Aushgram MLA Kalita Maji: পরিচারিকা থেকে রাজ্যের মন্ত্রী! শুভেন্দুর ‘স্পেশাল ৩৫’-এ জীবনযুদ্ধে জয়ী আউশগ্রামের কলিতা

Aushgram MLA Kalita Maji: শৈশব থেকেই জীবনের সংগ্রাম শুরু হয়েছে কলিতা মাঝির। বিয়ে হওয়ার পর ভেবেছিলেন হয়তো সুদিন ফিরবে। কিন্তু, আর্থিক কষ্ট আর তাঁর পিছু ছাড়েনি। শ্বশুরবাড়িতেও সর্বত্র অনটনের ছাপ। স্বামী কলের মিস্ত্রি। তাই সংসারের হাল ধরতে পরিচারিকার কাজ শুরু করেন।

Published on: Jun 1, 2026, 20:23:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Aushgram MLA Kalita Maji: সংসার চালাতে পরিচারিকার কাজ করতেন। নির্বাচনের সময়ে প্রার্থী তালিকায় যখন তাঁর নামটা ছিল, তখন থেকে বহু আলোচনা হয়েছে। গুশকরার সেই কলিতা মাঝি, ২৬-এর ভোট জিতে আউশগ্রামের বিধায়ক হয়েছিলেন। একদম নিম্নবিত্ত শ্রেণী থেকে উঠে আসা এই বিধায়ককেই এবার দেখা গেল রাজ্য মন্ত্রিসভায়। সোমবার লোক ভবনে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার বাকি ৩৫ জন সদস্য শপথ নেন। সেই তালিকায় ছিলেন আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাঝিও। রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন তিনি।

শুভেন্দুর ‘স্পেশাল ৩৫’-এ আউশগ্রামের কলিতা মাঝি (সৌজন্যে টুইটার)
শুভেন্দুর ‘স্পেশাল ৩৫’-এ আউশগ্রামের কলিতা মাঝি (সৌজন্যে টুইটার)

শৈশব থেকেই জীবনের সংগ্রাম শুরু হয়েছে কলিতা মাঝির। বিয়ে হওয়ার পর ভেবেছিলেন হয়তো সুদিন ফিরবে। কিন্তু, আর্থিক কষ্ট আর তাঁর পিছু ছাড়েনি। শ্বশুরবাড়িতেও সর্বত্র অনটনের ছাপ। স্বামী কলের মিস্ত্রি। তাই সংসারের হাল ধরতে পরিচারিকার কাজ শুরু করেন। এক পুত্র এবং স্বামী নিয়ে তাঁর সংসার। এ বছরই তাঁর পুত্র পার্থ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়। তবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা কলিতার অনেক দিনেরই। ভোরে উঠে বাড়ির কাজ সারতেন। তারপর বেরিয়ে পড়তেন অন্যের বাড়িতে কাজ করতে। সেখান থেকে ফিরে আসার পর খাওয়াদাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়তেন। পাড়ার কারও কোনও সমস্যা রয়েছে কিনা, তা জানতেন। যতটা সম্ভব পাশে দাঁড়াতেন। এভাবে চলতে চলতেই তিনি এলেন বিজেপির ছত্রছায়ায়। নিয়মিত অফিসে বসা শুরু করেন। লোকের কথাবার্তা শুনতেন। নেতাদের পরামর্শ নিতেন। যে সময়ে তিনি বিজেপি করা শুরু করেছিলেন, সে সময়ে বাংলায় বিজেপি তাঁর অস্বিত্ব রক্ষারই লড়াই চালাচ্ছে। ‘বিজেপি করি’ এটা বলার মতোও সাহস দেখাতেন না কেউ।

বছর সাতেক এভাবে রাজনীতি করার পরে ২০২১ সালে তাঁকে প্রথম বার বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করে বিজেপি। সেবার কলিতার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অভেদানন্দ থান্ডার। ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন কলিতা। তারপর তাঁর ওপর দিয়ে বহু ঝড় গিয়েছে। এবারও তাঁর উপর ভরসা রেখেছিল বিজেপি। আউশগ্রাম থেকে টিকিট দেওয়া হয় কলিতাকে। ২৬-র বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই ছিল কলিতার মূলচালিকা শক্তি। রাজনৈতিক লড়াইয়ে অর্থবল ও পেশিশক্তির মোকাবিলা করেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আউশগ্রামের মানুষের রায়ে জয় পান কলিতা। তাঁর কথায়, ‘আমি গরিব পরিবারের একজন বধূ। তাই গরিব মানুষের কষ্ট বুঝি। বিধায়ক হয়েছি, এখন মন্ত্রীও হয়েছি, কিন্তু আমি সাধারণ মানুষ হিসেবেই থাকতে চাই। আমি আতিশয্য চাই না। আউশগ্রামের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’

আজ যখন কলিতা মাঝি মন্ত্রিত্বের শপথ নিচ্ছিলেন, তখন আবেগে ভাসছিল আউশগ্রাম। পাত্র পরিবারে এক সময়ে পরিচারিকার কাজ করতেন কলিতা। সেই পরিবারের সদস্যেরা জানান, ২০১১ সাল থেকে তাঁদের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন কলিতা। প্লাটিলাল পাত্র বলেন, ‘আগে আমাকে কাকা বলত। পরে আমাদের মেয়ে মারা যাওয়ার পর আমাকে বাবা বলে ডাকত। ও শুধু মেয়েই নয়, আমাদের অভিভাবকের মতো। ও মন্ত্রী হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। মানুষের পাশে থেকে ভাল কাজ করুক, এটাই চাই।’ এই প্রথম আউশগ্রাম বিধানসভার কোন বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন।