21 July Mamata Banerjee: ঋত তৃণমূল নিয়ে অভিষেকের কথা মানলেন মমতা! ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে CJP-র আন্দোলনে যোগ দেওয়ার বার্তা

বক্তব্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ আন্দোলন, হকার উচ্ছেদ-সহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘তুমি প্রতীক কাড়লে, আমি ছাড়ব না। আমাদের প্রতীক কাড়তে পারে না। গায়ের জোরে করছে।’

Published on: Jul 21, 2026, 14:36:27 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Mamata Banerjee on 21st July: তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে এবারের ২১ জুলাই একেবারেই অন্যরকম। একদিকে দলের ভাঙন, অন্যদিকে একই দিনে দুই শিবিরের পৃথক শহিদ সমাবেশ। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চ থেকে একেবারে রণংদেহী মেজাজে বিজেপি ও বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু বিজেপিকেই নয়, দল ছেড়ে যাঁরা অন্য শিবিরে গিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী। একইসঙ্গে ঘোষণা করলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। প্রয়োজনে তিনি দিল্লিতে গিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনেও যোগ দেবেন।

বক্তব্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ আন্দোলন, হকার উচ্ছেদ-সহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা।
বক্তব্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ আন্দোলন, হকার উচ্ছেদ-সহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা।

সভামঞ্চ থেকে মমতা বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই কোনওভাবেই থামবে না। তিনি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় গিয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং মানুষের পাশে থাকবেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের ভয় দেখিয়ে, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হবে না বলেই দাবি করেন তিনি।

বক্তব্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ আন্দোলন, হকার উচ্ছেদ-সহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, 'তুমি প্রতীক কাড়লে, আমি ছাড়ব না। আমাদের প্রতীক কাড়তে পারে না। গায়ের জোরে করছে। আমি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। আর নাহলে আমি তোমাদেরও সবটা কেড়ে নেব।' তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

তবে এদিনের বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল দলত্যাগীদের নিয়ে তাঁর অবস্থান। সম্প্রতি একের পর এক নেতা-সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, 'বিজেপিতে যান। যত যাবেন খুশি হব। যে স্থান শূন্য হবে, তা পূরণের জন্য আমার ছাত্র, যুব আছে।' এরপর আরও কড়া ভাষায় তিনি যোগ করেন, 'চোরগুলো বিজেপিতে চলে গেছে। আর ফেরত নেব না। কালকের অপারেশন কারা করেছে, আমি প্রত্যেকটার নাম জানি।'

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে কার্যত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকেই সমর্থন করলেন তৃণমূল নেত্রী। এর কিছুক্ষণ আগেই একই মঞ্চ থেকে অভিষেক বিদ্রোহীদের আর কোনওদিন দলে না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনের জবাব দিতে গিয়ে মমতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'নকল বেড়াল তপস্বী না হয়ে, বিজেপির পাশবালিশ না হয়ে সরাসরি বিজেপিতে যান। আমরা বেঁচে গিয়েছি। চোরগুলো বিজেপিতে চলে গিয়েছে। না, নেব না। একদম নেব না। আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে। এই লড়াই তখনই থামবে, যখন দেখব আপদগুলো বিদায় নিয়েছে।'

সভায় উপস্থিত শহিদ পরিবারগুলিকেও ধন্যবাদ জানান মমতা। তিনি বলেন, 'এত প্রলোভন, টাকা, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা থাকা সত্ত্বেও শহিদ পরিবার এসেছেন। আমি কৃতজ্ঞ।' পাশাপাশি, সভার অনুমতি দেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে আজ সভায় বক্তব্য চলাকালীন ভিড়ের মধ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে মমতা মাইক্রোফোন থেকেই কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, এভাবে যাওয়া-আসা করলে পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবাইকে শান্তভাবে নিজের জায়গায় থাকার আবেদন জানান তিনি।

অন্যদিকে, কালীঘাট শিবিরের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে পিছিয়ে থাকেনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও। সেখান থেকে আবারও মমতা ও অভিষেককে নিশানা করেন প্রবীণ নেতা মদন মিত্র। তিনি বলেন, 'মমতার ক্ষমতা থাকে তো হেঁটে আসুন। কেউ ডিম ছুড়বে না। আপনি আসুন। একবারও দলের কথা ভাবলেন না? অভিষেক এক ঘণ্টা টাইম দিয়েছে, আপনি অভিষেকের হাত ছেড়ে দিন, আমরা আপনার সঙ্গে আছি।'

সব মিলিয়ে, এবারের ২১ জুলাই শুধুমাত্র শহিদ স্মরণের অনুষ্ঠান নয়, বরং তৃণমূলের অন্দরের সংঘাতের প্রকাশ্য মঞ্চ হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার বার্তা, অন্যদিকে বিদ্রোহীদের উদ্দেশে ‘আর ফেরত নয়’— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিল, দলীয় ভাঙনের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণেই এগোতে চাইছে তাঁর শিবির। একই সঙ্গে দুই তৃণমূল শিবিরের পাল্টাপাল্টি আক্রমণে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More