Murshidabad News: 'বিধবা' ভাতা পাচ্ছেন পুরুষ! ৩৯ মাস ধরে মহিলার ৪০০০০ টাকা যুবকের অ্যাকাউন্টে

Murshidabad News: লালগোলা ব্লকের পণ্ডিতপুর বাগানপাড়া এলাকার ঘটনা। ওই এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বিবি। বছর পাঁচেক আগে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ, গত ৩৯ মাস ধরে রেহেনা বিবির ভাতার টাকা পাচ্ছিলেন মুর্শিদাবাদের লালগোলার যুবক জাহাঙ্গির আলম।

Published on: Jul 26, 2026, 23:54:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Murshidabad News: বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে শয়ে শয়ে 'পুরুষ লক্ষ্মী'র খোঁজ পাওয়া যায়য। এবার মিলল পুরুষ বিধবার খোঁজ। এবার বিধবা ভাতা নিয়ে বড়সড় অভিযোগ সামনে এল মুর্শিদাবাদের লালগোলায়। দিনের পর দিন যোগ্য দাবিদার মানসিক ভারসাম্যহীন বিধবাকে বঞ্চিত করে এক পুরুষের অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল শুরু হয়েছে এলাকায়।

'বিধবা' ভাতা পাচ্ছেন পুরুষ!
'বিধবা' ভাতা পাচ্ছেন পুরুষ!

লালগোলা ব্লকের পণ্ডিতপুর বাগানপাড়া এলাকার ঘটনা। ওই এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বিবি। বছর পাঁচেক আগে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ, গত ৩৯ মাস ধরে রেহেনা বিবির ভাতার টাকা পাচ্ছিলেন মুর্শিদাবাদের লালগোলার যুবক জাহাঙ্গির আলম। প্রায় ৪০ হাজার টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ। রেহেনা বিবির পরিবারের অভিযোগ, অনেক দিন তাঁর জন্য বিধবা ভাতার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আবেদনের পরেও কোনও মাসেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকত না। প্রথমে অনেকেরই মনে হয়েছিল আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনও ত্রুটির কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে। পরে আবারও আবেদন করা হয়। তার পরেও চিত্র বদলায়নি। বিডিও অফিসে গিয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে রেহেনার পরিবারের।

ওই মহিলার কন্যার কথায়, ‘আমার মায়ের মানসিক অবস্থা ঠিক নেই। বাবা মারা যাওয়ার পর বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু মায়ের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকাই ঢুকত না। বিডিও অফিসে গিয়ে জানতে পারলাম মায়ের বিধবা ভাতার টাকা এত দিন ধরে জাহাঙ্গির নামে একজনের অ্যাকাউন্টে ঢুকছিল।’ জাহাঙ্গির একই এলাকার বাসিন্দা। রেহেনার পরিবারের দাবি, বিষয়টি নজরে আসতেই পুলিশ-প্রশাসনে জানানো হয়। কিন্তু কোনও সুরাহা মেলেনি। জালিয়াতি ও ভুল শুধরে প্রাপ্য ভাতা ফেরানোর আর্জি নিয়ে লালগোলার বিডিও থেকে থানা-সর্বত্র যাওয়া হয়। বার বার অভিযোগ জানানো হয়। অভিযোগ, প্রশাসনের তরফে কোনও সাহায্য মেলেনি। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকারের কাছে আবার একই আবেদন করছে রেহেনার পরিবার। শুধু বিধবা ভাতা ফেরত বা ভুল সংশোধন নয়, কার দোষে এমন ঘটল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে ওই ভুক্তভোগীর পরিবার। উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে রেহেনার পরিবার। যদিও এ ব্যাপারে থানায় এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি।

মাসিক এই ভাতার টাকা পাওয়ার অধিকার যার, সেই রেহেনা বিবি যখন অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তখন অন্য কারও অ্যাকাউন্টে মাসের পর মাস টাকা ঢোকার কথা জানতে পেরে এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও। কীভাবে এত বড় ভুল বা জালিয়াতি বছরের পর বছর প্রশাসনিক নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এদিকে, জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি কোনও কথা বলতে চাননি। এলাকার বাসিন্দা মুসাদুকুর আলম জানান, ৬ মাস পর জানা যায়, অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে। বিডিও অফিসে যাওয়া হয়। সেখানে বেশ কয়েকবার ঘোরাতে থাকেন আধিকারিকরা। থানায় যাওয়া হয়। তাতেও কোনও লাভ হয় না। সালিশির ব্যবস্থা করা হয়। তারপরও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।