Amit Shah: 'এটাই মোদীজির উপহার...,' বঙ্গজয়ে মিষ্টিমুখ, বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানার শিলান্যাস করে বিশেষ বার্তা শাহ'র

Amul Bengal Dairy Project: রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই শিল্প নিয়ে যে বড় বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তারই ফলশ্রুতি হিসেবে গুজরাটের বিশ্বস্ত সংস্থা 'আমুল' বাংলায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় এবং রাজ্য সরকারের তরফেও দ্রুত সমস্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়। 

Published on: Jul 19, 2026, 19:38:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Amul Bengal Dairy Project: বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ছাব্বিশে বঙ্গজয় করেছে বিজেপি। আর পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর থেকেই শিল্পায়নের এক নতুন জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে অনীহা কাটিয়ে ফের বাংলায় মুখ ফেরাচ্ছেন দেশের বড় বড় শিল্পপতিরা। শিল্পক্ষেত্রে জোয়ার আনতে উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেই রাজ্যে তৈরি হতে চলেছে বিশ্বখ্যাত দুগ্ধজাত ব্র্যান্ড ‘আমুল’-এর এক বিশাল দইয়ের কারখানা। আজ, রবিবার এই ঐতিহাসিক ‘আমুল বেঙ্গল ডেয়ারি’ দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভার্চুয়াল সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানার শিলান্যাস করে বিশেষ বার্তা অমিত শাহ'র (Debajyoti Chakraborty)
বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানার শিলান্যাস করে বিশেষ বার্তা অমিত শাহ'র (Debajyoti Chakraborty)

রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই শিল্প নিয়ে যে বড় বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তারই ফলশ্রুতি হিসেবে গুজরাটের বিশ্বস্ত সংস্থা 'আমুল' বাংলায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় এবং রাজ্য সরকারের তরফেও দ্রুত সমস্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়। হাওড়ার সাঁকরাইলের এই অত্যাধুনিক ডেয়ারি প্ল্যান্টটি তৈরি করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কারখানাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই কারখানা হতে চলেছে। ৬৫০ কোটি টাকার এই প্রকল্প ঘিরে হবে প্রচুর কর্মসংস্থান। আর এটাই বঙ্গজয়ে বঙ্গবাসীকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপহার - মিষ্টি দই দিয়ে মিষ্টিমুখ করানো। এদিন কারখানার শিলান্যাস করে এমনই জানিয়েছেন অমিত শাহ।

এদিন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আমুল কারখানার শিলান্যাস অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।অমিত শাহ অবশ্য আমুল কারখানার এই বৃহৎ প্রকল্পকে দেখছেন একটু অন্যভাবে। তাঁর বক্তব্য, ‘বঙ্গজয়ের পর এটা সবচেয়ে বড় শিল্প প্রকল্প। বঙ্গবাসীকে মিষ্টি দই খাওয়ালাম। এটাই মোদীজির উপহার। এখানকার মিষ্টি দই খেয়ে গোটা দেশের মানুষ আমাদের দু'হাত তুলে আশীর্বাদ করবেন।' এই মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিঁধতেও ছাড়েননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় যে শিল্প-সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা ছিল, তাকে পুরোপুরি মুছে ফেলেছে বিগত সরকার। কিন্তু বিজেপি বরাবর বাংলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই বিগত জমানায় যা যা হয়নি, তার সবটাই এবার হবে বলে আশ্বাস অমিত শাহর।

রাজ্যে বিজেপি সরকারের আমলে দ্বিতীয় দফায় 'আমুল বিপ্লব' শুরু হয়েছে। ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাঁকরাইলে যে আমুল প্ল্যান্টটি তৈরি হবে, সেখানে দুগ্ধজাত সমস্ত পণ্য মিলবে। এখান থেকেই গোটা দেশে দই সরবরাহ করা হবে। বেশি চাহিদা মিষ্টি দইয়ের। তাই উৎপাদনের ক্ষেত্রে মিষ্টি দইতে বাড়তি নজর থাকবে। এই গোটা বিষয়টিকে 'সাদা বিপ্লব' বলে অভিহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে আরও একটি আমুল কারখানা তৈরি হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সংস্থার কাছে আবেদন, এবার এরাজ্যে আইসক্রিম কারখানা তৈরি করা হোক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সমবায়কে শক্তিশালী না করলে আর্থিক কাঠামো পোক্ত হয় না। তাই আমুল কারখানার সঙ্গে জড়িয়ে নিতে হবে স্থানীয় গোয়ালাদের। তিনি আরও জানান, এলাকার অন্তত ৩৬ লক্ষ গোয়ালার আর্থিক সংস্থান হবে এখান থেকে। সেই সঙ্গ বিগত তৃণমূল সরকারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, বাড়িতে বসে এই শিল্পবিপ্লব দেখছেন।