'অত্যধিক কাজের চাপ', রাজ্যে ফের BLO-র মৃত্যু,রিপোর্ট চাইলেন CEO, গুজরাটে কী হল?
কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলা এলাকায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন বছর একান্নর রিঙ্কু তরফদার।
এসআইআর আবহে ফের রাজ্যে আত্মঘাতী বিএলও। জলপাইগুড়ির মালবাজারের পর এবার ঘটনাস্থল নদিয়ার কৃষ্ণনগর। শনিবার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় রিঙ্কু তরফদার নামে এক বিএলও-র ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় নদিয়ার জেলাশাসক তথা ডিইও-র কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল। কী কারণে ওই বুথ লেভেল অফিসারের মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলেছেন রাজ্যের সিইও।

কৃষ্ণনগরে বিএলও-র মৃত্যু
জানা গেছে, কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলা এলাকায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন বছর একান্নর রিঙ্কু তরফদার। তিনি পেশায় পার্শ্বশিক্ষক ছিলেন এবং চাপরা বাঙালি স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যা মন্দিরে পড়াতেন। পাশাপাশি নদিয়ার চাপড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ২০১ নম্বর বুথে বিএলও-র দায়িত্ব পালন করতেন। এদিন ষষ্ঠীতলায় বাড়ি থেকেই ওই বিএলও-র ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার আগে তিনি একটি সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছেন। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা, 'বিএলও-র কাজ তুলতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ আসবে। তা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।' তাঁর মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে ওই বিএলও লিখেছেন, 'আমার এই পরিণতির জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। আমি কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না। খুবই সাধারণ মানুষ। কিন্তু এই অমানুষিক কাজের চাপ আমি নিতে পারছি না।'
তাঁর পরিবারের অভিযোগ, রিঙ্কু তরফদার পেশায় পার্শ্বশিক্ষক হলেও অনলাইনে খুব একটা সড়গড় ছিলেন না। তারপরও তাঁকে বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিএলও-র কাজের চাপেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। শনিবার ভোরবেলায় ঘুম ভাঙার পর রিঙ্কুর স্বামী দেখতে পান স্ত্রী পাশে নেই। বাড়ির ভেতরে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে তিনি পাশের ঘরে রিঙ্কুর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় কোতোয়ালি থানায়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। অন্যদিকে, এই নিয়ে শোরগোল পড়তেই তৎপর হয় নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, নদিয়ার জেলাশাসকের সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করে কমিশন। ওই বিএলও-র মৃত্যুর কারণ নিয়ে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে বলেছেন রাজ্যের সিইও।
গুজরাটে ‘আত্মঘাতী’ শিক্ষক
তামিলনাড়ু, রাজস্থান কেরলের পর এবার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআরের কাজের চাপে গুজরাটে এক শিক্ষকের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে গির সোমনাথ জেলার কোডিনার এলাকায়। পেশায় শিক্ষক মৃত ওই বিএলও কর্মীর নাম অরবিন্দ মুলজি ভাধের। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে ৪০ বছরের ওই যুবক লিখেছেন, এসআইআরের কাজের প্রবল চাপ তিনি নিতে পারছেন না। যার জেরেই এই আত্মহত্যা। ৪০ বছর বয়সি অরবিন্দের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর ফুঁসে উঠেছেন রাজ্যের বিএলওরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে কোডিনারের এক প্রাথমিক স্কুলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই শিক্ষক। মৃত্যুর আগে স্ত্রীর উদ্দেশে একটি চিঠি লেখেন তিনি। যেখানে ছত্রে ছত্রে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মানসিক চাপের কথা। আর এই ঘটনা সামনে আসার পরই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এক্স পোস্টে তৃণমূল বলেছে, তামিলনাড়ু, রাজস্থান কেরলের পর এবার গুজরাট। এসআইআর-এর ভয়াবহ চাপের মুখে, মোদী-শাহের গুজরাটে একজন বিএলও আত্মহত্যা করেছেন। গুজরাটের বিএলও অরবিন্দ মুলজি ভাধের তাঁর সুইসাইড নোটে লিখেছেন, ‘আমার দ্বারা এসআইআরের কাজ করা আর সম্ভব নয়।' শুধু বাংলাতেই নয়, এমনকী অন্যান্য রাজ্যেও বিএলও-রা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, এবং দুর্ভাগ্যবশত কেউ কেউ কাজের চাপের কারণে তাঁরা প্রাণ হারাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই, বিএলও-দের চরম কাজের চাপ এবং পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। এই মৃত্যুর দায় কী নির্বাচন কমিশন নেবে?'
E-Paper

