RG Kar case: পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে অকুস্থল! আরজি কর কাণ্ডে সিট গঠনে ফের তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

RG Kar case: ২০২৪ সালের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুন করা হয়। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। এই নৃশংস ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত। তবে আরজি করের ঘটনার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার।

Updated on: May 21, 2026, 19:09:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

RG Kar case: আরজি করে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের মোড় ফের ঘোরার পথে। আরজি কর মামলার গুরুত্ব বিচার করে তিন সদস্যের বিশেষ দল গঠন করে পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। জানা গিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তিন সদস্যের এই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করতে হবে। এই নতুন সিট-এর নেতৃত্ব দেবেন সিবিআই-এর পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তা।

আরজি কর কাণ্ডে সিট গঠনের ফের তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের (HT_PRINT)
আরজি কর কাণ্ডে সিট গঠনের ফের তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের (HT_PRINT)

উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তকারী দলকে আবারও ঘটনাস্থলে যেতে হবে এবং নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সব তথ্য এবং নথি খতিয়ে দেখতে হবে। ঘটনার রাত থেকে শুরু করে তড়িঘড়ি শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত এখন নতুন করে তদন্তের আওতায় থাকবে। অপরাধের ধরন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ জুন, বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন সিবিআইকে তদন্তের রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। ওইদিন বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে রিপোর্ট দেবে সিবিআই।

আরজি কর হাসপাতালের পড়ুয়া-চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কেস ডায়েরি, অডিও-ভিডিও তথ্য, ফোটোগ্রাফ-সহ যাবতীয় প্রাসঙ্গিক নথি তলব করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে প্রাথমিক ভাবে সব পক্ষের বক্তব্য শুনে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী শুনানিতে সব নথি হাজির করতে হবে সিবিআইকে। হাজির থাকতে হবে তদন্তকারী অফিসারকেও। ঘটনাস্থল নিয়ে মঙ্গলবার প্রশ্নের মুখে পড়ে সিবিআই। আদালত প্রশ্ন তোলে, তদন্ত শেষ না-হওয়া সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে কী ভাবে লোকজন ঢুকে পড়ছে? সেমিনার রুম-সহ আরজি করের যে যে জায়গা ‘সিল’ করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতেও নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুন করা হয়। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। এই নৃশংস ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত। তবে আরজি করের ওই ঘটনার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। এই মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের তিনটি বেঞ্চ। ১২ মে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। তারপরে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ গত শনিবার জানিয়েছিল, নির্যাতিতার পরিবারের আরজি কর ঘটনাস্থল পরিদর্শন-সহ সমস্ত আবেদনের শুনানি হবে নতুন ডিভিশন বেঞ্চে। সেই মতো এখন মামলাটি রয়েছে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে।

এদিকে, তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের এই কড়া অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই নতুন আশার সঞ্চার করেছে নির্যাতিতার পরিবার ও চিকিৎসক মহলে। প্রকৃত দোষী চিহ্নিত হয়েছে কিনা, নাকি আড়ালে অন্য কোনও সত্য রয়েছে, তা এখন নতুন তদন্তের রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে। আগামী শুনানিতে সিবিআই কী তথ্য আদালতে পেশ করে, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী।