BJP on Koyel: রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়া কোয়েল মল্লিকের পরবর্তী গন্তব্য কি বিজেপি? সুকান্তের মন্তব্যে জোর জল্পনা
বৃহস্পতিবার হাওড়ায় রথযাত্রার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সুকান্ত মজুমদার। কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'এর আগে তিনজন সাংসদ যেভাবে ইস্তফা দিয়ে আবার সাংসদ পদে ফিরে এসেছেন, উনিও সেইভাবেই ফিরে আসবেন।'
মাত্র দু’মাস দশ দিনের রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক? ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। আর ১৬ জুলাই সেই পদ থেকেই ইস্তফা দিলেন। রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ যেমন ছিল চমকপ্রদ, তেমনই পদত্যাগের পর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই ইস্তফা দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি বিজেপিতেই যোগ দিচ্ছেন কোয়েল? এই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

বৃহস্পতিবার হাওড়ায় রথযাত্রার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সুকান্ত মজুমদার। কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'এর আগে তিনজন সাংসদ যেভাবে ইস্তফা দিয়ে আবার সাংসদ পদে ফিরে এসেছেন, উনিও সেইভাবেই ফিরে আসবেন।' তাঁর এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, কোয়েলও হয়তো খুব শীঘ্রই বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় ফিরতে পারেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাজ্যসভার তিন প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। বিজেপি ইতিমধ্যেই তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থী করেছে। ফলে একই পথে কোয়েল মল্লিকও হাঁটতে পারেন কি না, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
কোয়েলের পদত্যাগের সময়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত জুন মাসে যখন পরপর তিন তৃণমূল সাংসদ ইস্তফা দেন, তখন কোয়েলের নামও সামনে এসেছিল। যদিও সে সময় তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। পরে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপরই তাঁর ইস্তফা গৃহীত হয়। একই দিনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রাজনৈতিক জল্পনাকে আরও উসকে দেয়।
এদিন সুকান্ত মজুমদার আরও বলেন, 'রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি ক্রমশ বাড়ছে। মানুষের স্বার্থে বিজেপির এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই আমরা এগিয়ে চলেছি।' তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই কোয়েলের সম্ভাব্য বিজেপি-যোগের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।
যদিও কোয়েল মল্লিক এখনও পর্যন্ত নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও হয়নি। তবে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা এবং সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য—এই তিনটি ঘটনাকে একসঙ্গে রেখে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, খুব শীঘ্রই কোয়েলের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে পারে।
রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে একের পর এক তৃণমূল নেতা ও সাংসদের দলবদল ইতিমধ্যেই বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই তালিকায় কোয়েল মল্লিকের নামও যুক্ত হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। বিজেপি অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু কোয়েল মল্লিকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


