১০০ দিনের কাজ দ্রুত শুরু নিয়ে নতুন জটিলতা, বাংলার কাছে ফের রিপোর্ট চাইল কেন্দ্র
২৫টিরও বেশি এটিআর জমা দেওয়া হয়েছে এবং পুনরুদ্ধার করে প্রায় ৬ কোটি টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে সবকিছুই ই-ট্রান্সফারের মাধ্যমে। তাঁর কথায়, রাজ্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দিতে কোনও অসুবিধা হবে না। তবে কেন্দ্রের নতুন চিঠির উত্তরের আগে আইনি পরামর্শ নেওয়ার কথাও ভাবছে রাজ্য সরকার।
কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বাংলার জবকার্ড হোল্ডারদের জন্য অবিলম্বে কর্মদিবস অনুমোদন করতে হবে, প্রকল্পে কাজও দিতে হবে। সেই রায় প্রকাশের পর এক সপ্তাহ কেটে গেলেও কেন্দ্রীয় সরকারের নড়াচড়া চোখে পড়ছে না। সুপ্রিম কোর্টেও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে না পারার পর এবার ১০০ দিনের কাজ বন্ধ রাখা নিয়ে কেন্দ্র নিল নতুন কৌশল। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যকে আবার নতুন করে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে। সময়সীমা এক মাস। যুক্তি, এতদিন ধরে রাজ্য যে পদক্ষেপ করেছে, তা সন্তোষজনক নয় বলে মনে করছে কেন্দ্র।
১০০ দিনের কাজ দ্রুত শুরু নিয়ে নতুন জটিলতা, বাংলার কাছে ফের রিপোর্ট চাইল কেন্দ্র
১১ নভেম্বর পাঠানো কেন্দ্রীয় চিঠিতে সাফ উল্লেখ রয়েছে যে, রাজ্যের সর্বশেষ এটিআর যা পাঠানো হয়েছিল ২০২৫ সালের ১১ জুলাই তাতে অনিয়ম প্রতিরোধ বা স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপযুক্ত প্রমাণ জমা পড়েনি। মোট ১৯টি জেলায় আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে রাজ্যের পদক্ষেপকে অপর্যাপ্ত বলেই মত গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের। আদালত কার্যত নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন কেন্দ্র ২৭ নম্বর ধারা তুলে মনরেগা প্রকল্প চালু করতে রাজি নয়, সেই প্রশ্নে ফের তৈরি হল অনিশ্চয়তা। প্রকল্প দ্রুত শুরু হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির বৈঠকেও ১০০ দিনের কাজ ছিল মূল আলোচ্য। বিশেষ সূত্রের খবর, কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ শক্তিসিং গোহিল বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব শৈলেশ কুমার সিং জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে কবে থেকে প্রকল্প ফের চালু করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট সময় জানাননি।
নবান্নের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কেন্দ্র বারবার নথি চাইছে এবং প্রকল্পে অর্থ ছাড় আটকে রাখছে। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, কেন্দ্রের অভিযোগের ভিত্তি নেই। তিনি জানান, অনিয়মের অভিযোগে বহু আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে, ২৫টিরও বেশি এটিআর জমা দেওয়া হয়েছে এবং পুনরুদ্ধার করে প্রায় ৬ কোটি টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে সবকিছুই ই-ট্রান্সফারের মাধ্যমে। তাঁর কথায়, রাজ্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দিতে কোনও অসুবিধা হবে না। তবে কেন্দ্রের নতুন চিঠির উত্তরের আগে আইনি পরামর্শ নেওয়ার কথাও ভাবছে রাজ্য সরকার।
News/Bengal/১০০ দিনের কাজ দ্রুত শুরু নিয়ে নতুন জটিলতা, বাংলার কাছে ফের রিপোর্ট চাইল কেন্দ্র