Bangladeshi Osman Hadi Murder Case Update: বাংলাদেশি ওসমান হাদির ২ হত্যাকারীকে বনগাঁয় ধরল রাজ্য পুলিশ, দাবি রিপোর্টে

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফয়সল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেনকে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে নাকি অভিযান চালিয়ে এই গ্রেফতারি করা হয়েছে।

Published on: Mar 09, 2026 7:23 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সীমান্তবর্তী বনগাঁ থেকে ২ বাংলাদেশিকে নাকি গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশল টাস্ক ফোর্স। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফয়সল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেনকে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে নাকি অভিযান চালিয়ে এই গ্রেফতারি করা হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের ডিজিএফআইয়ের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। সেই সফরের সময়ই নাকি তিনি হাদি হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করে এসেছিলেন।

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফয়সল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেনকে ধরা হয়েছে। (REUTERS)
বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফয়সল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেনকে ধরা হয়েছে। (REUTERS)

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মেঘালয় হয়ে নাকি ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল ফয়সল করিম এবং আলমগির। এদিকে ইউনুস সরকারের বিদায়ের পরে ফের তারা বাংলাদেশে ফিরে যেতে চেয়েছিল। এই আবহে তারা নাকি বনগাঁয় ছিল। এই আবহে তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই আবহে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে দু'জনকেই। পুলিশ তাদের জেরা করবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের তরফ থেকে নাকি ফয়সল করিম এবং আলমগির হোসেনকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এর আগে তদন্ত করে ঢাকা পুলিশ জানিয়েছিল, হাদি হত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হলেন ঢাকার প্রাক্তন ওয়ার্ড কাউন্সিলর তথা যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। পুলিশ আনুষ্ঠানিক ভাবে এই হত্যাকাণ্ডে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট তৈরি করেছে। এর আগে ঢাকা পুলিশ দাবি করেছিল, বাংলাদেশে ওসমান হাদিকে হত্যা করে ভারতে পালিয়েছে খুনি ফয়সল করিম এবং তার বাইকচালক আলমগির হোসেন। এমনকী ফয়সল এবং আলমগিরকে সাহায্য করার অভিযোগে নাকি মেঘালয়ে ২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মেঘালয় পুলিশ এবং বিএসএফ এই সব দাবি উড়িয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় গত ১২ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয় সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে। এই ঘটনা সামনে আসার পরপরই বাংলাদেশ জুড়ে তাণ্ডব শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক এবং হাসিনা বিরোধীরা ঢাকা, রাজশাহী সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ঢাকার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের ধ্বংসস্তূপে ফের হামলা হয়। ধরানো হয় আগুন। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের অফিসে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে উন্মত্ত জনতা। এদিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র 'প্রথম আলো' এবং 'ডেইলি স্টার'-এর অফিসেও তাণ্ডব চালানো হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরই সঙ্গে ভারত বিরোধী স্লোগানও শোনা যায় - 'দিল্লি না ঢাকা', 'ভারতের আগ্রাসন, ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও'। হামলা হয় চট্টগ্রামে ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনেও হামলার চেষ্টা চালানো হয়। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। সেই বিক্ষোভের রেশই এখনও চলছে বাংলাদেশে। সেখান থেকেই ক্রমাগত ভারত বিরোধী স্লোগানও উঠছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে হাসিনার বিদায়ের পর একাধিক জনসভায় এই ওসমান হাদি বিভিন্ন জনসভায় স্লোগান তুলেছিলেন - 'দিল্লি না ঢাকা...'। বাংলাদেশের সেই ছাত্র নেতা গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই ভারতের বিকৃত একটি মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। একটি আলোচনা সভার সেই পোস্টে ভারতের থেকে পঞ্জাব, লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন দেখানো হয়েছিল। সেগুলিকে পাকিস্তানের এলাকা হিসেবে দেখানো হয় মানচিত্রে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের অধিকাংশ এলাকা, গোটা ঝাড়খণ্ড, উত্তরপূর্ব ভারত এবং মায়ানমারের আরাকান প্রদেশের উপকূলীয় এলাকাটিকে 'বৃহত্তর বাংলাদেশ'-এর অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এই আবহে হাদি খুনের নেপথ্যে ভারতের হাত আছে বলে অভিযোগ করতে শুরু করেছিল সেই দেশের নব্য বিপ্লবীরা। এমনকী হাদির খুনের পর তাঁর বোন অভিযোগ করেছিলেন, 'র' নাকি এই খুন করিয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More