Aroop Biswas on TMC Fund: তৃণমূলের তহবিল নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ অরূপের, শো-কজের জবাবে তুললেন আর্থিক অনিয়মের প্রশ্ন

অরূপ তাঁর জবাবে দাবি করেছেন যে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি একাধিক চেকে আগাম সই করেছিলেন। কিন্তু পরে সেই চেকগুলি কোথায়, কী উদ্দেশ্যে এবং কার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁকে কোনও তথ্য জানানো হয়নি। 

Published on: Jun 22, 2026, 11:48:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গেল দলের আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নে। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ রাখার জন্য ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার ঘটনায় শো-কজের মুখে পড়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সূত্রের খবর, সেই শো-কজের জবাবে তিন পাতার বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়ে দলের তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অরূপ তাঁর জবাবে দাবি করেছেন যে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি একাধিক চেকে আগাম সই করেছিলেন। (Saikat paul)
অরূপ তাঁর জবাবে দাবি করেছেন যে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি একাধিক চেকে আগাম সই করেছিলেন। (Saikat paul)

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অরূপ তাঁর জবাবে দাবি করেছেন যে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি একাধিক চেকে আগাম সই করেছিলেন। কিন্তু পরে সেই চেকগুলি কোথায়, কী উদ্দেশ্যে এবং কার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁকে কোনও তথ্য জানানো হয়নি। তাঁর অভিযোগ, কত টাকা তোলা হয়েছে, কারা তুলেছেন এবং কোন খাতে সেই অর্থ খরচ হয়েছে, তার কোনও হিসাব তাঁর কাছে নেই।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন দলের সাংগঠনিক রদবদলের সময় কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে অরূপ বিশ্বাসকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তীকে। কিন্তু তার এক সপ্তাহ পর, ১২ জুন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠান অরূপ। সেখানে তিনি নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেই উল্লেখ করে তৃণমূলের অন্দরে বিভাজনের কথা জানান এবং অ্যাকাউন্টের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আবেদন করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের ভিতরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। কালীঘাটের তরফে জানতে চাওয়া হয়, পদ থেকে অপসারণের পরেও কেন তিনি কোষাধ্যক্ষ পরিচয় ব্যবহার করে ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই কারণেই তাঁকে শো-কজ করা হয়েছিল। এদিকে, তৃণমূলের অপর একটি গোষ্ঠীও দলের তহবিল নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠদের তরফে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। সেখানে দলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে সেগুলি ‘ফ্রিজ’ করার দাবি জানানো হয়। পরে পুলিশও বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, তৃণমূলের তিনটি প্রধান ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। সেই বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে অস্বস্তি বেড়েছে দলের অন্দরে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় ভাঙন এবং নেতৃত্বের টানাপোড়েনের আবহে তহবিল সংক্রান্ত এই বিতর্ক তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল। এখন নজর রয়েছে, অরূপ বিশ্বাসের অভিযোগের জবাবে দল কী পদক্ষেপ করে এবং এই আর্থিক বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More