Janatar Darbar: জমি হাতায় সোনা পাপ্পুরা! ‘জনতার দরবারে’ মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ ভবানীপুরের অসহায় বৃদ্ধের

Janatar Darbar: স্কুল সার্ভিস কমিশনের মামলার জেরে চাকরি হারানো ২৬ হাজার ‘বঞ্চিত’ শিক্ষক-শিক্ষিকার পক্ষে এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁদের প্রতিনিধি সুমন বিশ্বাস। যোগ্যতার ভিত্তিতে দ্রুত চাকরি ফেরানোর আর্জি জানান তাঁরা।

Published on: May 25, 2026, 14:51:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Janatar Darbar: প্রশাসনিক ক্ষমতার বদলের পর থেকেই নতুন রূপ পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’ এখন সাধারণ মানুষের আশার আলো হয়ে উঠেছে। সোমবার সকালে সল্টলেকের বিজেপি দলীয় কার্যালয়ে ৮১ বছরের বৃদ্ধের প্রতারিত হওয়ার গল্প থেকে শুরু করে চাকরিপ্রার্থীদের ভিড় সেই বার্তাই যেন আরও জোরালো করে তুলল। পূর্ব ঘোষণা মতোই সপ্তাহের প্রথম দিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছিল ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিজেদের একগুচ্ছ অভাব-অভিযোগ ও দাবিদাওয়া নিয়ে হাজির হয়েছিলেন নানা পেশার মানুষ। আর তাঁদের অভাব-অভিযোগের সবটাই এদিন মন দিয়ে শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ ভবানীপুরের অসহায় বৃদ্ধের (সৌজন্যে টুইটার)
মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ ভবানীপুরের অসহায় বৃদ্ধের (সৌজন্যে টুইটার)

জমি হারিয়ে ভাড়াবাড়িতে অশীতিপর বৃদ্ধ

এ দিনের দরবারে করুণ ছবি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ভবানীপুরের বাসিন্দা, ৮১ বছর বয়সি প্রবীর মুখোপাধ্যায়। বৃদ্ধের অভিযোগ, জয় কামদার ও সোনা পাপ্পু নামের দুই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে চরম জালিয়াতি করেছেন। জমি জালিয়তির অভিযোগে ইতিমধ্যেই সোনা পাপ্পু ও ব্যবসায়ী জয় কামদার গ্রেফতার হয়েছে। শ্রীঘরে এই মামলার অন্যতম চক্রী কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। ওই বৃদ্ধের অভিযোগ, নিজের পৈতৃক সম্পত্তি প্রোমোটিংয়ের জন্য জয়ের হাতে তুলে দিলেও, বহুতল তৈরি হওয়ার পর তাঁকে কোনও ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি। উল্টে গ্রেফতার হওয়ার আগে জয় তাঁর কাছে আরও ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। বর্তমানে বৃদ্ধ স্ত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়াবাড়িতে চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর প্রবীরবাবুর চোখেমুখে কিছুটা স্বস্তির আলো দেখা যায়। তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হলাম। উনি বলেছেন আমার এই সমস্যার সমাধান করবেন।'

চাকরিহারাদের দরবার

স্কুল সার্ভিস কমিশনের মামলার জেরে চাকরি হারানো ২৬ হাজার ‘বঞ্চিত’ শিক্ষক-শিক্ষিকার পক্ষে এদিন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁদের প্রতিনিধি সুমন বিশ্বাস। যোগ্যতার ভিত্তিতে দ্রুত চাকরি ফেরানোর আর্জি জানান তাঁরা। এর পাশাপাশি রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে সরব হন মলয় সিং রায়। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে কারিগরি শিক্ষায় চরম দুর্নীতির কারণে কোনও স্থায়ী নিয়োগ হয়নি, যার ফলে বহু স্থায়ী পদ এখন অস্থায়ী পদে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি চাকরিতে অনাথদের জন্য রাখা বিশেষ কোটা বা সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হন সুচিত্রা দে। তাঁর দাবি, এই সংরক্ষণ উঠে যাওয়ার কারণে বহু অনাথ যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন।

নবান্নে যাওয়ার আগে সমাধানের আশ্বাস

মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পরেই আমজনতার অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য এই ‘জনতার দরবার’ চালুর কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে এই কর্মসূচি চলার কথা। গত সপ্তাহের পর এই সোমবারেও সেই নিয়ম মেনে দরবারে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন তাঁর পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায় ও শশী অগ্নিহোত্রী। দলীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থী সংগঠনের মোট ১৫টি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। ভিড় এতটাই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল যে পরিস্থিতি সামলাতে নিরাপত্তারক্ষীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। সকলের বক্তব্য শুনে যথাযথ পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়ে দুপুর ১২টা নাগাদ সল্টলেকের দফতর থেকে নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।