Asansol-Durgapur Metro Update: আসানসোল-দুর্গাপুরে আসছে এরিয়াল মেট্রো; নতুন সেতু, শিল্পপার্ক নিয়ে বড় পরিকল্পনা
রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আসানসোল ও দুর্গাপুরকে আধুনিক স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই দুই শহরকে মেগা সিটিতে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে শিল্প, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
রাজ্যের শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে দ্রুত এগোচ্ছে আসানসোল-দুর্গাপুর এরিয়াল মেট্রো প্রকল্প। বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা হওয়ার পর এবার তা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। মেট্রো প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির কাজ চূড়ান্ত করার পাশাপাশি নতুন সেতু, শিল্পপার্ক এবং বিমানবন্দরের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আসানসোল ও দুর্গাপুরকে আধুনিক স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই দুই শহরকে মেগা সিটিতে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে শিল্প, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে আসানসোল থেকে দুর্গাপুরে ট্রেনে যেতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে। সড়কপথে সময় লাগে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট। তাই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পশহরের মধ্যে আরও দ্রুত ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার এরিয়াল মেট্রো প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই প্রকল্প চালু হলে যাতায়াতের সময় যেমন কমবে, তেমনই প্রতিদিনের যাত্রীদেরও অনেক সুবিধা হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রচলিত ভূগর্ভস্থ মেট্রোর তুলনায় এরিয়াল মেট্রো নির্মাণে খরচ কম এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এটি তুলনামূলকভাবে সহজ। তাই প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞ সংস্থা **রাইটস (RITES)**-কে। সংস্থাটি বর্তমানে টেকনো-ইকোনমিক ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ করছে। এই সমীক্ষার ভিত্তিতেই পরবর্তী পর্যায়ে ডিপিআর তৈরি হবে।
শুধু মেট্রো নয়, বার্নপুরের সঙ্গে বাঁকুড়ার যোগাযোগ আরও সহজ করতে দামোদর নদের ওপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ প্রায় শেষের পথে। সমীক্ষা শেষ হলেই সেতু নির্মাণের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হবে।
অন্যদিকে, শিল্পায়নের গতি বাড়াতে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আড্ডা) নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। কালিপাহাড়ির গাড়ই নদী সংলগ্ন এলাকা এবং মঙ্গলপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে নতুন জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সেখানে আধুনিক শিল্পপার্ক গড়ে তুলে বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও অন্ডালের কাজি নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরকে এই অঞ্চলের প্রধান যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থাকে নতুন বিমান পরিষেবা চালুর পরামর্শ দিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো পরিষেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শিল্পপণ্য পরিবহণ আরও সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্ষা শেষ হওয়ার পর পশ্চিম বর্ধমান জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ও জীর্ণ রাস্তাগুলির সংস্কারের কাজও শুরু করবে আড্ডা। ফলে সড়ক, রেল, মেট্রো এবং বিমান— চার ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বয়ে গোটা আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের পরিকাঠামো আরও আধুনিক হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, এরিয়াল মেট্রো থেকে নতুন সেতু, শিল্পপার্ক ও বিমানবন্দরের উন্নয়ন— একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলবে বলেই মনে করছে রাজ্য সরকার।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


