি খুব সামান্য আরাধনাতেই দ্রুত সন্তুষ্ট হন, তিনিই হলেন আশুতোষ। হিন্দু দেবমন্ডলীর মধ্যে মহাদেবই একমাত্র দেবতা, যাঁকে তুষ্ট করতে কোনো জটিল যাগযজ্ঞ বা মহার্ঘ্য উপাচারের প্রয়োজন হয় না। কেবল ভক্তিভরে এক ঘটি জল আর একটি বেলপাতা দিলেই তিনি ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন।

আশুতোষ নামের নেপথ্যে পৌরাণিক কাহিনি

মহাদেবকে 'আশুতোষ' বলার পেছনে পুরাণে একাধিক কাহিনী বর্ণিত আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভস্মাসুর বধ এবং সমুদ্র মন্থনের কাহিনী।

  • ভস্মাসুরের বরদান ও শিবের সরলতা

একবার ভস্মাসুর নামে এক অসুর অমরত্ব লাভের আশায় মহাদেবের কঠোর তপস্যা শুরু করে। শিব এতটাই সরল এবং দয়ালু যে, অসুরের উদ্দেশ্য বিচার না করেই তিনি দ্রুত প্রকট হন। ভস্মাসুর বর চাইল যে, সে যাঁর মাথায় হাত রাখবে, সেই ব্যক্তিই ভস্মীভূত হয়ে যাবে। আশুতোষ মহাদেব বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে তাকে সেই বর দিয়ে দিলেন। যদিও পরবর্তীতে এই বরের কারণে শিব নিজেই বিপদে পড়েছিলেন এবং ভগবান বিষ্ণু মোহিনী রূপ ধারণ করে তাঁকে রক্ষা করেন, তবুও এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে শিব কতটা দ্রুত তাঁর ভক্তকে (তা সে অসুরই হোক না কেন) আশীর্বাদ করেন।

  • সমুদ্র মন্থন ও হলাহল পান

মহাশিবরাত্রি হলো শিব ও শক্তির মিলনের রাত। জ্যোতিষশাস্ত্র ও আধ্যাত্মিক মতে, এই রাতে মহাজাগতিক শক্তি এমন এক অবস্থায় থাকে যে মানুষের প্রার্থনা খুব দ্রুত ব্রহ্মাণ্ডে পৌঁছায়।

১. সহজ আরাধনা: যারা সারা বছর কঠিন নিয়মে পূজা করতে পারেন না, মহাশিবরাত্রির একটি দিন উপবাস থেকে তাঁর নাম নিলে তিনি প্রসন্ন হন। আশুতোষ বলেই তিনি এই বিশেষ রাতে তাঁর ভক্তদের জন্য আশীর্বাদের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন।

২. পাপ মুক্তি: বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে কেউ যদি অজান্তেও এই রাতে শিবের মাথায় জল ঢালেন (যেমনটি শিকারি ব্যাধের কাহিনীতে বর্ণিত আছে), আশুতোষ মহাদেব তাঁর পূর্বজন্মের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন।

৩. মনোবাঞ্ছা পূরণ: অবিবাহিত মেয়েদের সুপাত্র লাভ বা কেরিয়ারে বাধা দূর করতে 'আশুতোষ' মন্ত্র জপ করা এই রাতে অত্যন্ত ফলদায়ক।

জ্যোতিষশাস্ত্রীয় তাৎপর্য

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, মহাদেব হলেন চন্দ্রের নিয়ন্ত্রক। যাঁদের জন্মছকে চন্দ্র (Moon) দুর্বল বা নিচস্থ, তাঁদের জন্য শিবের 'আশুতোষ' রূপের আরাধনা এক অব্যর্থ ঔষধ।

  • এই নাম জপ করলে মানসিক অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা দ্রুত দূর হয়।
  • মহাশিরাত্রির রাতে 'ওঁ আশুতোষায় নমঃ' মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করলে কালসর্প দোষ বা রাহু-কেতুর অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মহাদেব কেবল সংহারকর্তা নন, তিনি পরম করুণাময় পিতা। তিনি আমাদের শেখান যে, শুদ্ধ মন থাকলে ঈশ্বরকে পাওয়া কঠিন কিছু নয়। আজকের এই ব্যস্ত জীবনে যেখানে ভক্তি দেখানোর চেয়ে আড়ম্বর বেশি, সেখানে 'আশুতোষ' নামটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে— ঈশ্বর কেবল ভালোবাসা ও সরলতার কাঙাল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe