মতুয়াদের নাগরিকত্ব সংকটে অর্ডিন্যান্স জারি করুক কেন্দ্র, শাহকে চিঠি অধীরের
নাগরিকত্বের এই জটিলতার কারণে বহু মতুয়া পরিবার ভোটাধিকার হারানোর ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলেও দাবি প্রাক্তন বহরমপুর সাংসদের। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের অবমাননা।
মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিজিইসিত শাহকে বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়ে মতুয়াদের জন্য বিশেষ বিধানসহ অর্ডিন্যান্স জারি করার আবেদন জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর-এ কঠোর নথিপত্রের শর্ত বহু মতুয়া নাগরিকের কাছে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। ফলে বছরের পর বছর ধরে ভারতে বসবাস করেও তাঁরা আজ প্রশাসনিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: বিধানভবনে হামলার প্রতিবাদে বিজেপির দফতরের সামনে বিক্ষোভ কংগ্রেসের
অধীরের বক্তব্য, পূর্ব পাকিস্তানে ধর্মীয় নির্যাতনের জেরে বহু মতুয়া পরিবার দশকের পর দশক আগে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। তারা আজ এই দেশের সামাজিক কাঠামো, সংস্কৃতি, অর্থনীতির অঙ্গ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার। অথচ এখন তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যা তাঁর মতে শুধু অন্যায় নয়, মানবিকতার বিরুদ্ধেও আঘাত। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত, প্রতিবেশী দেশের ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আসা নাগরিকদের ক্ষেত্রে সিএএ-র কাট অফ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে বাড়িয়ে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ করা হয়েছে। অধীরের দাবি, এই নীতিগত পরিবর্তন দেখিয়ে মতুয়াদের ক্ষেত্রেও একই রকম ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। তাঁর যুক্তি, যারা বহু দশক আগে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাঁদের নাগরিকত্ব সুরক্ষায় শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই অর্ডিন্যান্স আনাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
নাগরিকত্বের এই জটিলতার কারণে বহু মতুয়া পরিবার ভোটাধিকার হারানোর ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলেও দাবি প্রাক্তন বহরমপুর সাংসদের। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের অবমাননা। তাই শুধু মতুয়া নয়, অনুরূপভাবে পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব সুরক্ষায় কেন্দ্রকে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের আমন্ত্রণে ঠাকুরনগরের অনশন মঞ্চে গিয়ে অনশনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন অধীর। সেখানে তৃণমূল সাংসদ মমতা বালা ঠাকুরের উপস্থিতিতেও তিনি আতঙ্কগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তা সরেজমিনে শোনেন। তিনি বলেন, মানুষ কয়েক দশক ধরে এখানে বাস করছেন, ভোট দিচ্ছেন, প্রতিনিধি নির্বাচন করছেন। অথচ আজ তাঁদের কাছে ২৫ বছরের পুরনো নথি চাওয়া হচ্ছে, এটা অমানবিক, অবজ্ঞাসূচক এবং সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ সংবেদনশীলতার অভাব। মতুয়াদের নাগরিকত্ব সুরক্ষার লড়াইয়ে তিনি পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন অধীর চৌধুরী।












