Adhir Chowdhury: মমতার অবশিষ্ট তৃণমূলকেও শেষ করতে চান অধীর, ঘাসফুল কর্মীদের কংগ্রেসে যোগদানের ডাক

মুর্শিদাবাদে এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অধীর দাবি করেন, তৃণমূলের অন্দরেই এখন গভীর অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং সেই পরিস্থিতিতে বহু কর্মী ও নেতা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এই আবহেই তাঁদের কংগ্রেসের পতাকার তলায় আসার ডাক দেন তিনি।

Published on: Jun 4, 2026, 11:20:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মুর্শিদাবাদে এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের অন্দরেই এখন গভীর অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং সেই পরিস্থিতিতে বহু কর্মী ও নেতা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এই আবহেই তাঁদের কংগ্রেসের পতাকার তলায় আসার ডাক দেন তিনি।

তৃণমূল কর্মীদের কংগ্রেসের পতাকার তলায় আসার ডাক দেন অধীর (PTI)
তৃণমূল কর্মীদের কংগ্রেসের পতাকার তলায় আসার ডাক দেন অধীর (PTI)

অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে দলের ভিতরে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। একাধিক বিধায়ক ও নেতার অবস্থান নিয়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে বলে তাঁর দাবি। এই অবস্থায় কংগ্রেসই প্রকৃত রাজনৈতিক বিকল্প হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, একদা কংগ্রেসের হাত ধরেই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। পরে কংগ্রেস ভাঙিয়ে তাদের প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলেন মমতা। এমনকী উপনির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের পরও তাদের বিধায়ককে ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল। মুর্শিদাবাদ জেলায় অধীরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বহু নেতাকে তৃণমূল ভাঙিয়েছিল দীর্ঘ সময় ধরে। সেই মুর্শিদাবাদে এবার খাতা খুলেছে কংগ্রেসের। আর ২২টির মধ্যে তৃণমূল মাত্র ৯টি আসনে জিতেছিল এবার। তার মধ্যে ৮ জন বিধায়কও আবার মমতাকে সঙ্গ না দিয়ে ঋতব্রতর দলে। এই পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক ভাবে তৃণমূলকে আরও দুর্বল করতে নীচু তলার কর্মীদের হাত শিবিরে হাত মেলাতে বলছেন অধীর।

অধীরের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত অনেক কর্মী আজ নিজেদের রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত বলে মনে করছেন। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কংগ্রেসের দরজা খোলা রয়েছে এবং যারা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিসরে কাজ করতে চান, তাঁদের স্বাগত জানানো হবে। তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূলের অনেক কর্মী ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে অধীর বলেন, এই জেলায় কংগ্রেসের সংগঠন এখনও শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে তৃণমূল ছেড়ে আসা কর্মীদের জন্য এখানে রাজনৈতিকভাবে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস শুরু হয়েছে, তার প্রভাব মুর্শিদাবাদেও পড়বে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পর তৃণমূলের একাংশের মধ্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই পরিস্থিতিকেই সামনে রেখে অধীর রঞ্জন চৌধুরী কংগ্রেসের সংগঠন সম্প্রসারণের বার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, তৃণমূলের হতাশ কর্মীদের জন্য কংগ্রেস একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক মঞ্চ হতে পারে। সব মিলিয়ে, তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই প্রকাশ্য আহ্বান মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে তাঁর এই মন্তব্য আগামী দিনে দলবদল বা রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More