CM Suvendu Adhikari: 'ঘুরতে নয়, আমি আসব উন্নয়ন করতে!' পাহাড়ে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের রোডম্যাপ বোঝালেন মুখ্যমন্ত্রী

CM Suvendu Adhikari: মন্টেভিট গ্রাউন্ডের উপচে পড়া ভিড়কে ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, '২০০৯ সাল থেকে বারবার পাহাড়ে পদ্ম ফুটেছে। পাহাড়বাসী সব সময় বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছে। এবার সেই প্রত্যাশা পূরণের সময় এসেছে।'

Published on: Jun 16, 2026, 20:23:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

CM Suvendu Adhikari: উত্তরবঙ্গ বরাবরই দু’হাত ভরিয়ে দিয়েছে বিজেপিকে। এবার সেই ভালোবাসার ‘ঋণ’ শোধ করার পালা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বা বিজেপি নেতা হিসেবে এর আগে বহুবার পাহাড়ে পা রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবারই ছিল তাঁর প্রথম পাহাড় সফর। আর এই প্রথম সফরেই মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের মন্টেভিট গ্রাউন্ডের মেগা জনসভা থেকে পাহাড়বাসীর জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

পাহাড়ে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের রোডম্যাপ বোঝালেন মুখ্যমন্ত্রী (@SuvenduWB)
পাহাড়ে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের রোডম্যাপ বোঝালেন মুখ্যমন্ত্রী (@SuvenduWB)

‘আমি ঘুরতে আসিনি, কাজের জন্য আসব’

মঙ্গলবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে কার্শিয়াং পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মাসখানেক আগে শিলিগুড়িতে এলেও, ক্ষমতায় আসার পর পাহাড়ের মাটিতে এটিই তাঁর প্রথম জনসভা। মন্টেভিট গ্রাউন্ডের উপচে পড়া ভিড়কে ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, '২০০৯ সাল থেকে বারবার পাহাড়ে পদ্ম ফুটেছে। পাহাড়বাসী সব সময় বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছে। এবার সেই প্রত্যাশা পূরণের সময় এসেছে।' তিনি আরও বলেন, ‘পাহাড়ে উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করবে রাজ্য সরকার। নির্বাচনী ইস্তাহারে যা যা ছিল, তা পূরণ হবে।’ পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে পাহাড়কে সব সময়েই বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারীর তীক্ষ্ণ কটাক্ষ, 'আগের মুখ্যমন্ত্রী এখানে ঘুরতে আসতেন। আপনাদের ভাই শুভেন্দু পাহাড়ে ঘুরতে আসবে না। আমি আসব শুধু উন্নয়ন এবং কাজের জন্য।'

চা-শ্রমিকদের জন্য বড় পদক্ষেপ

পাহাড়ের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড চা-বাগানগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এদিন বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, আগের তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির কারণেই ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রীর চালু করা ‘পিএম চা-শ্রমিক যোজনা’ বাস্তবায়িত হয়নি। চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্ধ থাকা ২৫টি চা-বাগানের জন্য ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শুরু হচ্ছে। টি-বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, ‘পাহাড়ে সব বন্ধ চা-বাগান খুলবে।’

জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি

আগের সরকারের আমলে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এ ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, 'আগের সরকারের আমলে তোলাবাজি, কাটমানি ছাড়া আর কিছুই হয়নি। কিন্তু নতুন সরকার এই তোলাবাজি, কাটমানি বরদাস্ত করবে না। জিটিএ-তে দুর্নীতি হয়েছে। এই সরকারের আমলে হবে না।’ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, জিটিএ-তে যে দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্তের প্রয়োজন আছে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘যাঁরা চুরি করেছেন, তাঁদের জেলে ভরা হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। যাঁরা লুটেছেন, তাঁদের জেলের ভিতরে ঢোকানোর কাজ করবে আমাদের সরকার।’ পাশাপাশি, গোর্খাদের বিরুদ্ধে আগের সরকারের দেওয়া সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং পুলিশে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল

এদিন পাহাড়ে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা কীভাবে পৌঁছবে, তার একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী ইস্তাহার পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় ঘোষণা করেন। তিনি জনান, কালিম্পঙে নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, কার্শিয়াং মহকুমা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ ও সংস্কার। সরকারি স্কুলগুলিতে অত্যাধুনিক ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ তৈরি। কেন্দ্রের ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় ইন্ডোর স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস গ্রাউন্ড নির্মাণ। মুখ্যমন্ত্রী কার্শিয়ঙের জনসভা থেকে স্পষ্ট জানান, 'পাহাড়ে সব দলের তরফে সংবর্ধনা পেলাম। এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের আসল সুফল পাবেন পাহাড়ের মানুষ। কেন্দ্রের সমস্ত থমকে থাকা প্রকল্প এবার পাহাড়ে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হবে।'

এদিনের এই হাই-প্রোফাইল জনসভায় রাজনৈতিক ঐক্যের এক অনন্য ছবি ধরা পড়ে। উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ, সাংসদ রাজু বিস্তা, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবং পাহাড়ের অন্যান্য বিধায়করা। এছাড়াও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং, সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি এবং জিএনএলএফ সভাপতি মন ঘিসিং-এর উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল, পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সরকারের সঙ্গে এক মজবুত সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে।