Calcutta High Court: ‘গ্রুপ রাইডিং’ নিষিদ্ধ হলেও ‘হাওয়া খেতে’ বাধা নেই! বাইক নিয়ে যাতায়াতে বড় রায় হাইকোর্টের

Calcutta High Court: প্রথম দফার ভোটের ঠিক দু’দিন আগে বাইক নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। এর আগে কখনও নির্বাচনে এভাবে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। নির্দেশিকায় বলা হয়, ভোটের ঠিক দু’দিন আগে থেকে কোনও বাইক র‌্যালি করা যাবে না।

Published on: Apr 27, 2026, 18:51:49 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Calcutta High Court: রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফা বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বাইক চলাচল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, ভোটের আগে এই নির্দিষ্ট সময়ে দল বেঁধে বা ‘গ্রুপ রাইডিং’ করে বাইক চালানো যাবে না। তবে সেই সঙ্গেই সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন বিচারপতিরা। কেউ যদি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা স্রেফ ‘হাওয়া খেতে’ একা বাইক নিয়ে বেরোতে চান, তবে তাতে কোনও বাধা থাকবে না। তবে ‘গ্রুপ রাইডিং’-এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। সিঙ্গল বেঞ্চ বাইক নিয়ে এর আগে যে রায় দিয়েছিল, তাতে ডিভিশন বেঞ্চ পুরোপুরি হস্তক্ষেপ করেনি।

বাইক নিয়ে যাতায়াতে বড় রায় হাইকোর্টের
বাইক নিয়ে যাতায়াতে বড় রায় হাইকোর্টের

কী ছিল নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ?

প্রথম দফার ভোটের ঠিক দু’দিন আগে বাইক নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। এর আগে কখনও নির্বাচনে এভাবে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। নির্দেশিকায় বলা হয়, ভোটের ঠিক দু’দিন আগে থেকে কোনও বাইক র‌্যালি করা যাবে না। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরনো যাবে না। শুধুমাত্র হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন, সন্তানকে স্কুল থেকে আনার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রয়োজন ছাড়া বাইকের পিছনের আসনেও কাউকে বসানো যাবে না বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করে কমিশন। এই নয় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়।

নির্দেশ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট

কমিশনের নির্দেশে ভোটের দু’দিন আগে থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ কমিশনের সেই নির্দেশে কিছু সংশোধন করে দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, বাইক র‌্যালি নিষিদ্ধ থাকবে। ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাত্রী নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। ভোটের দিন পরিবার নিয়ে বাইকে করে ভোট দিতে যাওয়া যাবে। একক বেঞ্চের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সোমবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় কমিশন।

ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ

এদিন বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে সেই সংক্রান্ত শুনানি হয়েছে। বিচারপতি শম্পা সরকার জানান, ভোটের আগে ৪৮ ঘণ্টা বাইকে ‘গ্রুপ রাইডিং’ নিষিদ্ধ থাকবে। দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না। তবে কারও ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। বিচারপতি সরকারের মন্তব্য, ‘কারও ব্যক্তিস্বাধীনতায় আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। কারও যদি ইচ্ছে হয় বাইকে করে মুক্ত বাতাস নিতে যাবেন, তাতে বাধা কোথায়? সেখানে আমরা বাধা দিতে পারি না।’ অর্থাৎ, সাধারণ নাগরিকের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাইক ব্যবহারের অধিকারে আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করতে চায় না। অন্য কোনও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কমিশন এমন কোনও পদক্ষেপ করেছে বলেও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। উচ্চ আদালত জানিয়েছে, নজির হিসাবে অন্য রাজ্যের উদাহরণ দেখালে তা বিবেচনা করা হত। তবে ‘গ্রুপ রাইডিং’ করা যাবে না।

তবে এর পাশাপাশি আদালত পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে বাইক চালানোর আড়ালে যদি কেউ কোনও বিশৃঙ্খলা, অশান্তি বা গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ নিজের ক্ষমতাবলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আদালতের আগের নির্দেশের অন্যান্য শর্তগুলি অপরিবর্তিত থাকছে। অর্থাৎ, দলবদ্ধভাবে বাইক র‍্যালি বা গ্রুপ রাইডিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও, কোনও ব্যক্তি প্রয়োজনে নিজের বাইক নিয়ে বেরোলে তাতে আইনগত কোনও বাধা রইল না।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোট হয়ে গিয়েছে। ২৯ এপ্রিল, বুধবার দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ রয়েছে। তার ৪৮ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ, সোমবার থেকেই আদালতের বাইক সংক্রান্ত নির্দেশ কার্যকর হবে। দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না। উল্লেখ্য, সোমবার রাজ্যে প্রচারের শেষ দিন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রচার করা যাবে। প্রচারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বাইক র‌্যালি-র মতো কর্মসূচি রাখছে। আদালতের নির্দেশের পর তা আর করা যাবে না। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বার্থেই একক বেঞ্চের নির্দেশে সম্পূর্ণ হস্তক্ষেপ করা গেল না।