Jahangir Khan: বড় ধাক্কা! জাহাঙ্গির খানের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার কলকাতা হাইকোর্টের, TMC-র ‘পুষ্পা’র ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে?

Jahangir Khan: ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচন জাহাঙ্গির খানের জন্য ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি আর ভোটে লড়বেন না, যদিও ব্যালটে তাঁর নাম ছিল। ভোটের ফলে দেখা যায়, তিনি মাত্র সাত হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছেন।

Published on: May 26, 2026, 22:01:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Jahangir Khan: বিপাকে ফলতার জাহাঙ্গির খান। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গির খানের সমস্ত রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার উচ্চ আদালতের এই নির্দেশের ফলে ডায়মন্ড হারবার ও ফলতা এলাকার এই দাপুটে নেতার গ্রেফতারির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালের একটি পুরোনো মামলা এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া রক্ষাকবচের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে কলকাতা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে।

জাহাঙ্গির খানের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার কলকাতা হাইকোর্টের (HT_PRINT)
জাহাঙ্গির খানের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার কলকাতা হাইকোর্টের (HT_PRINT)

এদিন মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে ওঠে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে তিনি রক্ষাকবচ নিয়েছিলেন।বুধবারই রক্ষাকবচের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই মঙ্গলবার আবার হাইকোর্টে ওঠে ওই মামলা। সকালে আইনজীবীরা কেউ না-থাকায় মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। অর্থাৎ, বুধবারের আগে যদি মামলায় রক্ষাকবচ শেষ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারিতে বাধা থাকবে না। সেটাই হল। এছাড়া ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে তিনি আরেকটি রক্ষাকবচ নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ওই মামলাটিও শুনানির জন্য ওঠে। রাজ্য পুলিশ রিপোর্ট জমা দেয়। তবে এদিন বিচারপতি পার্থসারথি সেনের পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিচারপতি স্পষ্টভাবে জানান, মামলাকারী নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি এফআইআর খারিজের আবেদন করেননি। পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্ট পর্যালোচনা করে আদালত জানিয়েছে, মামলাকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোয় এখন আর কোনও বাধা নেই।

আইনজীবী কিশোর দত্ত পালটা যুক্তি হিসেবে আরও কিছুটা সময় চেয়ে নিলেও আদালত তাতে সায় দেয়নি। জানা গিয়েছে, ফলতার এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে মোট সাতটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। আগাম গ্রেফতারি এড়াতেই তিনি বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। হাইকোর্টের এদিনের নির্দেশে সেই সব রক্ষাকবচ বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন জাহাঙ্গির খানকে আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচন জাহাঙ্গিরের জন্য ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি আর ভোটে লড়বেন না, যদিও ব্যালটে তাঁর নাম ছিল। ভোটের ফলে দেখা যায়, তিনি মাত্র সাত হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। অথচ এই বিধানসভাতেই গত লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেড় লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। এমনকি ভোটের দিন জাহাঙ্গির নিজে ভোট দিতেও যাননি বলে অভিযোগ। দলীয়ভাবেও এই ফলাফল তৃণমূলের কাছে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত এই নেতার রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের ফলে এখন পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।