দার্জিলিঙে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ অসাংবিধানিক, প্রত্যাহারের দাবিতে চিঠি মমতার
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর ফলে পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতাবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আশির দশকের সুবাস ঘিসিং আন্দোলন এবং ২০০৯ এর আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেই সময়ের পরিস্থিতি এখন নেই।
দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্সের গোর্খা জনজীবন ঘিরে নানা ইস্যুতে আলোচনা চালাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস পঙ্কজকুমার সিংহকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে। আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই ফের নতুন করে কেন্দ্র রাজ্য টানাপোড়েন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দ্বিতীয় বার চিঠি লিখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ‘অসাংবিধানিক, একতরফা এবং স্বেচ্ছাচারী’। পাশাপাশি তিনি আর্জি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত যেন অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়।

আরও পড়ুন: গাঁয়ের বধূর শাঁখের ডাকে যিনি আসেন, তিনি মা লক্ষ্মী মমতা: কুণাল
মমতার অভিযোগ, জিটিএ-র প্রশাসনিক অধিকার এবং পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের এখতিয়ার। অথচ কেন্দ্র গোর্খা ইস্যুতে আলোচনার নামে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনাই না করে। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মূল ভাবনাকে অমান্য করা হয়েছে, রাজ্যের ভূমিকা ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। গত মাসেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম চিঠি পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন চিঠিতে তিনি লিখেছেন, বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ১০ নভেম্বরের চিঠিতে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীর দফতর ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। এটা বিস্ময়কর এবং উদ্বেগজনক।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, কেন্দ্রের পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর ফলে পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতাবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আশির দশকের সুবাস ঘিসিং আন্দোলন এবং ২০০৯ এর আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেই সময়ের পরিস্থিতি এখন নেই। তাই পৃথক রাজ্যের দাবি বা জনঅসন্তোষ না থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্ত পাহাড়ে অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখ্য, ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, অতীতে দু’বার পাহাড়ে উত্তেজনার পরিবেশে কেন্দ্র মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছিল একবার কংগ্রেস আমলে সাংসদ ইন্দ্রজিৎ খুল্লার, পরে ইউপিএ আমলে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিজয় মোহন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের হঠাৎ এই হস্তক্ষেপ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন মমতা।
চিঠিতে ২০১১ সালের জিটিএ চুক্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড়ের গোর্খা পরিচয়ের মর্যাদা বজায় রেখে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভাষা, আর্থ সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই ছিল জিটিএ গঠনের উদ্দেশ্য। সেই অনুযায়ী পাহাড়ের শাসন পরিচালনা রাজ্য সরকারের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। মমতার দাবি, পাহাড় সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্যকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা উচিত হয়নি। তাঁর বক্তব্য, পাহাড়ের শান্তি বজায় রাখা কেন্দ্র রাজ্যের যৌথ দায়িত্ব। তাই গোর্খা বা জিটিএ সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা অপরিহার্য।












