Girl child murder: শিশুটির দেহের ময়নাতদন্তের পর পকসো আইনে যৌন নির্যাতন ও খুনের মামলা দায়ের হয়। এরপর পুলিশ তদন্তে নামতেই বেগতিক বুঝে কলকাতা থেকে ওই যুবক পালিয়ে যায়। ট্রেনে করে চলে যায় উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায়।
Girl child murder: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের হাওয়া বেশ গরম রাজ্যে। বেশ কয়েকটি জেলায় শাসকদল এবং বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠে এসেছে। আর এই আবহে প্রেমিকার তিন বছরের শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতনের পর আছড়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তে নেমে ওই শিশুকন্যার মায়ের প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও গ্রেফতারের পরেই ধৃত যুবকের দাবি, ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকার কারণে খুনের ব্যাপারে তার কিছুই মনে নেই। ইতিমধ্যে ধৃতকে দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২১ মার্চ ময়দান এলাকায় নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতিতা শিশুকন্যাটি তার মায়ের সঙ্গে থাকত ময়দান এলাকায়। ওই মহিলার সঙ্গে রবীন্দ্রনগর এলাকার আক্রার বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর ওই মহিলা যুবকের সঙ্গে থাকতে শুরু করে। ওই যুগল দু’জনই মাদকাসক্ত। অভিযোগ, একাধিকবার মায়ের প্রেমিক তিন বছরের ওই শিশুটির যৌন নিগ্রহ করে। ঘটনার আগে হাতে কিছু টাকা পেয়েছিল ওই যুগল। ওই টাকা দিয়ে তারা মাদক কেনে। মাদক নিয়ে চরম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শিশুটিকে ঘিরে কোনও গোলমাল হয় যুগলের মধ্যে। অশান্তি চরমে পৌঁছলে শিশুটিকে তুলে ধরে মাটিতে আছাড় দেয় ওই যুবক। রক্তাক্ত অবস্থায় অনেকক্ষণ ধরে পড়ে ছিল শিশুটি।
নেশা কাটার পর শিশুটির মা মেয়েকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপরেই তিনি তড়িঘড়ি মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই শিশুকন্যাটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। শিশুটির দেহের ময়নাতদন্তের পর পকসো আইনে যৌন নির্যাতন ও খুনের মামলা দায়ের হয়। এরপর পুলিশ তদন্তে নামতেই বেগতিক বুঝে কলকাতা থেকে ওই যুবক পালিয়ে যায়। ট্রেনে করে চলে যায় উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায়। তবে সম্প্রতি ফের কলকাতায় ফিরে আসে সে। শুক্রবার ভোররাতে বাবুঘাটের কাছে ঘোরাঘুরি করছিল ওই যুবক। খবর পেয়েই ময়দান থানার পুলিশ পৌঁছে তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তের দাবি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকার কারণে তার কিছুই মনে নেই। তাই খুনের ‘মোটিভ’ সম্পর্কে ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও সে যে প্রেমিকার শিশুকন্যাকে আছড়ে খুন করেছে, তা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত। এই ঘটনার তদন্তে শিশুকন্যাটির মা ও অন্য পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে এলাকা জুড়ে। ভোটের মরসুমে এমন একটি গুরুতর ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।