Abhishek Banerjee Health: গা বমি-বমি ভাব, চলেছে অক্সিজেন! বাড়িতেই হাসপাতাল পরিকাঠামোয় চিকিৎসাধীন অভিষেক
Abhishek Banerjee Health: গতকালই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁজ নিতে তাঁকে ফোন করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার পরামর্শও দিয়েছেন বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Abhishek Banerjee Health: ভর্তি নেয়নি একের পর এক বেসরকারি হাসপাতাল। সোনারপুরে তুমুল হেনস্তার শিকার হয়ে কলকাতায় ফেরার পথে সোজা বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে 'চিকিৎসা হচ্ছে না' বলে তড়িঘড়ি তাঁকে নিজের গাড়িতে তুলে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দ্বিতীয় হাসপাতালও পরীক্ষার পর জানিয়ে দেয়, 'কোনও গুরুতর চোট নেই তাঁর। ভর্তির প্রয়োজন নেই।' তাই ২ ঘণ্টা ইনটেনশিভ থেরাপি ইউনিট (আইটিইউ)-এ রাখার পর সাধারণ কিছু ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরপর দুটি হাসপাতালই 'ফিট' সার্টিফিকেট দেওয়ায় রাতেই কালীঘাট রোডের বাড়িতে ফেরেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, বিজেপির চাপেই কোনও হাসপাতাল অভিষেককে ভর্তি নেয়নি।

বাড়িতেই হাসপাতাল পরিকাঠামো তৈরি
জানা গেছে, বর্তমানে বাড়িতেই রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই কার্যত হাসপাতাল পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন দু’জন চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা হচ্ছে তৃণমূল সাংসদের। আপাতত, স্যালাইন চলছে তাঁর। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ব্যথার ওষুধ। খাবার আগে গ্যাসের ওষুধ খেতে হয়েছে। আর রাতের খাবারের পর ব্যথার ওষুধ। সূত্রের খবর, আচমকা ঘিরে ধরে মারধরের ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বেগে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতে গা বমি ভাব ছিল। বারবার প্রেসার ওঠা নামা করছে বলেও জানা গিয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে অক্সিজেন চলেছে ডায়মন্ড-হারবারের সাংসদের। রাতের পর সকালেও একবার অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে তাঁকে। স্যালাইনের ব্যবস্থাও রয়েছে বাড়িতে। আইসিইউ ট্রেনড নার্সের নজরদারিতে রয়েছেন অভিষেক। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসক। সূত্রের খবর, চোখে পুরনো সমস্যা রয়েছে অভিষেকের। আর গতকালের ঘটনায় তাঁর চশমা ভেঙে যাওয়াতে চোখে নতুন করে কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা, সেদিকটিও লক্ষ রাখা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত অভিষেকের বাড়িতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শুধু একা নন, রাত পর্যন্ত ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ও।
গতকালই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছিলেন, অভিষেকের খোঁজ নিতে তাঁকে ফোন করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। অভিষেককে হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার পরামর্শও দিয়েছেন বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সূত্রের খবর, এখনই অভিষেককে হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। আপাতত কয়েকদিন বাড়িতে চিকিৎসা পরিকাঠামোয় বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই জানা গিয়েছে। আপাতত অভিষেকের বাড়িতে লোকজন আসার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে কী অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর?
হাসপাতাল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বের করে আনার পর বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেককে ভর্তি না নেওয়ার পিছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি যখন ওই হাসপাতালের কর্তার সঙ্গে বসেছিলাম। তিনি আমাকে বলছিলেন, বিভিন্ন পুলিশের কাছ থেকে থ্রেট কল পাচ্ছেন। বিশেষ করে ডিসি সাউথ। সঙ্গে বিজেপি নেতারা। অভিষেককে ভর্তি না নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। চিকিৎসকরা দুঃখিত।' তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'অভিষেককে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাড়ির মধ্যে হাসপাতালের মতো করা হচ্ছে। বাড়িই হাসপাতাল হবে।'
সোনারপুরে কী হয়েছে?
শনিবার মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে দেখা করতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কামালগাছি সিগন্যালে তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার পাশাপাশি ডিম-কাদা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশি নিরাপত্তায় সেখান থেকে বের হয়েই প্রথমে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে যান অভিষেক। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ডাক্তারদের তরফে জানানো হয়, ভর্তির প্রয়োজন নেই। এরপর মিন্টো পার্কের ধারে আর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও একই কথা বলা হয়। এই পুরো সময়ে অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
E-Paper

