BJP: 'প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা নয়!' হিংসা রোধে TMC নেতাদের বাড়িতে পোস্টার-বার্তা বিজেপির
BJP: বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি দেবাঞ্জল চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা এই তিন জনের বাড়িতে গিয়ে পোস্টার সাঁটান।
BJP: জেলায় জেলায় ভোট হিংসা রোধে প্রথম থেকেই কড়া বার্তা দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু, তা সত্ত্বেও বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক খুন হওয়ার পর সেই উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বার্তা দিতে বৃহস্পতিবার মধ্য হাওড়ার বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অরূপ রায়, সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে পোস্টার সাঁটিয়ে দিল বিজেপি। আর ওই পোস্টারের শিরোনাম ‘ভয় আউট, ভরসা ইন।’

সাংসদ, প্রাক্তন মন্ত্রী ও পুরসভার প্রাক্তন প্রশাসকের নাম করে পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘রাজ্য সভাপতির নির্দেশে জানাচ্ছি, উনি আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, কোনো শত্রু নন। তাঁর বাড়িতে কেউ হামলা করবেন না। তাঁকে বা তাঁর পরিবারের কারও উপর যদি কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে হামলা করেন, তাহলে দলগত এবং প্রশাসনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি দেবাঞ্জল চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা এই তিন জনের বাড়িতে গিয়ে পোস্টার সাঁটান। দেবাঞ্জলবাবু বলেন, ‘তৃণমূলের নেতারা নির্ভয়ে বাড়ি ফিরুন, বাড়ি থেকে বের হন। আমাদের দলে তৃণমূলের সংস্কৃতি নেই যে, বিরোধী হলেই হামলা চালাব। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সেই বার্তাই দিতে চাইছি। এরপরেও যদি আমাদের দলের কেউ হামলা চালায়, তাহলে দল ও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’ বিজেপির এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসীও। পাশাপাশি, রাজনৈতিক মহলে বিজেপির এই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে, এদিনই দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেন পুরসভার প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘যেভাবে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক খুন হয়েছেন, তাতে মনে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে নৈরাজ্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের গায়ে কালি পড়েছে। তাই আমি দলত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছি।’ এরপরই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সুজয়বাবুর দাবি, ‘আমি আগে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। যখন পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের দায়িত্ব পাই, তখন হাওড়া শহর জলে ভাসছিল। কিন্তু সরকারের তরফে কোনো সহযোগিতা পাইনি। পুরমন্ত্রীও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। অস্থায়ী কর্মীদের বেতন থেকে পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজ- সব ক্ষেত্রেই টাকার জন্য ভিক্ষা করতে হয়েছে।’ একই সঙ্গে দ্রুত হাওড়া পুরসভার নির্বাচন করারও দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক।
E-Paper

